নিরাপদ সড়ক দিবসে ঝরে গেল ১৩ প্রাণ

60
Spread the love

sorok-durgotona_63666বিশেষ প্রতিনিধি : নিরাপদ সড়ক দিবসে সড়কেই ঝরে গেল ১৩টি তরতাজা প্রাণ। ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও সাভার, রাজশাহী, দিনাজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সড়কে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। আহত হয়েছে ১৩ জন। গত বুধবার দিবাগত রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ওই সব দুর্ঘটনা ঘটে। অপরদিকে সেমিনার, সভা-সমাবেশ ও মিছিলসহ নানা মহলের তৎপরতার মুখেও সড়কে মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিনই থাকছে নিহতের নাম। অদক্ষ চালক ও জনসচেতনতার অভাবে ঘটছে এসব দুর্ঘটনা। তবে দুর্ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও নেয়া হয় না আইনি পদক্ষপে। ক্ষতিপূরণও পায় না নিহতের পরিবার। নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃহস্পতিবার সারাদেশে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হলেও দুর্ঘটনা কমেনি। সাভার : ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সোনারতরী পরিবহনের একটি বাস গতকাল বেলা ১টার দিকে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় বেপরোয়া গতিতে অন্য একটি বাসকে অতিক্রম করতে গেলে সামনে থাকা একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়। এরপর বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানগাড়িসহ এক পথচারীকে চাপা দিয়ে সড়কের পাশে ময়লার স্তূপের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলেই ওই পথচারী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে পাঁচজন। নিহত পথচারীর নাম মোতালেব। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান। অন্যদিকে সাভার মডেল থানার পেছনে ট্রাকচাপায় এক যুবক নিহত হন। তাঁর নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামরুজ্জামান দুটি ঘটনার বিষয় নিশ্চিত করেছেন। কেরানীগঞ্জ : দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন মোল্লার ব্রিজে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাসের ধাক্কায় ভ্যানের চার যাত্রী আহত হন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেকে নিহত শামসুল হকের (৬৫) বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায়। মিটফোর্ডে নিহত মোঃ দুলাল মিয়া (৪৫) ও মোঃ মোজাম্মেল হকের (৬০) বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার চামী গ্রামে এবং মোঃ রহিমের বাড়ি (৪০) উপজেলার গগন গ্রামে। তাঁরা কাঠ চেরাইয়ের শ্রমিক। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল আলম দুঘর্টনা ও মৃত্যুর বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাজশাহী : জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জের একটি পেট্রলপাম্প থেকে তেল নিয়ে একটি নসিমন মহাসড়কে উঠছিল। এ সময় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী কেয়া পরিবহনের একটি বাস এটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নসিমনের দু’যাত্রীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনুপনগরের মেসের আলীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৪০) ও আবদুর রহমানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫)। দিনাজপুর : জেলার সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ নামক স্থানে গতকাল বেলা ১১টার দিকে দিনাজপুর-দশমাইল সড়কে ট্রাক ও ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাতজন। নিহতদের মধ্যে দুজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন সদর উপজেলার সাত্তার (৩৫) ও বাবু (৪০)। আহত সাতজনের মধ্যে আমজাদ (২৮), কালাম (৩০) ও ইলিয়াসের (৩২) অবস্থা আশঙ্কাজনক। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেকুজ্জামান জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের নিচ থেকে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ভটভটিটি উদ্ধার করে। ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জেলার নাচোল উপজেলার সোনাইচন্ডি এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বালুবাহী ট্রাক্টরের চাপায় বাদল প্রামানিক (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত বাদল প্রামানিক নাচোলের ভেরেন্ডি সাহাপুর গ্রামের ললিত পরামানিকের ছেলে। নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফাসির উদ্দীন জানান, সোনাইচণ্ডি বাজারে যাওয়ার পথে বালুবাহী একটি ট্রাক্টর তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই বাদল প্রামানিক মারা যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাক্টরচালক পালিয়ে যায়।

Spread the love