থমকে আছে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল

101
Spread the love

f4নিজস্ব প্রতিবেদক : থমকে আছে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল চালু ও মিল অভ্যন্তরে দু’টি বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ প্রকল্প। মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনাটি রয়েছে। মিলের ৫০ একর জমির ওপর দু’টি এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ হচ্ছে। ৪শ’ মেগাওয়াটের পৃথক দু’টি বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের জন্য জমি নির্ধারণের কাজ প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে। বিসিআইসি, পিডিবি এবং ঢাকা ল্যান্ড সার্ভের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেছেন। এখন জমির মূল্য নির্ধারণ ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া বাকী রয়েছে। বিসিআইসি’র মাধ্যমে নিউজপ্রিন্ট মিলের জমিতে পিডিবি নিয়ন্ত্রণাধীন নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেল কোম্পানি বিদ্যুৎ প্লান্ট করবে। পাশাপাশি মিলের অবশিষ্ট ৩৭ একর জমিতে দীর্ঘ ১৩ বছর পর নতুন ভাবে মিলটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৮শ’ কোটি টাকা। মিলটির সূত্র জানায়, চলতি মূলধন ও ফার্নেস অয়েলের দাম বৃদ্ধির কারণে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর মিলটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মিলটির দেখভাল করছে বাংলাদেশ ক্যামিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন। মিলের বন্ধ তিনটি পেপার মেশিনের পরবর্তী নতুন করে ১টি পেপার মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যার উৎপাদন ক্ষমতা হবে বছরে প্রায় ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। মিলটি পুুনরায় চালু করতে প্রয়োজন সাড়ে ৮৫০ কোটি টাকা। প্রতি বছর লাভ হবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। বিসিআইসি’র নিকট এমন সুপারিশ করেছেন মিল চালু করার জন্য নিয়োজিত তদন্ত কমিটি। মিলের মোট জমির পরিমাণ ৮৭ একর। যার মধ্যে ৫০ একর জমিতে পিডিবি দু’টি এলএনজি (লিকুয়েড ন্যাচারাল গ্যাস) প্লান্ট তৈরি করবে। প্রত্যেকটি প্লান্ট হবে ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন। এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মামুনুর রসুল বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সরকারের স্বদিচ্ছা রয়েছে মিলটি চালু করার জন্য। মিলের ৮৭ একর জমির মধ্যে ৫০ একর জমিতে বিদ্যুৎ প্লান্ট এবং অবশিষ্ট ৩৭ একর জমিতে পুনরায় মিলটির কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবনাটি শিল্প মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। তবে, কবে নাগাদ মিল চালুর কাজ শুরু হবে এখনও বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের জন্য পিডিবিকে ৫০ একর জমি দেওয়া হবে। বিসিআইসি’র মাধ্যমে এ জমি হস্তান্তরের হবে। একটি টিম ইতোমধ্যে মিলটি পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, মিলটি পুনরায় চালু হলে বেকারত্বের হার কমার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্লান্ট চালু হলে নতুন ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ হবে। উল্লেখ্য, খালিশপুর থানাধীন চরেরহাট মৌজায় ১৯৫৯ সালে ৮৭ একর জমির ওপর মিলটি স্থাপিত হয়। মিলের বাৎসরিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪৮ হাজার মেট্রিক টন। প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক মিলে কর্মরত ছিল।

Spread the love