পছন্দের শীর্ষে থ্রিজি ও দিলওয়ালে : সীতাকুণ্ডে জমে উঠছে ঈদ বাজার

79
Spread the love

yuসীতাকুণ্ড প্রতিনিধি : সীতাকুণ্ডে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। এবার তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে থ্রিজি ও দিলওয়ালি। ভারতীয় টিভি চ্যানেলের নায়িকাদের নামের পোষাকের বেশ কদর ছিলো কয়েক বছর পূর্বে। ঝিলিক, পাখি, কিরণমালা, রাশি ও জল নূপুর থ্রিপিস ছিলো তরুণীদের প্রছন্দের শীর্ষে। সময়ের ব্যবধানে তা পাল্টে গেছে। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় তথ্য প্রযুক্তির বিস্তারের প্রেক্ষিতে পাল্টেছে জন জীবনের পোষকেও। এবারের ঈদের পোশাকে পড়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ছায়া। এবারের ঈদে তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে থ্রিজি থ্রিপিসের। দ্বিতীয়ত রয়েছে ভারতীয় দিলওয়ালে থ্রিপিসের। এছাড়া রয়েছে বম্বে কটন ও সবুরা সিল্ক নামে থ্রিপিসের। ক্রেতাদের চাহিদা পুরণে ব্যবসায়ীরাও দোকান সাজিয়েছে এসকল থ্রিপিস দিয়ে। শিল্পাঞ্চাল সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে এরকম তথ্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, সীতাকুণ্ডের সদর এলাকার মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। প্রতিটি দোকানগুলোতে বেচাকেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দোকানিরা। নানা রকমের পোশাকে ছেয়ে গেছে সব কয়টি মার্কেট। সীতাকুণ্ড সদরের মার্কেটের পাশাপাশি ক্রেতা সমাগম ঘটছে ছোট কুমিরা, বড় কুমিরা, ভাটিয়ারী ইত্যাদি এলাকার মার্কেটগুলোতে। এবার মার্কেট গুলোতে তরুণ তরুণীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে বেশি। এবার বিভিন্ন মার্কেটের দোকানগুলোতে নানা ডিজাইনের পোশাকের আগমন ঘটেছে। হরেক রকমের রঙ বেরঙের পোশাকে আকর্ষণ করছে ক্রেতাদের। এবার লং থ্রিজি তরুণীর পোশাকগুলোতে নানা বৈচিত্র রয়েছে। এই পোষাকের সামনে ও পিছনে কারুকার্য করা হয়েছে। লং বডি এই পোশাকের রাউন্ড করা হয়েছে। বিভিণ্ন ধরনের এই পোশাকটির দাম সাড়ে তিন হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত । লং গাউন ও ফুল বডিতে নকশা করা হয়েছে। নানা ধরণের এই পোশাকটি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায়। এছাড়া বোম্বে কটন থ্রিপিস ৩ থেকে ৭ হাজার টাকায়। সবুরা থ্রিপিস ২ হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সীতাকুণ্ড মার্কেটে ঈদের বাজার করতে আসা ক্রেতা সুমি আক্তার বলেন, এবার ঈদ বাজার একটু আগে থেকে জমে উঠেছে। পোশাকের দোকান গুলোতে এবার নতুন ধরনের পোশাকের আগমন ঘটেছে বলে জানান তিনি। তবে এবার পোশাকের দাম একটু বেশি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এই পর্যন্ত তিনটি ভারতীয় থ্রি পিস পোশাক ক্রয় করেছেন। দোকানগুলো ঘুরে দেখে ভালো লাগলে আরো কয়েকটি পোশাক ক্রয় করবেন বলে জানান তিনি। সীতাকুণ্ড সুপার মার্কেটের তারা ফ্যাশন দোকানের বিক্রয় কর্মী নাজিম উদ্দিন আজাদীকে বলেন, এবার ঈদ উপলক্ষে তাদের দোকানে হরেক রকমের পোশাক নিয়ে এসেছে। তাদের দোকানের অধিকাংশ পোশাক দেশীয় তৈরি। তাদের দোকানের বিভিন্ন পোশাকের দাম অন্য দোকানের তুলনায় অধিক কম বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, তাদের দোকানে ক্রেতা সমাগম বেশ ভালো বলে দাবি করেন তিনি। এই দিকে বিভিন্ন এলাকার মার্কেট গুলোতে নানা রঙ বেরঙের বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। আলোক সজ্জা করা হয়েছে মার্কেটের ভিতরে ও বাইরে। ক্রেতাদের আকর্ষণ করার জন্য নতুন আঙ্গিকে সাজিয়েছে প্রতিটি দোকান। কর্ম ব্যস্থতা বেড়েছে পোশাকের দোকান গুলোতে। দর্জি পাড়া থেকে শুরু করে প্রতিটি দোকানে এই ব্যস্ততা ধরা পড়ছে। এই বিষয়ে সীতাকুণ্ড নিউ মার্কেটের দোকনদার মো: সোলেমান আজাদীকে বলেন, এবার ঈদের পোশাকের মধ্যে নানা রকমের পোশাক এসেছে। বাংলাদেশি কাপড়ের পাশাপাশি ভারতের পোশাকের সমাগম ঘটেছে বেশি। গত কয়েক দিন ধরে ক্রেতা সমাগম হচ্ছে বেশ ভালো। দেশীয় পোশাকের চেয়ে ভারতীয় বিভিন্ন পোশাকের চাহিদা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বেচা কেনা ভালো হবে বলে দাবি করেন তিনি। ভাটিয়ারী মার্কেটে পোশাক কিনতে আসা ইমামনগর এলাকার বাসিন্দা আইরিন আক্তার বলেন, গত বছরের ছেয়ে এবারে পোশাকের দাম বেশী। ভালো করে ঈদের বাজার শুরু হওয়ার আগ থেকে দোকানদাররা পোশাকের চড়া দাম হাঁকাছে। কোন নিয়ম নীতি নাই। যার থেকে যা পাচ্ছে তা হাতিয়ে নিচ্ছে দোকানিরা। এতে করে সাধারণ পরিবারের লোকেরা পোশাক কিনতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তাই এবার ভালো করে ঈদ করা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি খাজা ট্রেডার্সের মালিক কামাল উদ্দিন বলেন, ভারত ও চায়না থেকে তার দোকানে উন্নতমানের ডিজাইনের পোষাক আনা হয়েছে। আছে দেশীয় বিভিন্ন ধরনের পোশাক। তবে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশী বলে জানান তিনি।


Spread the love