নওগাঁর হারিয়ে যাচ্ছে দেশী খেজুর

151
Spread the love

image_2073_261954নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর পোরশা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশী খেজুর। এক সময় পোরশা উপজেলায় ব্যাপক খেজুর গাছ দেখা গেলেও বর্তমানে আর তেমন দেখা যায় না এ ফলের গাছটি। বাজারে আম জাম লিচুসহ বিভিন্ন ধরনের রসালো ফলে ভর্তি থাকলেও দেখা মেলে না দেশী খেজুর। এই খেজুরের খুব বেশি কদর না থাকলেও এ ফল নানা রকম পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। পুষ্টিবিদদের মতে, দেশী খেজুরের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ফলিক এসিড, আমিষ ও শর্করা। এছাড়া খেজুরটি খেতেও অনেক সুস্বাদু। এক সময় পথে-প্রান্তরে ছিল সারি সারি খেজুর গাছ। ঐ মৌসুমে যেদিকে চোখ যেত দেখা যেত গাছে ঝুলে থাকা খেজুরের থোকা। জ্যৈষ্ঠের শেষ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত গাছ থেকে খেজুরের ছড়ি সংগ্রহের উৎসবে মেতে উঠত গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা। বর্তমানে দিনদিন গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশী খেজুর। খেজুর গাছে শীতের প্রথম ভাগে ফল ধরে। পরে ফুল থেকে পরিপক্ব হতে সময় লাগে প্রায় চার মাস। আষাঢ়ের প্রথম ভাগে পাকতে শুরু করে। সবুজ রঙ থেকে গাঢ় হলদে হলে পরিপক্ব হয়। এ খেজুরে প্রচুর পরিমাণ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর উপাদান রয়েছে। খেজুর হার্টের রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। খেজুর রক্ত উৎপাদনে সহায়তা করে।
এছাড়াও ফলটি হজমবর্ধক এবং পাকস্থলি ও যকৃতের শক্তি বাড়ায়। খেজুরের বীজ রোগ নিরাময়, খেজুর ফুলের পরাগরেণু পুরুষের বন্ধ্যাত্ব দূর করে শুক্রাণু বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আবহাওয়া ও জলবায়ুগত কারণে দিনদিন খেজুর গাছ মরে যাচ্ছে। যে কারণে আর পূর্বের মতো এ গাছ দেখা যায় না। এছাড়া ইটভাটায় খেজুর গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বৃদ্ধির কারণেও কমতে শুরু করেছে উপকারী এ গাছটি।


Spread the love