নাটোরের সিংড়া পৌর নির্বাচন ২০১৫ বিলবোর্ড,পোষ্টারে ছেয়ে গেছে পৌর এলাকা

66
Spread the love

415 copyমোল্লা মোঃ এমরান আলী রানা, সিংড়া (নাটোর) : নির্বাচন কমিশনের ঘোষণামত পৌর নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, পৌর এলাকায় ততই বাড়ছে প্রার্থীদের পদচারণা আর গণসংযোগ। পৌর এলাকা ছেয়ে যাচ্ছে পোষ্টার-বিলবোর্ডে। অপরদিকে রাজনৈতিক দলের প্রতীকে মেয়র নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ায় বিভিন্ন প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন সংশ্লিষ্ট দলের স্থানীয় ও জেলার নেতাদের সাথে। তারা নেতাদের কাছে তুলে ধরছেন রাজনীতিতে তাদের দীর্ঘদিনের অবদান,জনসমর্থন। আর অধিকতর যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি সমর্থনও নিচ্ছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দের। শোনা যাচ্ছে, আগামী পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একজন, বিএনপির ৪জন ও জামায়াতের একজনসহ মোট ৬জন প্রার্থীর নাম। এদিকে গত ২১শে নভেম্বর সিংড়া উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মেয়র নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসকে সমর্থন দেয়া হয়। তিনি সিংড়া উপজেলা শিল্প ও বণিক সমিতিরও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  এক প্রশ্নের জবাবে জান্নাতুল ফেরদৌস এ প্রতিনিধিকে বলেন, একক প্রার্থী হওয়ায় তিনি নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন এবং বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সিংড়া পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন।
সরেজমিনে সিংড়া পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় বাস টার্মিনাল সহ পৌর এলাকার সর্বত্রই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে বিলবোর্ড এবং পোস্টার। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তরুন সমাজে সেবক জান্নাতুল ফেরদৌস আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা গেছে। অপর দিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভেতরে এখনো নির্বাচনী আমেজ দেখা যাচ্ছে না। তবে জামায়াত প্রার্থী প্রচার প্রচারনায় অনেকটা সক্রিয় রয়েছে। অপর দিকে বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন চাইবেন, বর্তমান মেয়র মু.শামিম আল রাজি মো: শিহানুর রহমান,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দাউদার মাহমুদ, বিএনপি নেতা এম এ মালেক রানা ও কাউন্সিলর মীর মো: শফিকুল ইসলাম জুইস। মু. শামিম আল রাজি পৌর বিএনপির সভাপতি ও বাংলাদেশ পৌর এ্যাসোসিয়েসনের (ম্যাব) মহাসচিব। তিনি দীর্ঘ ১৫বছর যাবত পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবারও তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। মনোনয়ন বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দাউদার মাহমুদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিএনপির দুর্দিনে অন্যান্য নেতারা যখন নিজেদের বাঁচাতে আত্মগোপনে ছিলেন তখন তিনি ২০ দলীয় জোটের উপজেলা শাখার সদস্য সচিব হিসেবে তিনি দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। মামলা হামলায় জর্জরিত বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জামিনসহ সকল প্রকার সহযোগিতায় তিনি ছিলেন অগ্রগন্য। এ হিসেবে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিএনপি নেতা এম এ মালেক রানা জানান, গত পৌর নির্বাচনেও তিনি মেয়র প্রার্থী ছিলেন। জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু তাকে জানিয়েছিলেন তিনি যদি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন তবে পরের বার (এবার) তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে।  এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবী করেন, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে তার সখ্যতা রয়েছে। এরপরেও যদি দলীয় মনোনয়ন না পান তবে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন, জেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য জয়নাল আবেদীন। তিনি পৌর শহরের নিংগইন জোড়মল্লিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) এর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।


Spread the love