দেশ স্বাধীনের ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও নবাবগঞ্জের চড়ারহাটের গণকবর অরক্ষিত

47
Spread the love

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে সাজেদুল ইসলাম (সাগর) : ১০ অক্টোবর দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রাণকৃষ্ণপুরে ১৯৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনী কর্তৃক নির্মম হত্যাযজ্ঞের ৪৬ বছর পুর্তি। ১৯৭১ সালে সারা দেশে যখন পাকহানাদার বাহিনী নির্বিচারে চালিয়ে যাচ্ছিল নিরীহ বাঙ্গালীদের উপর হত্যাযজ্ঞ। তখন বাদ পড়েনি নবাবগঞ্জের নিরীহ বাঙ্গালীরাও। ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর উপজেলার ৫নং পুটিমারা ইউনিয়নের প্রাণকৃষ্ণপুর(চড়ারহাট) এলাকার প্রায় শতাধীক বাঙ্গালী পুরুষকে ঐ এলাকার পাক বাহিনীর দোসরা সারিবদ্ধ করে গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালায়। ঐ এলাকার শহীদ পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী নিকট থেকে জানা যায় চড়ারহাট (প্রাণকৃষ্ণপুর) গ্রামের ২ জন মহিলাসহ ৬৭ জন ও পাশ্ববর্তী আন্দোলগ্রাম সরাইপাড়া গ্রামের ৩১ জন গ্রামের নিরীহ বাঙ্গালীকে পাক সেনারা গুলি করে হত্যা করে। চড়ারহাট প্রাণকৃঞ্চপুরে পুরুষদের একত্রিত করে গ্রামের পূর্বদিকের শেষ প্রান্তে একটি ব্রীজের নিকট নিয়ে গিয়ে ইতিাসের এই বর্বরতম হত্যা হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। পরে হানাদার বাহিনী আন্দোলগ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরুষদের খুঁজে বের করে গুলি করে হত্যা করে। পরে আশেপাশের গ্রামের লোকজন ও আত্মীয় স্বজন এসে সকল শহীদদের এক স্থানে সারিবদ্ধ ভাবে দাফন করে। ওই দিন পাক সেনাদের গুলিবর্ষণ থেকে চড়ারহাট গ্রামের আটজন ব্যক্তি সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। কিন্তু তারা বরণ করেন পঙ্গত্ব। তাদেরই একজন শহীদ মনছের আলীর পুত্র চড়ারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মোজাম্মেল হক (৬৩)। সেদিন তাঁর বাবা এবং ছোট ভাই মকবুল হোসেনও শহীদ হন। মোজাম্মেল হক বলেন, ঘটনার দিন ফজরের নামাজ শেষে মাটি কেটে ভাঙ্গা সেতু নির্মান করার লক্ষ্যে তাদেরকে ঐ সহ ঘটনার দিন নিহত শহীদদের ব্রীজের নিকট নিয়ে গিয়ে গ্রামের প্রায় সকল পুরুষ মানুষকে একত্রে করা হয়। এর পর পাক সেনারা নির্বিাচারে তাদের উপর গুলি করে। এতে তাঁর বাবা এবং ছোট ভাই শহীদ যান। তিনি বাম পা এবং ডান হাতে গুলি বিদ্ধ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। গ্রামের শহীদ আব্দুল গফুরের পুত্র আব্দুুর রাজ্জাক (৫৬) জানান, মসজিদে আশ্রয় নেয়া পুরুষেরা বেঁচে যান। কিন্তু পাক সেনারা বাড়ি বাড়ি তলাশী চালিয়ে আন্দোগ্রামের ৩১ জন পুুরুষকে হত্যা করে । শহীদ পরিবারের লোকজন ও নবাবগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের (সাবেক) কমান্ডার আঃ রহমান দুঃখ ভরা কণ্ঠে জানান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের বর্বরতম ঘটনা চড়ারহাটের গণহত্যা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও শহীদরা রাষ্ট্রিয় ভাবে পায়নি কোন মর্যাদা। দিবসটি এলে শহীদদের পরিবারের খোঁজ খবর নেওয়া হয় কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ রাখেনা। স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও শহীদের স্মৃতি ধারনের জন্য এখানে ছিলোনা কোন স্মৃতি স্তম্ভ। অযতœ আর অবহেলায় বব্ধভুমিটি পরিণত হয়েছিল গো-চারণ ভূমিতে। অবশেষে ৪০ বছর পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্মৃতি স্তম্ভের নির্মান কাজ শুরু হয়। এদিকে ওই সময় ৪০ জন বীড়ঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার সম্মানে ঘোষিত করার দাবীতে বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাসান আলী প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছিলেন। দেশ স্বাধীনের ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদের গণকবর আজও অরক্ষিত। এদিকে ৪০ জন বীরঙ্গনা আজও মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে ঘোষিত হননি। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বজলুর রশীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- বীড়ঙ্গনাদের বিষয়টি তদন্ত চলছে। শহীদের গণকবরগুলো আজও অরক্ষিত। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আঃ কুদ্দুস এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- গণকবরগুলো সংরক্ষনের জন্য বাউন্ডারী দেয়াল নির্মানের চিঠি আসলে আমি তদন্ত স্বাপেক্ষে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা গণকবরের তালিকা প্রেরণ করেছি। ৫নং পুটিমারা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সরোয়ার হোসেন জানান- বীড়ঙ্গনাদের মধ্যে অনেকেই হতদরিদ্র পরিবারের মানুষ রয়েছে এবং অনেকেই বার্ধক্যেও পৌছেছে। চড়ারহাট শহীদ স্মৃতি কলেজের প্রভাষক মোঃ এমদাদুল হক জানান- তার পিতা ডাঃ ইয়াহিয়া গুরুত্বর গুলির আঘাতে আহত হয়ে দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে থেকে মৃত্যুবরন করেছে। তাকেও ওই গণকবরের বদ্ধভূমিতে দাফন করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে জানান- যুদ্ধাহত তার পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় দাবী করেছিল চড়ারহাট কলেজটি যেন জাতীয় করণ করা হয়। এদিকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোঃ দবিরুল ইসলাম জানান- ১০ অক্টোবর দিনাজপুর জেলা সেক্টর কমান্ডার ফোরাম সহ যৌথ আয়োজনে শহীদদের স্মরনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।


Spread the love