ঠাকুরগাঁও হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারনার ফাঁদ

177
Spread the love

14মোঃ তোফায়েল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার : ঠাকুরগাঁও  হারবাল চিকিৎসার নামে চলছে অনিয়ম ও প্রতারনা। সরকারি নিয়মনীতি লংঘন করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এইসব হারবাল প্রতিষ্ঠান। হারবাল মানেই যেন এক ধরনের অশ্লীলতা।  অবাধে বিক্রি হচ্ছে হারবালের যৌন উত্তেজক বড়ি। বিজ্ঞাপনচিত্রে বাদ পড়েনি স্কুল-কলেজের দেয়াল। অশ্লীল পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহর। কে বা কারা কখন পোস্টারগুলো লাগাচ্ছে তা কেউ বলতে পারছে না।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ক্যান্সার, বাত-ব্যাথা, হ্যাপাটাইটিস, প্যারালাইসিস, ডাইবেটিস, টিউমার, হাঁপানি ইত্যাদি জটিল ও পুরাতন রোগের শতভাগ গ্যারান্টিসহ চিকিৎসা দেয়া হয়। শারীরিক অমতার চিকিৎসায় ২৪ ঘন্টায় ফলাফল, বিফলে মূল্য ফেরত। শতভাগ গ্যারান্টিতে মাত্র এক মাসের মধ্যে রুগ্ন-ভগ্ন স্বাস্থ্য সুস্থ্য সবল করা হবে- এভাবেই এসব রোগের চটকদার বিজ্ঞাপন চলছে। সাধারণ মানুষ এসব বিজ্ঞাপন দেখে সুচিকিৎসা পাওয়ার আশায় এসব চিকিৎসকের কাছে গিয়ে যেমন প্রতারিত হচ্ছে তেমনি নতুন নতুন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় হারবাল চিকিৎসার নামে এভাবে প্রতারণা চললেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন হারবাল প্রতিষ্ঠানের থেকে এক শ্রেণীর পত্রপত্রিকা ও স্থানীয় ডিশ চ্যানেলে অশালীন ভাষায় বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে রোগীর দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা চলছে। রোগীদের আকৃষ্ট করার জন্য রং বেরংয়ের লিপলেটও বিলি করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপন ও লিফলেট পড়ে শিার্থীরা অনেকেই বিব্রত হচ্ছেন। চিকিৎসার অন্তরালে রোগীদের সাথে প্রতারণা চলছে। এক শ্রেণীর মানুষ হারবাল চিকিৎসার নামে জমজমাট ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন। মূলত যৌন রোগ সারানোর নামে লাগামহীন বাণিজ্য চলছে।  দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী ওষুধের যেকোনো ধরণের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ থাকলেও হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো রাস্তার ধারে, অলিগলিতে, বাসে ইত্যাদি স্থানে এসব প্রতিষ্ঠানের অশ্লীল বিজ্ঞাপনের প্রচারণা চালাচ্ছে। স্থানীয় ক্যাবল, টিভি অপারেটরদের চ্যানেলের মাধ্যমে এসব বিজ্ঞাপন ড্রয়িং রুমে চলে যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে গজিয়ে ওঠা ইউনানী, হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে নিজস্ব ফর্মূলায় ঝোঁকের তেল, বড়ি ও নানারকম মালিশ ইত্যাদি বানিয়ে ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হারবাল ওষুধ নাম দিয়ে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে টার্গেট করে কথিত এ চিকিৎসা বাণিজ্য চলছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন এলাকায় দোকান ভাড়া নিয়ে বিশাল আকারের সাইনবোর্ড টানিয়ে ব্যবসা করে এলেও এখন তাতে আর সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পোস্টার লাগানোর প্রতিযোগিতায় মগ্ন। যেখানে-সেখানে বিভিন্ন পোস্টারে অনৈতিক ছবি ও ভাষা ব্যবহারের ফলে স্কুল-কলেজের শিশু-কিশোরদের মাঝে রীতিমত নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। পোস্টারের পাশ দিয়ে হাঁটতে গেলে বিব্রত বোধ করেন অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এতেও শেষ নয়, বিভিন্ন যানবাহন ও বাজারে চলাচলের পথচারীদের উপরে ছুরে দিচ্ছেন  তাদের নিয়োগকৃত লিফলেট বিতরণকারীর হাতে নাজেহাল হতে হয় প্রতিনিয়ত বিশেষ করে মানুষের যৌন শিক্ষা সচেতনতা কম থাকাকে পূঁজি করে এরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ওষুধ খাওয়ার পরই ১০০ ভাগ নিরাময়ের নিশ্চয়তা দিচ্ছে। আর এতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে রোগীরা।  ঠাকুরগাঁও জেলাতে  এধরনের অন্তত ২০টি হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হারবাল চিকিৎসার নামে এরা যৌন উত্তেজক মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। মূলত যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট গুড়ো করে হালুয়া বানিয়ে হারবাল ওষুধ হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছে। হারবাল প্রতিষ্ঠানের মালিক চিকিৎসকরা রোগীদের আকৃষ্ট করতে নিজেরাই ওষুধের নাম তৈরি করে। বাহারি আর ইসলামী কায়দার নাম দেখে রোগীরা আকৃষ্ট হয়। কিন্ত এতে  প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই। অভিযানও চলছে না এসব প্রতিষ্ঠানে। ফলে নির্বিগ্নে  চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ কর্মকান্ড। কোন প্রতিষ্ঠান ড্রাগ লাইসেন্সের আড়ালে ভেজাল ওষুধ তৈরি করে বিকরি করছে। আবার কারো ড্রাগ লাইসেন্স নেই। সূত্র জানিয়েছে, ঠাকুরগাঁও শহরের ৩তিন কিলোমিটার দুরে অব্স্থান কালিতলা বাজারে এশিয়া হারবাল, ” নামে মোঃ জালাল উদ্দিন জালাল”, গড়ে তুলেছে এশিয়া হারবাল  ঘর। এসব  এক আজগুবি প্রতিষ্ঠান।  দেখা গেছে,”কিছু প্রতিস্ঠান  শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সের উপর ভর করে প্রতিষ্ঠানটি চালছে। সম্পূর্ন হাওয়ার উপর চলছে এর কর্মকান্ড।  ড্রাগ লাইসেন্সের এর উপর ভর করে চলছে কোন রোগী গেলে তারা তাকে কথার ছলে মগজ ধলাই করে ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের টাকা। রোগের লক্ষণ বলতে হয়। ঐ রোগের লক্ষণ অনুযায়ী পরে ওষুধ তৈরি করে দেয়া হয়। এর জন্য অগ্রিম টাকা দিতে হয়।  আসলে এখানে রোগীরা প্রতারনা ছাড়া আর কিছু পায়না। মোটকথা এখানে সবই চলছে অবৈধ পন্থায়। বিশেষ করে এখানে সেক্সের জন্য ওষুধ দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। সেক্সের জন্য সেক্স কিং ৭শ’ ৯০ টাকা, বেগম রাহাত ৬৯০ টাকা, কস্তরী মালিশ ৫৫০ টাকা, মহিলাদের ব্রেস্ট শক্ত করার মালিস এসব প্রতিষ্ঠান পুরুষ ও মহিলাদের যৌন রোগসহ জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা দেয়ার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা টাকা। এখানে ট্যাবলেট জোর ৪৫০ টাকা, ট্যাবলেট টাস, ক্রিম টিলা বিক্রি করা হচ্ছে গ্যারান্টি দিয়ে। এছাড়া মুখের কালো দাগ, ব্রেস্ট ছোট বড়, চিকন ও মোটা স্বাস্থ্য করা, অনিদ্রা, কাশি , হাপানী, অ্যাজমা, পাইলস অজীর্ণ, পেট ফাঁপা, একজিমা, গ্যাস্টিক ও চুল উঠে যাওয়া রোগের চিকিৎসা দেয়ার প্রচার চালায়। অগ্রিম ডাকযোগে পাঠালে ওষুধ ভিপি ও পারসে্ল যেগে পাঠনো হয় বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। আসলে এখানকার ওষুধে স্থায়ীভাবে রোগ সেরেছে এমন নজির নেই। এসব  প্রতিষ্ঠান ১ ঘন্টার মধ্যে বিশেষ মিলনে, ৩০/৪০ মিনিটের  বেশি থাকা সম্ভব বলে প্রচার চালিয়ে রোগীদের ফাঁদে ফেলে নেয়া হচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা। হোমিও মেডিসিন সার্জারীর উপর বিশেষজ্ঞ দাবি করলেও সে অবৈধ এলোপথিক ওষুধ ব্যবহার করে রোগী চিকিৎসা দিয়ে থাকে। এতে সাময়িক রোগ নিরাময় হলেও পরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগী জানান, যৌন দুর্বলতার জন্য তিনি একটি হারবাল প্রতিষ্ঠান থেকে ওষুধ খান। ওষুধ খাওয়ার পরই যৌন উত্তেজনা হয়। কিন্ত পরবর্তীতে কোন কাজ হয়না। স্থায়ী কোন রোগ নিরাময় হয়না। মনে হয় ওষুধে ভায়াগ্রা ইডিগ্রা জাতীয় ওষুধ মেশানো থাকে। যাতে সাময়িক কাজ হয়। বিভিন্ন হারবাল ডাক্তার এর সাথে এসব বিষয়ে কথা বললে,এসব নাখজ করে তার বলেন, আমারা এধরনের ঔষধ কখনো বিক্রি করিনা  এসব বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম, সিবিলি সার্জন ডা: নজরুল ইসলাম সেখানকার কর্মরত কর্মচারীর সেচ্ছাচারিতার কারনে তার সাথে কথা বলা হয়নি


Spread the love