দিনাজপুরের দিঘীপাড়া কয়লা খনি ১১ বৎসর পর আলোর মুখ দেখল

91
Spread the love

medium_95দিনাজপুর প্রতিনিধি : দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত দিঘী পাড়া কয়লা খনিটি অবশেষে ১ যুগ পর আলোর মুখ দেখল। চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে ৩ বৎসরের মধ্যে দিঘী পাড়ায় অব কাঠামো গড়ে উঠবে। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দিঘীপাড়া কয়লা খনিটি বাস্তবায়নে গত ২১/১০/২০১৫ ইং তারিখের বুরো অব মিনারেলস্ ডেভেলপমেন্ট বিএমডিএ ও বিসিএমসিএল এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। দিঘী পাড়া ভূ-গর্ভে ৫০০ মিলিয়ন টনের অধিক গন্ডোয়ানা সুপার কয়লা মজুদ রয়েছে। এখানে কয়লা পাওয়ার জন্য দিঘী পাড়া কয়লা খনি অনুসন্ধান করার জন্য পেট্রো বাংলাকে লাইসেন্স প্রদান করেন খনিজ মন্ত্রণালয়। উলে¬খ্য যে, বাংলাদেশ ভূ- তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চলে নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ও সালখুর ইউপি এবং হাকিমপুর উপজেলা বোয়ালদা ইউপিতে ভূ-গর্ভস্থ স্থানে জরিপ চালান। সেখানে অবস্থিত কয়লার ক্ষেত্রটি আবিষ্কার হয়। কয়লার ক্ষেত্রটি অক্ষাংশ ২৫০১০’ উত্তর হতে ২৫০২৫’ উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৮৯০০০’ পূর্ব হতে ৮৯০১০’ পূর্ব এর মধ্যস্থিত একাধিক আসম চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উত্তর- উত্তর পশ্চিম এবং দক্ষিণ- দক্ষিণ পূর্ব বরাবর (ঘগড- ঝঝই) ডিম্বাকৃতি আকৃতির একটি বেসিন। ভূ-পদার্থিক জরিপের ফলাফল ডিম্বাকৃত (৫টি খনন কৃত কূপ) বিদ্যমান ভূ-তাত্বিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে দিঘী পাড়া কয়লা বেসিনটি- ১০ কি.মি. মিটার ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট বেসিন এলাকা নিরুপর করা হয়। ভূ-তত্বিক জরিপ অধিদপ্তর তথ্য মতে ত্রিমাত্রিক সাইজমিক জরিপ এবং অধিক কূপ খননের মাধ্যমে শুধু মাত্র বেসিনটি প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব হয়েছে। সেক্ষেত্রে দিঘীপাড়ায় কয়লার বেসিনের পরিধি এবং মজুদ কয়লার পরিমান অনেক বেশী বেড়ে যায়। অধিক এর স্বল্প গভীরতায় কয়লা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ভূ-তাত্বিক অধিদপ্তরের ভূ-পদার্থিক শাখা এ অঞ্চলে জরিপ শেষে জরিপ অধিদপ্তর খনন শাখা ও অর্থনৈতিক ভূ-তত্ব শাখা- ১৯৯৫ সালে ১ম খনন করে ৩২৭.৯৬ মিটার গভীরতায় কয়লার সন্ধান পান। পরবর্তীতে ১১ বছরে ৪টি কুপ খনন করেন। ২০০১ সালে ১ম কূপ থেকে দক্ষিনপূর্ব দিকে ১ স্কয়ার বর্গমাইল দুরত্বে ৩৮৩.৫৪ মিটার কয়লার সন্ধান পান। এর পর ২০০৩ সালে একই ব্যবধানে পূর্বে ৩য় কূপ খনন করে ৩৫৫.০৯ মিটার গভীরতায় গিয়ে কয়লার বড় ধরনের স্তরের সন্ধান পান। ২০০৪ সালে ঐ ব্যবধানে খনির উত্তরে ৪র্থ কূপ খনন শেষে ৩২৩.০৮ মিটার গভীরতায় ভূগর্ভে আবারো কয়লার সন্ধান মেলে। ২০০৪ সালের মার্চ মাসে দিঘীপাড়া থেকে পূর্ব দক্ষিনে প্রায় ২ কিলোমিটার দুরত্বে ৫ম কূপ খনন শেষে এখানে ৩৮৮.০১ মিটার কয়লা পাওয়া যায়। দায়িত্বশীল সূত্র জানান ৫ম কূপ খননের ফলে কয়লা খনির ক্ষেত্র দাড়ায় প্রায় ১.৭৫ স্কায়ার মাইল এবং কয়লা মজুদ দাড়াবে প্রায় ১৫০মিলিয়নটন। শুধু মাত্র ৫টি (খনন কূপ মধ্যস্থিত সম্ভাব) অতিরিক্ত এই খনিতে মজুদ ধরা হয় ৫০০ মিলিয়ন মেট্রিকটনের অধিক। বেসিনটি বিভিন্ন উপাদানে সমৃদ্ধ। এই এলাকায় আবিস্কৃত কয়লা স্তরের সংখ্যা সর্বোচ্চ – ১০টি এবং সর্বনিন্ম ৪টি কয়লা স্তর সমুহের একীভূত মোট পুরুত্ব ১৪৪ ধেকে ১৬৭ প¬াস মিটার পুরুত্ব। পারমিয়ান গন্ডোয়ানা সুপার কয়লা – ৫০০ মিলিয়নটন নিরুপন করা হয়।  সর্বোচ্চ ৪৩৪.৪৯ মিটার এবং সর্বনিন্ম ৩২৩.০ মিটার গভীরতায় ৭২.৩৬ মিটার থেকে ৪৭.২৯ মিটার কয়লার স্তর রয়েছে। এই খনিতে অর্দ্রতা ৩.২%, উদ্বায়ী পদার্থ ৩৩%, ছাই ০৯%, স্থির কার্বন ৫৭%, সালফার ০৬৫% ভাগ। এই কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা (ই.ঞ.ট) ১২৯০০। কঠিন শিলাস্তরের গভীরতা সবোচ্চ ৫০২ মিটার এবং সর্বনিন্ম ৪৬৯ থেকে ৪৩৯ মিটার পর্যন্ত। দিঘীপাড়া কয়লা খনিতে কয়লা ব্যাতিত ভূগর্ভে প্রায় ২০০মেট্রিকটন সিলিকা বালু ও সাদামাটি রয়েছে। এই সিলিকা বালু ও সাদামাটি গ¬াস ফ্যাক্টরিতে এবং সাদামাটি সিরামিক কাজে ব্যবহারিত হবে। ২০০৭সালে প্রথম দিকে অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে খনিটি বাস্তবায়নে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। দিঘীপাড়ার কয়লা অতি উদ্বায়ী  উন্নত জাতের বিটুমিনাস কয়লা। এই কয়লা খনিটি বাস্তবায়নে দিনাজপুর দক্ষিণ অঞ্চল উন্নয়ন ফোরাম ও উত্তরবঙ্গ খনিজ সম্পদ রিপোর্টাস ফোরাম  আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর দিঘীপাড়া কয়লা খনিটি বাস্তবায়নে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এখন খনিটি আলোর মুখ দেখবে। খনিটি বাস্তবায়ন হলে জ্বালানী খাতের উন্নয়ন ঘটবে বিদুৎতের চাহিদা মিটবে এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে কৃষি ও শিল্পের বিপ¬ব ঘটবে।


Spread the love