পরিবারের স্বচ্ছলতার লক্ষ্যে খেজুর গাছের পরিচর্চায় ব্যস্ত গুরুদাসপুরের মুনছোব আলী

61
Spread the love

Gurudaspur pic-22-11-2015 copyমো.আখলাকুজ্জামান,নাটোর : নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের শিধুলী গ্রামের খেজুর গাছিয়া বলে খ্যাত মুনছোব আলী ষাটোর্ধ বয়সেও খেজুর গাছে উঠে প্রতিদিন ৮০টি খেজুর গাছের রস দিয়ে গুড় তৈরী করে ৪০ বছর ধরে স্বাচ্ছন্দে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। মুনছোব আলী জানান, একমাত্র বসতভিটা ছাড়া জমি-জিরেত কিছুই নেই তার। শুধুমাত্র গতর খাটিয়ে ৭ সদস্যের সংসার চালান। ২০ বছর বয়স থেকে প্রতিটি শীত মৌসুমে তিনি নিজস্ব ১৫টি খেজুর গাছ সহ এলাকার বিভিন্ন জনের প্রতিটি গাছ ১৫০ টাকা দিয়ে মৌসুম বর্গা নিয়ে সেখান থেকে খেজুর রস সংগ্রহ করে বাড়িতে স্ত্রী-পুত্র পরিজনের সহযোগিতায় সুস্বাদু গুড় তৈরী করে বাজারজাতকরনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে থাকেন। তার এবং অন্যান্য গাছিয়াদের তৈরী খেজুরের গুড় গুরুদাসপুর উপজেলা ছাড়াও ট্রাক পরিবহনের মাধ্যমে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক দিয়ে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ হয়ে থাকে বলে তিনি জানান। এবারের শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে তিনি প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেজুর গাছের পরিচর্চা করতে শুরু করেছেন। তিনি আরো বলেন, রাতের রস সংগ্রহের জন্য চুনের প্রলেপযুক্ত মাটির বড় কোড় (হাঁড়ি) এবং দিনের ঘোলা রস সংগ্রহের জন্য ছোট ছোট কোড় (নাড়ি) ব্যবহার করা হয়। রাতের অন্ধকারে যাতে করে রস চুরি বন্ধের জন্য হাঁড়ির ভেতরে চুনের প্রলেপ দেয়া হয়। এছাড়াও রাতচোড়া পাখিরা রস পান করতে এসে ব্যবহৃত হাঁড়িতে যাতে বিষ্ঠা না ফেলতে পারে সেজন্য হাঁড়ির ওপরে ফাতারীর (রসের নালার) সাথে বাঁশের চাটাই দিয়ে হাঁড়ির ঢাকনা লাগানো হয়। প্রতিটি রসের হাঁড়িতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ লিটার করে রস সংগ্রহ করেন। ওই রস থেকে তৈরী গুড় বাজারজাকরনের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রতিদিন কমপক্ষে ২ হাজার টাকা উপার্জন করেন। প্রতি শীত মৌসুমের অগ্রহায়ন থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত ৪ মাস ওই খেজুর রস সংগ্রহ ও সুস্বাদু গুড় তৈরীর কাজ অব্যাহত থাকে। খেজুর গাছ লাগিয়ে ৪ মাসের অর্থ উপার্জনে সারা বছর স্বাচ্ছন্দে তাদের পরিবার চললেও শীতকাল শেষে অন্যের বাড়িতে দিনমজুর খেটে পরিবারের ভরনপোষন সহ সকল প্রকার ব্যয়ভার বহন করে থাকেন।
উল্লেখ্য, প্রতিটি শীত মৌসুমে ওই এলাকার খেটে খাওয়া প্রায় পরিবারের বয়জষ্ঠরা খেজুরের রস সংগ্রহ করে বাজারজাতকরনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে থাকে।


Spread the love