তাহিরপুরে ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসীর ব্যবসা জমজমাট দেখার কেউ নেই

76
Spread the love

771111 copyজাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠছে ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসী। ফলে হাজার হাজার টাকা রাজস্ব্য আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অবহেলা ও ড্রাগ সুপারের দুর্নীতির কারনে সুনামগঞ্জ জেলা সদর,তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,বিশ্বাম্ভরপুর,দিরাই,শাল্লা,ছাতক,দোয়ার বাজার সহ প্রতিটি উপজেলার হাট বাজার ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে উঠছে অশিক্ষিত,প্রশিক্ষন বিহীন ফার্মেসী আর তাদের ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে যেন দেখার কেউ নেই। তাহিরপুর উপজেলার দরিদ্র ও অসহায় প্রত্যন্ত এলারকার জনসাধারন অতিরিক্ত ভিজিটের ভয়ে,যোগাযোগ ব্যবস্থার খারাপ থাকায় সরকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার বা রেজিষ্ঠার্ড চিকিৎসকের দ্বারস্থ না হয়ে সরাসরি ফার্মেসীতে গিয়ে রোগের বর্ণনা দিয়ে ঔষধ নেয়। আর সেই সুযোগে ঔষধ ব্যবসায়ীরা অধিক মোনাফার লাভের আশায় স্বল্প মাত্রার ঔষধ না দিয়ে বেশী দামের উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়োটিক ঔষধ প্রদান করে। উপজেলার প্রতিটি বাজারেই রয়েছে ১০-২৫টি র্ফামেসী। একজন প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ফার্মাসিষ্ট দ্বারা একটি ফার্মেসী খোলা থেকে বন্ধ করার নিয়ম থাকলেও এখানে সেই নিয়মনীতির তোয়াক্ষা করছে না। ফলে অশিক্ষিত ও অর্ধ শিক্ষিত ব্যক্তিরাই ফার্মেসী পরিচালনা করছে এবং ডাঃ সাইন বোর্ড টানিয়ে ডাক্তারী ফলাচ্ছে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসীর। এই সব অবৈধ ঔষধ ব্যবসায়ীরা ড্রাগ সুপারকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বৈধ ফার্মেসীর মালিকগন অভিযোগ করেন। তথ্য নিয়ে জানা যায়- ঔষধ বিক্রয় ও প্রদর্শনকারী প্রতিষ্টানের মালিক কে অবশ্যই প্রশিক্ষন গ্রহন করতে হবে এবং ড্রাগ লাইসেন্স করার আগে ফার্মাসিষ্ট প্রশিক্ষন নিতে হবে। যদি কেউ ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিষ্ট প্রশিক্ষন ছাড়া ঔষধ বিক্রি করে তাহলে ১৯৪০ ও ১৯৪৫ সালের ড্রাগ লাইসেন্স আইনে অনুযায়ী তার বিরোদ্বে মামলা দায়েরের বিধান রয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা বাদাঘাট বাজার,আনোয়ারপুর বাজার,জয় বাংলা বাজার(বড়ছড়া বাজার),চানঁপুর বাজার,কাঊকান্দি বাজার,টেকেরঘাট বাজার,মানিগাঁ বাজার,চাঁরাগাঁও বাজার,নতুন বাজার,শ্রীপুর বাজার,কলাগাঁও বাজার,বাগলী বাজার,লাউড়ের গড় বাজার,সোলায়মানপুর বাজার,একতা বাজার,জনতা বাজার,বিন্নাকুলি,তাহিরপুর সদর বাজার সহও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মুদির দোকানের মালিকরা ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিষ্ট প্রশিক্ষন ছারাই হাজার হাজার টাকার নিন্ম মানের ভেজাল ও মেয়াদোর্ত্তীন ঔষধ বিক্রি করছে অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। সচেতন মহল মনে করেন-ড্রাগ সুপার গন যারা যাচাই বাচাই করার জন্য আসেন তারা সঠিক ভাবে কাজ না করেন অপকর্ম করছে তাদের বিরোদ্ধে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সহ আইন শৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বৈধ ফার্মেসীর মালিক গন বলেন- উপজেলার হাতে গোনা কিছু সংখ্যাক ফার্মেসী ছাড়া বেশীর ভাগ ফার্মেসীই কোন বৈধ কাগজ পত্র নাই। এসব অবৈধ ঔষধ ব্যবসায়ীদের দাপটের কারনে টিকে থাকাই দায় হয়ে পরেছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন-ফার্মেসী একটি গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্টান এখানে একজন দক্ষ ও প্রশিক্ষন প্রাপ্ত্য ব্যক্তির সার্বক্ষনিক থাকা ও ড্রাগ লাইসেন্স থাকা প্রয়োজন তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নেওয়া হবে। তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কারুজ্জামান কারুমল জানান- প্রতিটি বাজারে ফার্মেসী আছে জনসাধারনের উপকারের জন্য কিন্তু ফার্মেসীর ড্্রাগ লাইসেন্স আছে কি না ও মালিক এবং তাদের কর্মচারীদের ফার্মাসিষ্টের প্রশিক্ষন আছে কি না তা তদারকী করা প্রয়োজন।


Spread the love