তবুও ভয় সৌরভের পরিবারে

64
Spread the love

432434স্টাপ রিপোর্টার : সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গ্রেফতারের সন্তুষ্ট হলেও তার সমর্থকদের ‘হুমকি’ এখনও পাচ্ছেন বলে অভিযোগ গুলিবিদ্ধ শাহাদত হোসেন সৌরভের পরিবারের। এমপির ক্যাডাররা ভয়ঙ্কর প্রকৃতির। ঘটনার পর থাকি তারা হুমকি দিয়া আসছে। ভয়ে স্ত্রী ও ছেলেকে হাসপাতালে নিয়া আসছি। এমপির গ্রেফতারের প্রতিশোধ নিতে তার ক্যাডাররা আমার পরিবারের ওপর কিছু করতে পারে-সেই আতঙ্কে ভুগতিছি,” বলেছেন সৌরভের বাবা সাজু মিয়া। আহত ছেলের পাশে স্ত্রীকে নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন পাশের জেলা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ গ্রামের এই ব্যক্তি। সেখানেই গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে একথা বলেন সাজু মিয়া। তার আগেই গাইবান্ধার আদালত লিটনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। গত ২ অক্টোবর ভোরে গোপালচরণ এলাকার কালাইয়ের ব্রিজের কাছে পায়ে গুলি করা হয় ৯ বছরের সৌরভকে। ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি থামিয়ে এমপি লিটন এই শিশুটিকে গুলি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সৌরভ তার বাবা-মা ও ভাই রংপুর মেডিকেলে রয়েছেন, যেখানে সার্বক্ষণিক সাদা পোশাকের পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা চলছে এই শিশুর। আত্মগোপন করে থাকার আওয়ামী লীগ নেতা লিটন আত্মসমর্পণ করতে উচ্চ আদালতের সময় পেলেও সর্বোচ্চ আদালতে তা আটকে যাওয়ার পর গত বুধবার রাতে ঢাকায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার আদালতে হাজির করা হলে লিটনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার মুক্তির দাবিতে সমর্থকরা আদালতের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশ লাঠিপেটা করে। লিটনকে গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায় সাজু মিয়া বলেন, ভীষণ খুশি হছি। হামার এলাকার মানুষ খুশি হইছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এমপি লিটনের উপযুক্ত শাস্তি চাই। তবে এখনও গাইবান্ধার বাড়িতে ফিরে যাওয়া নিরাপদ মনে করছে না সৌরভের পরিবার। সৌরভের বড় ভাই (সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র) বলেন, ঘটনার পর থেকে আমাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে স্কুল যাওয়া ছেড়ে হাসপাতালে আছি। সৌরভ এখনও হাঁটতে পারে না। তবে দ্রুত সেরে উঠে স্কুলে যেতে চায় সে। হাসপাতালের শিশু অর্থো সার্জারি বিভাগের প্রধান বাবলু কুমার সাহা বলেন, “সৌরভের ডান হাঁটুর নিচে দু’টি গুলি লেগে ক্ষত হয়েছে। সেটা এখন ভালোর দিকে। “তবে বাম হাঁটুর নিচে একটি গুলি ভেদ করে বেরিয়ে যায়। সেটা পুরোপুরি ভালো হতে সময় লাগবে। এরপর সে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারবে।”

Spread the love