পলাশবাড়ীতে কদম বিলুপ্তি হওয়ায় সুঘ্রানে মাতোয়ারা হয় না পল্লীবাসী

63
Spread the love

kodomছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা, প্রতিনিধি : পলাশবাড়ী প্রায় প্রতিটি পল্লীর বিভিন্ন কদম গাছে গাছে কদম ফুলে ভরে উঠার কথা থাকলেও এখন আর তা চোখে পড়ে না। পুষ্প-বৃক্ষে, পত্রপল্লবে, নতুন প্রাণের সঞ্চার করে, নতুন সুরের বার্তা নিয়ে সবুজের সমারোহে আসছে বর্ষা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় ‘ঐ আসে ঐ ঘন গৌরবে নব যৌবন বরষা, শ্যাম গম্ভীর সরসা–’। বৃষ্টিতো হচ্ছে ক’দিন ধরেই। গ্রীষ্মের ধুলোমলিন জীর্নতাকে ধুয়ে ফেলে গাঢ় সবুজের সমারোহে প্রকৃতি সেজেছে পূর্ণতায়। নদীতে উপচে পড়া জল, আকাশেও ঘন মেঘের ঘনঘটা। কেউ কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই। গ্রীষ্মের দাবদাহে মানুষ যখন পুড়ছে তখন ব্যাপক আয়োজনে বর্ষার এই ঝুম ঝুম বৃষ্টির বরণডালা মাঝে মাঝেই মনে করিয়ে দিচ্ছে বর্ষাতো এসেই গেছে। বর্ষার সতেজ বাতাসে জুঁই, কামিনি, বেলি, রজনীগন্ধা, দোলনচাঁপা আরো কত ফুলের সুবাস। লেবু পাতার বনেও যেন অন্য আয়োজন। উপচে পড়া পদ্মপুকুর রঙিন হয়ে ফোটে বর্ষাকে পাওয়ার জন্য। কেয়ার বনেও কেতকীর মাতামাতি। রবী ঠাকুরের ভাষায়, “আবার এসেছে আষাঢ় আকাশও ছেয়ে আসে বৃষ্টিরও সুবাসও বাতাসও বেয়ে” প্রতিবছরের মত এবারও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গানের দল আয়োজন করছে বর্ষাবরনের । তবে হঠাৎ বর্ষা যেমন আনন্দের, বর্ষার নির্মম নৃত্য তেমনি হঠাৎ বিষাদে ভরিয়ে তোলে জনপদ। তবুও বর্ষা বাঙালী জীবনে নতুনের আবাহন। সবুজের সমারোহে, মাটিতে নতুন পল্লীর আস্তরণে আনে জীবনেরই বারতা। সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা বাঙলা মায়ের নবজন্ম এই বর্ষাতেই। সারা বছরের খাদ্য-শস্য-বীজের উন্মেষতো ঘটবে বর্ষার ফেলে যাওয়া অফুরন্ত সম্ভাবনার পলিমাটি থেকে। কদম গাছের বিলুপ্তি প্রসঙ্গে এক প্রবীণ কবী হাসান আজিজুর রহমান ক্ষোভের সাথে বলেন, শৈশবে আমরা আষাঢ়ের ঘ্রাণ পেতাম কদম ফুলের মাধ্যমে। কিন্তু দিয়াশলাই শিল্পের প্রসার ঘটার কারণে কদম গাছ যেন আজ অমাবশ্যার চাঁদ হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। নব যুগের কবিও সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বলেন, নতুন প্রজন্ম গল্পে, কবিতা ও ছড়ায় কদমের নাম শুনলেও বাস্তবে অনেকে কদম ফুলের কাছে অপরিচিত। জনগণ ও সরকারের উচিৎ বাংলার ঐতিহ্যবাহী কদম গাছ সংরক্ষণে সচেতন হওয়া।


Spread the love