তিস্তা যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র ৩ নদীতে ব্যাপক ভাঙন পানির চাপে স্লুইচগেটে ধস, ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন ভাঙ্গনের মুখে ১৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

67
Spread the love

5ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা, প্রতিনিধি : তিস্তা যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। পানির চাপে বৃহস্পতিবার রাতে সাঘাটার কানাইপাড়ায় ধসে গেছে স্লুইচগেট। এতে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। এছাড়া ভাঙনের মুখে পড়েছে ২টি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ১৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাঙন কবলিত মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃঞ্চ সরকার জানান, নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে গাইবান্ধার বেশ কিছু জায়গায় ভাঙন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ফুলছড়ি উপজেলার এ্যাড়েন্ডাবাড়ি, জিগাবাড়ি, ফজলুপুর, উড়িয়া, রতনপুর, বালাসীঘাট, কঞ্চিপাড়া, মাঝিপাড়া, সৈয়দপুর, ফুলছড়ি ঘাট, গণকবর।  এছাড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, তারাপুর, বেলকা, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, খোর্দ্দা। সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, কানাইপাড়া, গোবিন্দপুরসহ বিশাল জনপদ ভাঙনের মুখে পড়েছে। সাঘাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জানান, যারা ছিলেন গৃহস্ত তারা এখন বাধে আশ্রিত। পানি উন্নয়ন বোর্ড বর্ষা এলে নদীভাঙন রোধে নামমাত্র কাজ করে। ভরা নদীতে বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের লোক দেখানো চেষ্টা করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি কোটি টাকা খরচ করে কিন্তু কাজ হয় না একটুকুও বলে জানান এলাকার বয়োবৃদ্ধ আবুল হোসেন।
কানাইপাড়া নদী ভাঙনের শিকার স্কুলশিক্ষক আতাউর রহমান জানান, নদীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমরা দীর্ঘদিন বসবাস করছি। আমাদের জমি-জমা ঘর-বাড়ি সব গেছে নদীগর্ভে। এখন শুধু চাকরির পয়সায় সংসার চালাই আর নদীর দিকে তাকিয়ে হা-হুতাশ করি। নদীভাঙন প্রতিরোধে এলাকার মানুষ জোট হয়ে দাবি জানিয়েছিল গাইবান্ধায় এসে। বিক্ষুদ্ধ মানুষ গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস ভাঙচুর করে। তারপর তারা একটু কাজ করেছিল। কিন্তু ভাঙনের গতি এখন আরো বেশি হয়েছে। এসব রক্ষা করতে না পারলে অনেক মানুষ তাদের ভিটাছাড়া হবে। যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না এসব পরিবারের।
সাঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম শহীদ রঞ্জু জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কার কথায় চলে আমরা জানি না। বর্ষা এলে কাজ করে পানিতে টাকা ফেলে আর শুকনো মৌসুমে বসে থাকে। সাঘাটায় ভাঙনে একটি স্লুইচগেট ধসে গেছে পানির তোড়ে। নদীর তীর থেকে কয়েকদিনে অন্তত ২ হাজার পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। অনেকেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ঠাই নিয়েছে।


Spread the love