তানোরে ভেস্তে গেছে আউশ চাষ শুরু হয়েছে রোপা আমন বীজতলা তৈরি

68
Spread the love

রাজশাহী থেকে নাজিম হাসান : জলবায়ুর মারাত্মক প্রভাবে সময় মতো দেখা মিলেনি কাঙ্খিত বৃষ্টির। এ জন্যে সরকারের প্রনোদনা পেলেও ভেস্তে গেছে আউশ চাষ। তাই বলে কি বসে থাকবে কৃষক। শুরু হয়েছে রোপা আমন বীজতলা তৈরি ও বপন। এতে যেমন একদিনের আউশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয় নি অন্যদিকে আগাম রোপা আমনে মহা ব্যস্ত রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষকরা। জানা গেছে, আষাঢ়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ চললেও তেমন ভাবে দেখা মিলেনি আকাশের বৃষ্টি। একেবারেই যে মিলেনি সেটা না। যতটুকু মিলেছি ততটুকুতেই কাজে লাগিয়েছেন কৃষকরা। বসে থাকলে তো চলবে না কৃষকদের। সরকার কৃষি জমি যাতে কোন ভাবে পড়ে না থাকে এ জন্যে উপজেলার প্রায় ৯০০ জন কৃষককে দেয়া আউশ প্রনোদনা। কিন্তু সেই প্রনোদনা তিল পরিমাণ কাজে লাগাতে পারে নি আউশ চাষের ক্ষেত্রে। কারণ হিসেবে কৃষকরা জানিয়েছেন, গত মৌসুমে বন্যার কবলে পড়ে রোপিত ধান ডুবে যায়। কিন্তু এবার মিলছে না আকাশের বৃষ্টি বা সেচের পানি। বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায় উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া, রাতৈল, হাড়দো, জুড়ানপুর, কালীগঞ্জ, সরনজাই, মাসিন্দা, তানোর, সিন্দুকাই, মোহর, আমশো, কাঁসারদিঘী, আড়াদিঘী, লালপুর, বিলশহর, নারায়নপুর, কালনা, কৈল। কলমা ইউপির আজিজপুর, কুজিশহর, দরগাডাঙ্গা, চোরখৈর, চন্দনকোঠা। কামারগাঁ ইউপির মাদারীপুর, শ্রীখন্ডা, বাতাসপুর, মালশিরা সহ বিভিন্ন কৃষি মাঠ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। প্রতিটি মাঠে আষাঢ়ের সামান্য বৃষ্টিতে বেরিয়েছে সবুজ খাস। বিশেষ করে চাঁন্দুড়িয়া থেকে তানোর পৌর এলাকা হয়ে কামারগাঁ পর্যন্ত বিলকুমারী বিলে ব্যাপক সবুজ খাস বেরিয়েছে। নদীর গর্ভে বিচরণ করছে গরু। বোরা উত্তোলনের পর আউশ চাষ করে থাকেন কৃষকরা। কিন্তু এবার আকাশের বৃষ্টির পানি দেখা না পাওয়ায় একেবারেই হয় নি আউশ চাষ। পুরো কৃষি মাঠগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে। কৃষকরা এ খরতাপেও আগাম রোপা আমন চাষের জন্যে শুরু করেছেন বীজতলা তৈরি ও বপন। অনেকের বীজ কয়েক ইঞ্চি হয়ে গেছে। আষাঢ়ের কাঙ্খিত বৃষ্টির দেখা মিললেই শুরু হবে রোপা আমন লাগানো। কৃষক মফিজ উদ্দীন জানান, আষাঢ়ের ১২ তারিখ পার হয়ে গেলেও বৃষ্টির দেখা মিলছে না। প্রচন্ড খরতাপে পুড়ছে তানোরের কৃষি মাঠ। অবস্থাটা এমন যেন মরু এলাকায় পরিণত হয়েছে তানোরের কৃষি মাঠ। কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, আউশ রোপনের সিদ্ধান্ত নিয়েও বৃষ্টির না পাওয়ায় রোপন করতে পারিনি আউশ। তবে নেপালি সর্ণা জাতের আগাম রোপা ধান রোপন করা হয়েছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, কামারগাঁ ইউপি এলাকায় ব্যাপক ভাবে হয় আউশ চাষ। কিন্তু পানির দেখা না পাওয়ায় হয় নি চাষ। কামারগাঁ ইউপির চেয়ারম্যান মুসলেম উদ্দীন প্রামানিক জানান, গত বোরো ও আউশ মৌসুমে ব্যাপক ভাবে ধরাশয়ী হয়েছিলেন কামারগাঁ অঞ্চলের কৃষকরা। চলতি বোরো মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা ভালো ভাবে ধান ঘরে উঠাতে পেরেছেন। কিন্তু সময় মতো বৃষ্টির পানি দেখা না পাওয়ায় কাঙ্খিত আউশ করতে পারেন নি। কৃষি অফিস সূত্রে জানান যায়, এবারে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৫০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু ৩২০০ হেক্টর জমিতে আউশ চাষ হয়েছে বলে কৃষি অফিস জানালেও এর বাস্তবতা মাঠ ধরে তেমন পাওয়া যায় নি। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, সময় মতো আকাশের বৃষ্টির পানির দেখা মিললে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতো। তবে কৃষকরা ব্যাপক হারে মাচানে সবজি চাষ শুরু করেছেন। আউশ চাষের পরিবর্তে সবজি চাষ কৃষকদের কাছে ব্যাপক লাভজনক হয়ে উঠেছে। সূত্রে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আউশ চাষের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেয়া আছে। কিন্তু এ উপজেলায় প্রায় ৯০০ জন কৃষককে প্রনোদনা দেয়া হলেও কোন আউশ চাষ হয় নি। অথচ উপজেলা কৃষি অফিস ৩২০০ হেক্টর জমিতে আউশ চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন। অথচ বিভিন্ন মাঠ ঘুরে তিল পরিমাণ আউশ চাষের জমি দেখা যায় নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ের কড়াকড়ির জন্যে উপজেলা কৃষি অফিস বাধ্য হয়ে এমন মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ে।


Spread the love