নষ্ট হচ্ছে এক্সরে মেশিন,নৌ এম্বোল্যান্স গচ্ছা যাচ্ছে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা লাইফ সার্পোটে তাহিরপুর হাসপাতাল

126
Spread the love

jজাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের অবহেলিত জনপদ তাহিরপুরে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অসহায় জনসাধারন। চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের জন্য দুই বছর গ্রামে থাকার নির্দেশ দিয়ে গত বছরের ৭ আগষ্ট সরকার সারা দেশে ৮০জন চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে চিকিৎসা সেবার উন্নয়নের জন্য। কিন্তু তাহিরপুর বাসীর চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন হয় নি। যার ফলে ৩লক্ষাধিক জনসাধারন চরম অসহায় হয়ে পরেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্দীঘ দিন ধরেই ডাক্তার,নার্স সহ বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা,কর্মচারীর পদ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ শূন্যতা বিরাজ করছে। আর জনবল সংকটের কারনে হাসপাতালটি যেন নিজেই রোগী হয়ে লাইফ সার্পোটে আছে। অন্য দিকে,উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে ১২ বছর যাবৎ এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়াই চলছে। ফার্মাসিষ্ট এই কোন রখমে জোরাতালি দিয়েই চলাছে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলো। যার ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে স্থানীয় জনসাধারন। ফলে প্রাপ্য চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাওর বেষ্টিত তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২৫১টি গ্রামের সাড়ে ৩ লক্ষাধিক গরীব অসহায় জনগন। র্কমকর্তা,কর্মচারী,ডাক্তার,নার্স যোগদানের পর থেকেই অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ার জন্য তদবির শুরু করে আর বদলীও হয়ে যার। এই কারনে শূন্য তা পিছু ছাড়ে না হাসপাতালটির। হাসপাতালের ৩টি জেনারেটার ১০বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে পরে আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীরা গরমে ছটফট করে। হাসপাতালের জন্য একটি নৌ এ্যাম্বোল্যান্স থাকলেও চালক না থাকায় কোন কাজে আসছে না। দেওয়ার পর থেকে একদিনের জন্যও ব্যবহার করা হয় নি নষ্ট হচ্ছে নদী ও পুকুরে পড়ে থেকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল,ল্যাব টেকনোলজিষ্ট,রেডিওগ্রাফার পদ গুলো শুরু থেকেই শূন্য রয়েছে। ফলে কোন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা সম্ভব হচেছ না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য যেতে হচ্ছে বাহিরে। এক্সরে মেশিন থাকলেও কোন কাজেই আসেনি ঘরে ভিতরে থেকেই নষ্ট হচ্ছে। গচ্ছা যাচ্ছে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ। ওয়াডে নার্স ও বাদ্রার শুন্যতার কারনে ভর্তি রোগীরা সমস্যায় থাকে সর্বক্ষন। তবে ওয়ার্ডে ও জরুরী বিভাগে নাইট র্গাড রামচরন ও এমএলএসএস শফিকুল ইসলাম জরুরী বিভাগে মেডিকেল এসিস্ট্যান্ড মহি উদ্দিন বিপ্লব সহ যারা দ্বায়িতে থাকেন সার্বক্ষনেই তাদেরকে সহযোগীতা এবং হাপাতালে আসা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকে সব সময়। শ্রীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের জন্য ২ বছর আগে নতুন ভবন নির্মান করা হলেও এই এলাকার অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন হয় নি। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে ১জন এমবিবিএস ডাক্তার সহ ৪টি পদের মধ্যে একজন ফার্মাসিষ্ট ছাড়া বাকি ৩টি পদ শুরু থেকেই শূন্য রয়েছে। ফার্মাসিষ্ট কোন রখমে জোড়া তালি দিয়ে চালাচ্ছেন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। এদিকে বাদাঘাট এফ,ডাবলিউ,সি কেন্দ্রটিতেও চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না অভিযোগ রয়েছে বাদাঘাট ইউনিয়ন বাসীর। নাইট র্গাড রামরচন ও এমএরএসএস শফিকুল ইসলাম জানান-কি করব ভাই হাসপাতালে প্রতিটি পদেই শ্যূনতা বিরাজ করছে সকাল থেকে সারা দিনেই অফিসের কাজ ও হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবাই থাকতে হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল এসিষ্টেন্ড মহি উদ্দিন বিপ্লব জানান-জনবল সংকট থাকলেও আমরা আমাদের সাদ্ধমত হাসপাতালে আসা রোগীদের সর্বক্ষনিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পঃ পঃ কর্মকর্তা আবুল হাসেম আনসারী জানান-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্য পদ গুলোর বিষয়ে উর্ধবতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে কিন্তু কোন কাজেই হচ্ছে না। এখানে রোগীদের দেওয়া খাবার মান খুবেই খারাপ। বার বার বলেও কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। শুন্য পদ গুলো পূরনের জন্য কার্যকর প্রদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-তাহিরপুর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার উন্নতির জন্য চিকিৎসক,নার্স সহ প্রতিটি পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি দেওয়া উচিত।


Spread the love