তানোরে বিদ্যুস্পৃষ্টে নলকূপ মিস্ত্রীর মৃত্যু

59
Spread the love

নাজিম হাসান, রাজশাহী : রাতের কোন এক সময় বিদ্যুৎ শকে করুণ মৃত্যু বরণ করেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউপির পাড়িশো গ্রামের নলকূপ মিস্ত্রী হাকিম(৩৫)। রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়ির বিদ্যুতের সুঁইচ মেরামতের সময় বিদ্যুস্পৃষ্টে মৃত্যু বরণ করেন হাকিম। সেহ্রী রান্নার সময় তার স্ত্রী সহ পরিবারের লোকজন হাকিমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। হাজারো ডাক দিয়ে হাকিমের কোন অবস্থান পায় না পরিবারের লোকজন। প্রতিবেশীদের খবর দেয়া হলে এসে দেখে হাকিম না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে। হাকিমের এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার সহ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নির্বাক হয়ে পড়েছে স্ত্রী সহ ছেলে মেয়েরা ও পিতা-মাতা। জানা গেছে, হাকিম দীর্ঘদিন থেকে টিউবওয়েল মিস্ত্রীর কাজ করেন। এমনকি তার পিতা মমিনও মিস্ত্রীর কাজ করেন। এক কথায় পিতা পুত্র মিলে টিউবওয়েল মিস্ত্রীর কাজ করতেন। এ অবস্থায় রোববার দিবাগত রাতে বাড়ির বিদ্যুতের মূল লাইন বন্ধ না করে সুঁইচ মেরামত করছিলেন। এতেই হয় হাকিমের মৃত্যু। হাকিমের রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট ছেলে মেয়েরা হাও মাও করে বাবা বাবা বলে কাঁদছে। হাকিমের স্ত্রী জানান, কে জানে আমার হাতের সেহ্রীর রান্না আমার ভাগ্যে জুটবে না। কল্পনা করতে পারিনি আমার স্বামী আমাদেরকে রেখে এভাবে চলে যাবেন। দুই সন্তানকে কিভাবে মানুষ করব সেই চিন্তায় আমি কাতর। পরিবারের উপার্জনের ক্ষমতা বলতে স্বামীর টিউবওয়েল মিস্ত্রীর কাজ করা। টিউবওয়েল মিস্ত্রীর কাজ করে কোন রকমে চলতো সংসার। আল্লাহ্ তায়ালা আমার স্বামীকে না নিয়ে আমাকে যদি নিত তাহলে আমার সন্তানগুলো খেয়ে পরে বেঁচে থাকত। কিন্তু কিছুই করার নেই। বিধাতার লিখন নাজাই খন্ডন। গ্রামবাসী জানাই হাকিম যে অবস্থায় থাকুক কেউ নলকূপ মেরামতের কথা বলা মাত্রই ছুটে চলে যেতেন। গ্রামের কোন লোকের সাথে তার ছিল না দ্বন্দ্ব। তার ছেলে মেয়ে জানান, আর কয়েক দিন পরে ঈদ-উল-ফিতর। বাবাকে বলেছিলাম নতুন জামা কাপড় নেব। কিন্তু ঈদের আগেই বাবা আমাদেরকে রেখে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। কে আমাদের দেবে নতুন জামা কাপড়। এ ব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির্জা আব্দুস সালাম জানান, ঘটনাটি আমার জানা নেই। কেউ ব্যাপারে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখা যাবে অন্য কোন ঘটনা আছে কিনা।


Spread the love