পলাশবাড়ীতে ফুটপাতে জমেছে শীতবস্ত্রের বাজার

57
Spread the love

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : পৌষ আসতে না আসতেই হিমালয়ের চারদিক ধেয়ে আসছে শীত। দিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় দিন দিন শীত বেড়েই চলছে। শীতের ছোবলে থরথর করে কাঁপছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী মানুষ। শীত নিবারণে ফুটপাতে জমে ওঠছে শীতবস্ত্রের বাজার। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেটগুলোতে গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব দোকানে স্বল্প দামে প্রায় সব ধরনের গরম কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। দামে কিছুটা সস্তা হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। দোকানে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক লোকদের কাপড় পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। দাম হাতের নাগালে থাকায় ক্রেতার ভিড় বেশি। আগে এসব দোকানের ক্রেতা ছিলেন মূলত গ্রামের অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। এখন অবস্থা সম্পন্ন লোকেরাও এখানে আসেন কেনাকাটা করতে। কথা হয় কালিবাড়ী ফুটপাতের ভাসমান ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। তিনি জানান, ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। বড়-ছোট ভেদে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দামে শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। তিনি জানান, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাই বেশি। রিকশাচালকসহ অসহায় শীতার্ত মানুষ কম দামে শীতবস্ত্র কিনছেন। পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ভিটাশাখইল গ্রামের রিকশাচালক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিনের চেয়ে এখন কুয়াশা বেড়েছে। সকাল ১১টা পর্যন্ত সূর্যের আলো দেখা যায় না। আবার সন্ধ্যার আগে থেকেই শুরু হয় বাতাস। ঠাণ্ডায় রিকশার হ্যান্ডেল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে শীত নিবারণের জন্য ফুটপাতে গরম কাপড় কিনতে হচ্ছে। এখানে শীতের কাপড় কিনতে আসা উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চেরেঙ্গা গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল হালিম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার শীতের কাপড়ের দাম বেশি। গত বছর যে কাপড় দেড়শ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার সেই কাপড় বিক্রি হচ্ছে দুইশ টাকায়। কিন্তু উপায় নেই, শীত নিবারণে নিরুপায় হয়ে বেশি দামে গরম কাপড় কিনতে হচ্ছে। পলাশবাড়ী উপজেলা যুব দলের আহবায়ক মোশফেকুর রহমান বলেন, এবার আগাম শীত দেখা দিয়েছে। পুরোনো কাপড় না এলে বিত্তশালীরা বিপদে না পড়লেও গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা চরম বিপাকে পড়বেন। শীতের তীব্রতা বাড়লেও এখনো সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি। তিনি দ্রুত দুঃস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানান। এদিকে আবহাওয়া অফিস জানায়, তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ঠাণ্ডা দিন দিন বেড়ে চলেছে। উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা, রংপুর ও নীলফামারীসহ ৮ জেলার মানুষ থরথর করে কাঁপছে। শীতের দাপটে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় এবং উত্তরের বাতাসে মানুষের শরীরে হাড় কাঁপানো কাঁপুনি ধরেছে। পলাশবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি সরকারিভাবে পাওয়া শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য সাতটি উপজেলায় বন্টন করে দেওয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য।


Spread the love