তানোরে পুলিশের টাকা লুটপাটের ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ

54
Spread the love

নাজিম হাসান রাজশাহী থেকে : রাজশাহীর তানোরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে টাকা লুটপাটের ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় লুটপাটকারী এস.আই হাফিজুরের বিরুদ্ধে তানোর পৌর সদর ঠাকুরপুকুর গ্রামের হক সাহেবের স্ত্রী রওশন আরা বাদী হয়ে বুধবার দুপুরের দিকে রাজশাহী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি ডাক যোগে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটি সেল ও মানবধিকার কমিশন এবং দৈনিক প্রথম আলো রাজশাহী বুরো বরাবর দিয়েছেন। অভিযোগটি ঠাকুরপুকুর গ্রামবাসীর ৪১ জনের সাক্ষরিত দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দিবাগত রাতে সারা দেশের ন্যায় তানোরেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলে। পৌর সদর এলাকায় এস.আই হাফিজুরের নেতৃত্বে ঠাকুরপুকুর গ্রামে রওশন আরার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি চালানোর এক পর্যায়ে তার বাড়ির টিভি, শোকেজ, ডয়ার ভেঙ্গে ৯০ হাজার টাকা লুটপাট করেন এস.আই। রওশন আরার পরিবার এক সময় মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে তার বাড়িতে হানা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও টাকা ছিনিয়ে নেন। টাকা নেওয়ার পরে ফেরত চাইলে এস.আই হাফিজুর সাব জানিয়ে দেয় বেশি বাড়াবাড়ি করলে ইয়াবা, হেরোইন মামলায় দেয়া হবে। তখন রওশন আরার পরিবার এসপি অফিসে অভিযোগ দেয়ার কথা বললে এস.আই শান্ত হন। রওশন আরা জানান, আমার ছেলে বিপ্লব ওরফে ফকিরকে চলতি মাসের ১২ তারিখে মাদক সেবনের জন্যে নিজে পুলিশের হাতে তুলে দিই। যাহার মামলা নং-১৫/২০১৬। জিআর নং-১১৪/২০১৬। তিনি আরো জানান, টাকা নেওয়ার বিষয়ে এস.আই হাফিজুরকে বললে এস.আই বলেন, মাত্র ১২ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। অথচ পুরো ৯০ হাজার টাকা নিয়েছেন যেটা গ্রামবাসী অনেকেই দেখেছে। আমাদের বাড়িতে কোন মাদক দ্রব্য না পেয়ে তারা টাকাটা নিয়ে যায়। এমনকি টাকা ফেরত না দিতে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ডলি বেগম জানান, গত বছর আশা এনজিও থেকে আমি এবং মা ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে স্বামী জামাল পিকআপ কেনার জন্য দেয়া হয়। তিনি পিকআপ কেনার পর সম্প্রতি টাকাগুলো ফেরত দেন। ৯০ হাজার টাকা গচ্ছিত ভাবে বাক্সার ডয়ারে রাখা হয়। মাদক উদ্ধারের নামে এস.আই হাফিজুর পুরো টাকাটি লুটপাট করে নেয়। টাকাটি রাখা হয়েছিল রওশন আরার এইচ.এস.সি পাশ করা নাতনির বিবাহের জন্যে। এস.আই হাফিজুর ৯০ হাজার টাকার বিষয় অস্বীকার করে জানান, মাদক বিক্রয়ের সামান্য পরিমাণ টাকা আনা হয়েছে। যেটা সিজার লিস্টের মাধ্যমে জমা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির্জা আব্দুস সালাম জানান, মাদকের আলমত হিসেবে টাকাগুলো থানায় নিয়ে আশা হয়েছে এবং সরকারী কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Spread the love