নিষিদ্ধ গাইড বইয়ে সয়লাব গোলাপগঞ্জ

55
Spread the love

জাহিদ উদ্দিন : গোলাপগঞ্জ উপজেলা শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ গাইড বই। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চুক্তিবদ্ধ প্রকাশনীর নিষিদ্ধ গাইড বইয়ে সয়লাব হয়ে পড়েছে শিক্ষামন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা গোলাপগঞ্জ। মোটা অংকের বখরা পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এতে করে ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস পদকে ভূষিত শিক্ষামন্ত্রীর বহু আহ্লাদের সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতিকে নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রকাশ্যে গলাকেটে হত্যা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিরুপায় হয়ে শিক্ষকদের নির্দেশনায় গাইড বইয়ের পেছনে ছুটছে। সরকার বিনামূল্যে বই বিতরণ করলেও চড়া মূল্যের গাইড বই কিনতে গিয়ে অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়,গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ৩টি কলেজ ১ টি কারিগরি কলেজ ৩৩ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় , ১৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,১৫টি কমিউনিটি বিদ্যালয় ,৬০টি কিন্ডার গার্টেন, ১৯ মাদ্রাসা রয়েছে। এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে সংশ্লিষ্ট প্রকাশনীগুলো বছরের শুরুতেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সাথে গোপণ সমঝোতা চুক্তি সম্পাদন করেছে। গাইড বিক্রেতারা ব্যাপক ভিত্তিতে ১ম শ্রেণী থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত গাইড বই বিক্রি করছে। এছাড়া বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার ও এসএসসি টেস্ট পেপার বিক্রির জন্য স্ব স্ব বিভাগের শিক্ষকদের সাথে পৃথক অর্থনৈতিক চুক্তি সম্পাদন করেছে সংশ্লিষ্টরা।উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ক্লাস ভিত্তিক শিক্ষার্থীদের গাইড, ব্যাকরণ, গ্রামার ও সহায়ক বইগুলো ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত প্রকাশনী ও লেখকের নাম যুক্ত করে দিচ্ছেন। এছাড়া এসকল গাইড বই কোন কোন লাইব্রেরীতে পাওয়া যাবে তাও তালিকাতে উল্লেখ রয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়গুলোর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পূজি করে রীতিমতো বাণিজ্যের পসরা সাজিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি মাঠে মারা যাচ্ছে, অন্যদিকে অভিভাবকদের পকেট থেকে ঝরছে হাজার হাজার টাকা। উপরন্তু জাতির ভবিষ্যত শিক্ষার্থীরা গাইড বইয়ের মুখস্ত বিদ্যায় নির্ভরশীল হয়ে নিজেদের মেধা ও মননের বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শর্তানুযায়ী তালিকাভূক্ত এ সকল বই ছাড়া অন্য বই ক্রয়ের সুযোগ না থাকায় নিরুপায় হয়ে অভিভাবকরা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সংশ্লিষ্টদের বই ক্রয়ে বাধ্য হচ্ছেন। গাইড বইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রফিক উদ্দিন নামে এক  অভিভাবক বলেন, তার মেয়েকে এ বছর স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করেছেন। সরকারিভাবে বিদ্যালয় থেকে বিনামূল্যে পাঠ্য বই পেলেও শিক্ষকদের নির্দেশিত গাইড বই চড়ামূল্য দিয়ে কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, পূর্বেকার দিনে পাঠ্যবইসহ যাবতীয় বই কিনতে যে হারে অর্থের প্রয়োজন হতো এখন কেবল গাইড বই কিনতে গিয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি হারে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষকরা আন্তরিকতার সাথে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করলে গাইড বইয়ের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু কতিপয় অসাধু শিক্ষকরা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য ছাত্রছাত্রীদের মাথা বিক্রি করে বই কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা নিচ্ছে।

Spread the love