নৈপথ্য প্রভাবশালীরা বিশ্বনাথে নদীর চর দখলের মহোৎসব!

72
Spread the love

মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথে প্রভাবশালীদের নেপথ্যে বিভিন্ন নদ-নদীর চর দখল করে দোকানঘর নির্মাণ অব্যাহত রাখার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার আট ইউনিয়নের বিভিন্ন নদ-নদী-খালের চর দখল করে প্রভাবশালী মহল বিগত কয়েক বছর ধরে দোকানকোঠা,বাসাভাড়া নির্মাণ করে আসছেন। উপজেলায় বর্তমানেও সরকারি জায়গা দখলের মহা-উৎসব চলছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।
জানাযায়, নদীমাতৃক আমাদের এই বাংলাদেশে দিন দিন নদী-নালা, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে “নদীমাতৃক পরিচয়টি ”হারাতে বসেছে তেমনি ভূমি খেকো মানুষজনও অবৈধ ভাবে এসকল জায়গা দখল করে গড়ে তুলছেন দোকানকোঠা। তাইতো তারা মনের আনন্দে গাইতে থাকে “নদীর এপাড় ভরেছে, ওপাড় ভরেছে-মধ্যভাগটা কেন ভরছে না/ দখল করে তাতে বানাতে চাই মোরা বড় বড় অট্রালিকা”। এসকল ভূমি খেকো মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্বনাথের বেশ কিছু প্রভাবশালীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নদীর চর দখল করে তাতে অবৈধভাবে অট্টালিকা বানাতে। কেউবা আবার বানাচ্ছেন রান্না ঘর, কেউবা গরু ঘর, কেউবা আবার টয়লেট, কেউবা আবার দোকান কোঠা।
নদী-নালা, খাল-বিল ভরাটের পর আবার ভূমি খেকো এ মানুষ গুলোর কারন সিলেটের  বিশ্বনাথের প্রান কেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া এককালের খরস্রোতা বাসিয়া নদী কালের বিবর্তনে এখন তার ঐতিহ্য হারিয়ে যেন এখন একটি ছোট খালে পরিনত হয়েছে। এক সময় যে নদী দিয়ে স্রোত বয়ে যেত, সে নদী দিয়ে এখন পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায় অতি সহজেই। মাটি ভরাটের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাবশালীরা নদীর চর দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ীর জন্য নির্মান করছেন বড় বড় অট্রালিকা। গত ১৫/২০ বছর আগেও বাসিয়া নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পালের নৌকাসহ বড় বড় নৌকা, লঞ্চ, ষ্টিমার দেখা গেলেও এখন আর এসব দেখা যায়না। উপজেলার রাজাগঞ্জবাজার দিয়ে বয়ে যাওয়া মাকুন্দা নদীও ভূমিখেকোদের দখলে চলে যাওয়ার কারনে মাকুন্দা নদী আজ বিলিন হয়ে যাওয়ার পথে।
বিশ্বনাথে সর্ববৃৎহ চরচন্ডীর খালকে আজ ছোট ড্রেইনে পরিণত হয়েছে। চরচন্ডী খালটি দীর্ঘ দিন ধরে ভূমিখেকোদের দখলে থাকার কারনে এর তীরে প্রভাবশালীরা বাসা-বাড়ী-দোকান ঘর নির্মান করে চলছেন অবাধেই। এক সময় এই খাল দিয়ে নৌকার মাধ্যমে জগন্নাথপুর ও ছাতক থানা থেকে বিশ্বনাথে টাটকা সবজি আমদানী করা হলেও বর্তমানে এখন আর সেই সুযোগ নেই। যার ফলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, অন্যদিকে টাটকা সবজি খাওয়া থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া ও অবৈধ দখলের ফলে কৃষকদের দুঃচিন্তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ পানির অভাবে বোরো ফসল উৎপাদনে মারাতœক বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিশ্বনাথে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারনে দ্রব্যমূল্য ক্রয়ে বিশ্বনাথবাসীর কষ্ঠ দিন দিন ভেড়েই চলছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে নদীগুলো খনন করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান এলাকাবাসি।
বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রুহুল আমীন সাংবাদিক কে বলেন, অবৈধ দখলের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ইতি মধ্যে কয়েকটি মৌজার কাজ শেষ হয়েছে। দখলের তালিকা কাজ শেষ হওয়ার পর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।


Spread the love