তানোরে শিশু শিক্ষার্থীদের হাতেও নিষিদ্ধ গাইড

65
Spread the love

রাজশাহী থেকে নাজিম হাসান : শিক্ষা ক্ষেত্রে আমল পরিবর্তন এনেছেন বর্তমান সরকার। বিশ্বের ইতিহাসে নজির বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে বই তুলে দেয়া হয় সকল শিক্ষার্থীদের হাতে। কিন্তু এ বিনামূল্যের বই শিক্ষার্থীদের পড়ার লেখার ক্ষেত্রে কতটুকু সহায়ক। বিনামূল্যের বইগুলো যেন শিক্ষার্থীদের ঘরেই পড়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের মূল ভরসা হয়ে পড়ে নিষিদ্ধ কোম্পানীর বিভিন্ন গাইড। স্কুলের ক্লাস থেকে শুরু করে প্রাইভেট কোচিং শিক্ষক শিক্ষার্থীদের গাইড ছাড়া চলেই না। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভরসাই গাইড। তাহলে এত টাকা খরচ করে বিনামূল্যের পাঠ্য বইয়ের থাকে না কোন মূল্য। শুধু মাত্র বছরের প্রথম দিনে সারা দেশের ন্যায় তানোর উপজেলাতেও চলে বই উৎসব। এতে করে কৃষি নির্ভর তানোর উপজেলার দরিদ্র মাঝারি পরিবারের সন্তানদের গাইড বই কিনতে পড়তে হচ্ছে মহা বিপাকে। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের চাপে নিতেই হচ্ছে গাইড। জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে সুস্পষ্ট উল্লেখ কোন শিক্ষার্থীর হাতে নিষিদ্ধ গাইড বই দেয়া যাবে না। এমনকি কোন শিক্ষক কোচিং পর্যন্ত করাতে পারবেন না। মন্ত্রণালয় শিক্ষক সংগঠনের কাছে মারাত্মক জিম্মি। প্রতিটি উপজেলায় গাইড কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা দাপটের সাথে শিক্ষক সমিতিকে মোটা অংকের ডোনেশন দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রকাশ্যে গাইড বই বিক্রি করছেন। না প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, গাইড এবং কোচিংয়ের ব্যাপারে একাধিকবার নির্দেশনা আসলেও এর কোন বাস্তব কার্যকারিতা নেই। কারণ হিসেবে তারা জানান, শিক্ষক সংগঠনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন সকলে। তা না হলে যেখানেই আইন হচ্ছে সেখান থেকেই প্রকাশ করা হচ্ছে গাইড বই। এমনকি প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন গাইড। এমনকি প্রকাশনীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এসব গাইড দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউপির ছাঐড় বালিকা বিদ্যালয়ের ৫ জন শিশু শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে এসেছে। তাদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র তাসমিন আল জানান, আমি হাতিনান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে লিখাপড়া করি। আমাকে প্রধান শিক্ষক জুপিটার প্রকাশনীর একের ভিতরে এগার নামের গাইড কিনতে বলেন। যার দাম ৩২০ টাকা। একই শ্রেণির ছাত্র মাহাফুজুর রহমান জানান, আমার বাবা কাজ করে কাজ এ জন্যে আরিয়ান প্রকাশনীর ১৫০ টাকা দিয়ে গাইড কিনেছি। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রাবেয়া জানান, ৪৩০ টাকা দিয়ে ফিউচার প্রকাশনীর গাইড কিনেছি। একই শ্রেণির ছাত্রী মায়া আক্তার সাথী জানান, নবপুথিঘর প্রকাশনীর ৩৮০ টাকা দিয়ে গাইড কিনি। একই শ্রেণির ছাত্র আক্তার জানান ফিউচার প্রকাশনীর ৪৩০ টাকা দিয়ে গাইড কেনা হয়েছে। এভাবেই প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকাশনীর সঙ্গে তানোর শিক্ষক সমিতি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা মোটা অংকের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গাইড কিনতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ। উপজেলার প্রায় স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, অফিস কক্ষে অহরহ বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড বই পড়তে দেখা যায় শিক্ষকদের। অবস্থাটা এমন শিক্ষকেরাও যেন গাইড বই না পড়ে ক্লাস নিতে পারেন না। এ জন্যে তাদের নির্দেশেই তানোর উপজেলায় প্রকাশ্যে চলছে রমরমা গাইড বাণিজ্য। এ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বদিউজ্জামান ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম জানান, কোন শিক্ষকের অধিকার নেই গাইড বই কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ দিতে। কোন অভিভাবক বা শিক্ষার্থী আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Spread the love