পলাশবাড়ীতে ঈদ উপলক্ষে অপরিচ্ছন্ন, ভেজাল সেমাই কারখানা গড়ে উঠছে

54
Spread the love

3ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা, প্রতিনিধি : ঈদকে সামনে রেখে পলাশবাড়ী উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন গ্রামে অসাধু ব্যবসায়ী গড়ে তুলছে অপরিকল্পিত, অপরিচ্ছন্ন, পরিবেশে ভেজাল সেমাই তৈরীর কারখানা। ওই সব ব্যবসায়ী বছর ঘুরে রমজান আসলেই ঝুঁকে পড়ে সেমাই তৈরীর কাজ নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী বিএসটিআই থেকে লাইসেন্স নিয়ে ওই সব কারখানায় সেমাই তৈয়ার করার কথা। কিন্তু তাড়া বিএসটিআই কি? এর কোন মানেই বোঝেনা। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় ব্যবসা করায় ভাল মনে করছে। সরকারী ভাবে বিএসটিআই থেকে অনুমতি নিতে গেলে পরিবেশ অধিদপ্তর হতে ছাড়পত্রসহ আরো অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করাকে তারা ঝামেলা মনে করে। এ ছাড়া প্রতি বৎসর লাইসেন্স বাবদ সরকারী কোষাগারে রাজস্ব খাতে টাকা জমা দিতে হবে। এ ভাবেই কথাগুলো বললেন অসাধু সেমাই তৈয়ারী করার কারখানার মালিকেরা। একারনেই স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ ভাবে টাকা কামাইয়ের জন্য ওই সিন্ডিকেটকে সহযোগিতা করছে। এর ফলে ওই সব বাহারী নাম ব্যবহার করা সেমাই কিনে প্রতাড়িত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা। এক দিকে যেমন টাকার অপচয়, ওপর দিকে ওই সব অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরী সেমাই, লাচ্ছা খেয়ে অনেকের পেটের পিঁড়াসহ নানা রোগ দেখা দেয়। ক্রেতাদের জন্য দেশে ভোক্তা অধিদপ্তর আইন থাকলেও জেলা, উপজেলায় নামে মাত্র প্রশাসনের নিকট কমিটি রয়েছে । কিন্তু ভোক্তা স্বার্থে এর কোন কাজ নেই। স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পৌরসভায় স্যানেটারী ইন্সপেকটর থাকলেও এদের কাজ উপজেলার সর্বত্র ঘুরে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা ওই সব সেমাই কারখানার তালিকা তৈরী করে টাকা তুলে নিজের পকেট ভড়া। এ ছাড়া পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলায় তৈরী অতি নি¤œমানের অস্বাস্থ্যকর লাচ্চা, সেমাই এ উপজেলার এনে বিভিন্ন স্থানে রেখে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা সচেতন জরগন বলেন, জনস্বার্থে দেশের মানুষের কল্যানে ভোক্তা অধিদপ্তরের যে কাজ তার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। এর জন্য সকল স্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ঈদের আগে বাজার মনিটরিং কমিটিকে ওই সব সেমাই কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী জানান তিনি। পলাশবাড়ীর উদায়মান চরণ সাংবাদিক পলাশবাড়ী গন জাগরণের মূখপাত্র আশরাফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, যে শস্য দিয়ে ভুত তাড়ানো হয়, সেই শস্যের মধ্যেই ভুত লুকিয়ে থাকলে তাড়ানো সম্বভ নয়। একারনেই আমাদের দেশে ভোক্তা আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। অচিরেই ভোক্তা সংগঠনসহ সচেতন মহল প্রশাসনের প্রতি ভেজাল প্রতিরোধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার দাবী জানান।


Spread the love