পরিশ্রমের উপযুক্ত মূল্য পাবেন কিনা চিন্তায় পড়েছেন ঠাকুরগাঁয়ের কামার শিল্পীরা

98
Spread the love

Thakurgaon-kamurpara-pic-1মোঃ তোফায়েল ইসলাম,ঠাকুরগাও : কোরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে ঠাকুরগাও কামার শিল্পীরা। কিন্তু তাদের পরিশ্রমের উপযুক্ত মূল্য পাবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন তারা। ঈদ উপলক্ষে কামার পাড়া চিত্র পাল্টে গেছে। কেউ ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছিলেন দগদগে লাল লোহার খন্ডে। কেউ দিচ্ছেন শান, আইতনা দিয়ে কয়লার আগুনে বাতাস কিংবা সাহায্য করছেন সহকর্মীদের। সবারই হাত, মুখ, পা কালিতে ভরা। তীব্র গরমে শরীর ঘামছে দরদরিয়ে। কিন্তু বৈদ্যুতিক কিংবা হাতপাখার বাতাস নেয়ারও কোনো অবস্থা নেই। বেশির ভাগেরই কাপড় অর্ধাঙ্গজুড়ে, পরনের লুঙ্গির চেহারাও ময়লায় বেশ ভারী দেখা যাচ্ছিল। তার ওপর অগোছালোভাবে পরিধান করা। এত অগোছালো আর ক্লান্তির কাউকেই ক্লান্ত করতে পারছিল না। তীব্র ব্যস্ততার চাপে ‘ক্লান্ত’ কারও কাছে ঠাঁই পাচ্ছিল না। এটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকার কামারপাড়ার চিত্র। আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই তাদের এ ব্যস্ততা। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যস্ততা। আরাম-আয়েশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সময়মতো খাদ্য গ্রহণ, সহকর্মীদের সঙ্গে গল্পগুজব, সবই বন্ধ। কেবল সহকর্মীর সঙ্গেই চলছে একটু- আধটু কথা, তাও সংশ্লিষ্ট কাজের। আর কিছু কথা হয় ক্রেতার সঙ্গে। কোনো ক্রেতা দিয়ে যাচ্ছেন অর্ডার, কেউ কিনছেন রেডিমেট। আর কেউবা দামদরে না মিললে নিচ্ছেন বিদায়। কিন্তু কামাররা কাজ করছেন অবিরাম। ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন কামারদের সঙ্গে কথা হয়েছে, সবাই প্রচুর ব্যতিব্যস্ততার কথা জানালেন। তারা বললেন, সারা বছরই কামারদের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা থাকে। বাহির থেকে কয়লা, লোহা কিনে সারাদিন নিজের শরীরের ঘাম ঝড়িয়ে যে প্রত্যাশা নিয়ে বিভিন্ন রকমের কোরবানীর মাংস কাটার যন্ত্রপাতি তৈরী করেছে কামাররা, কিন্তু ক্রেতা না থাকায় বিক্রি ও পুজি উঠানো নিয়ে এখন চিন্তায় পড়ে গেছেন তারা। এ ব্যাপারে কালিবাড়ির কামার ব্যবসায়ী দীপেন কর্ম রায় বলেন,আমরা সারা বছর অলস সময় পার করলেও কোরবানীর ঈদ আসলেই অধিক শ্রম দিয়ে বেশি আয়ের স্বপ্ন দেখি। কিন্তু কয়লা ও লোহার দাম বেশি হওয়ায় আমাদের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতে বসেছে। ছুরি, বটিসহ লোহার বিভিন্ন রকমের যন্ত্রপাতি তৈরীতে আমাদের ব্যায় বেশি হলেও উপযুক্ত মূল্যে কিনছেন না ক্রেতারা। ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকী থাকলেও আমাদের তৈরী যন্ত্রপাতির বিক্রি নিয়ে চিন্তিÍত হয়ে পড়ছি আমরা। শংঙ্কর নামে এক কামার ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাপ- দাদার আমল থেকেই আমারা এই ব্যবসায় করছি ,প্রতি কুরবানী ঈদ আসলেই কিছু লাভের আশায় আমারা ব্যবসায় একটু জোড় দেই। আমাদের এই সব যন্ত্রপাতি বানানোর জন্য আমার বাহির থেকে লোহ ও কয়লা কিনে আনি। আমরা লোহা কিনি ৬০ টাকা কেজি ধরে আর কয়লা কিনি ৩০ টাকা কেজি ধরে। কিন্তু আমার দিন রাত এতো পরীশ্রম করেও আমারা লাভের মুখ দেখিনা। লোহা ও কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তৈরি সামগ্রীর দামও বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তৈরি যন্ত্রপাতি বেশি দামে কিনতে রাজি হয়না ক্রেতারা। পশুর হাট গুলোয় ঈদের আমেজ থাকলেও এখনও কামারদের দোকানে মানুষের আশার কোন চাহিদা নেই বললেই চলে। তবে শেষ মুহুর্তে কোরবানীর মাংস কাটার যন্ত্রপাতি কিনতে কামারদের ব্যবসায় একটু লাভ হবে এই আশা নিয়ে আছেন কামার ব্যবসায়ীরা।


Spread the love