ঠেকানো যাচ্ছে না বগুড়ার যমুনা নদী ভাঙন

73
Spread the love

hbyবগুড়া প্রতিনিধি : বর্ষার শুরুতেই যমুনায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনরোধে বালুর বস্তা ফেললেও ঠেকানো যাচ্ছে না। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ কপালকে দুশছেন। বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীর চলতি মৌসুমে অব্যহত ভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কমপক্ষে শতাধিক পরিবার গৃহহীন ও কয়েক শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এরইমধ্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। নদী ভাঙনে দিশেহারা লোকজনেরা এখন তাদের ভাগ্যকে দুশছেন। প্রতিনিয়তই বসত ভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতশত হেক্টর আবাদী জমি বিলিন হচ্ছে যমুনর পেটে। সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের মথুরাপাড়া বাজারের দক্ষিণ পাশ থেকে শুরু করে উপজেলা শেষ সীমানা কামালপুর ইউনিয়নে দড়িপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কি. মি. এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে চলছে নদী ভাঙার। বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে ধলিরকান্দি, কর্ণিবাড়ী মরচা, বয়রাকান্দি, ঘুঘুমারি, শেখপাড়া, রৌহাদহ, ইছামারা ও দড়িপাড়া এলাকায়। এসব এলাকা থেকে প্রতিদিন ফসলি জমি, বসতভিটা নদী গ্রাস করছে। এছাড়াও নদী ভাঙনের কারণে নিজচন্দনবাইশা সরকাররি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওখিলা পিএন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দনবাইশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর চন্দনবাইশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আয়েশা ওসমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও ঘুঘুমারি দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রৌহাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন ঠেকানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বালি ভর্তি জিও বস্তা ফেলে যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ধলিরকান্দি থেকে শুরু করে রৌহাদহ-দড়িপাড়া পর্যন্ত ভাঙন ঠেকানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩ বছর মেয়াদী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এছাড়াও ৯টি প্যাকেজে প্রায় ১২৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এই ৯টি প্যাকেজের কাজ চলতি বছরেই শেষ হচ্ছে। এরইমধ্য চলতি বছর থেকে একই উদ্দেশ্যে ২৬৩ কোটি টাকা প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। আগামী ৩ বছরের মধ্য এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আশা করে বলেছেন, নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য এসব প্যাকেজ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হলে উল্লেখিত এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধ ৯৫ ভাগ থেকে শুরু করে একেবারে শূন্য পয়েন্টে আনা সম্ভব হবে। এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৩ বছরে সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা, কুতুবপুর, কামালপুর ও বোহাইল ইউনিয়ন এলাকায় যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙ্গনে কমপক্ষে ২/৩ কিলোমিটার এলাকা লোকালয়ের দিকে এগিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা এখনও নদী ভাঙনের অজানা আতঙ্কে ভুগছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মো. আবু সাঈদ জানান, যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন প্রতিরোধ একটি জটিল সমস্যা। তবে ৩ বছর মেয়াদী ২৬৩ কোটি টাকা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপজেলার ৫.৯ কি. মি. ভাঙন প্রবণ এলাকার নদীভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।


Spread the love