পাঠক বিহীন লাইব্রেরি

124
Spread the love

Book31441871597মু.আসরারুল হক জামালী ঠাকুরগাঁও : বই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সভ্যতাকে। আর এই বইকে সংগ্রহ করে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করছে লাইব্রেরি। জেলা শহর ঠাকুরগাঁওয়ে আগে পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি ছিল কিন্তু সেগুলো এখন আর নেই। এখন এখানে প্রধানত দুটি লাইব্রেরি আছে- একটি ঠাকুরগাঁও সাধারণ পাঠাগার, অন্যটি ঠাকুরগাঁও সরকারি গণগ্রন্থাগার। শহরের প্রাচীনতম লাইব্রেরি হলো ঠাকুরগাঁও সাধারণ পাঠাগার। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই লাইব্রেরিটি একসময় মুক্তচিন্তা চর্চার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে তাতে ভাটা পড়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থল কালিবাড়ি বাজারের কাছেই এর অবস্থান। পুরোনো ভবন ছাড়াও একটি নবনির্মিত দ্বিতল ভবন রয়েছে পাঠাগারটির। বইয়ের সংগ্রহ আছে ১৩ হাজার। সদস্য সংখ্যা ২৫০। কিন্তু এসবই আছে হিসাবের খাতায় কিংবা রেজিস্টারে। পাঠক খুব কমই বই নিতে বা পড়তে আসেন। তবে অল্প কিছু পাঠক আসেন দৈনিক সংবাদপত্র পড়তে। তাও খুব সীমিত সময়ের জন্য।
লাইব্রেরিয়ান পদবির একজন খন্ডকালীন কর্মচারী আছেন। বেতন বা ভাতা এতই সামান্য ও অনিয়মিত যে, তিনিও দায়িত্ব পালনে খুব একটা আগ্রহী নন। এ ছাড়া লাইব্রেরিটিতে এই একজন কর্মী থাকায় এর পরিচ্ছন্নতার কাজ মোটেই হয়না। ফলে এর চারদিকটা বেশ নোংরা। এদিকে শহরের একপ্রান্তে অবস্থিত ঠাকুরগাঁও সরকারি গণগ্রন্থাগারটি সংস্কৃতি
মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। কিন্তু নানা কারণে এই লাইব্রেরিটিও বইপড়ার বিষয়ে তেমন ভূমিকা পালন করতে পারছে না।
এখানেও ভৌতিক অবকাঠামোটি খুব সুন্দর, বইও আছে ২০,৯১৯টি। কিন্তু পাঠকের সংখ্যা খুবই সামান্য। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাদের কার্ডধারী সদস্য ১৮-২০ জন। এখানেও বইয়ের নিয়মিত পাঠক নেই, তবে সংবাদপত্রের পাঠক আছেন খুবই সামান্য। কতৃপক্ষ যদিও জানিয়েছেন প্রতিদিন গড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ জন পাঠক এখানে আসেন। কিন্তু লাইব্রেরিতে গিয়ে দেখতে পাওয়া যায়
বিশাল পাঠকক্ষটি শূন্যপ্রায়। এমনও হয়েছে, একদিনে মাত্র ২/৩ জন পাঠককে দেখা গেছে। এই লাইব্রেরিটি শহরে পূর্ব-উত্তর কোনে সরকার পাড়া এলাকায় বলে অনেকের পক্ষে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে এ লাইব্রেরিটিতে যাওয়া সম্ভব হয় না। সরকারি এই গণগ্রন্থাগারটিতে মোট ৩ জন কর্মী কর্মরত আছেন।। ঠাকুগরাঁও সাধারণ পাঠাগােরর সভাপতি জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস নিজেও লাইব্রেরিটির স্থবিরতার জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যে কমিটি রয়েছে সেটি নিষ্ক্রিয়। নতুন কমিটি নির্বাচিত না হলে কে সক্রিয় করা সম্ভব হবে না। বই সম্পর্কে আগ্রহী শহরের বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি বলেছেন, এই লাইব্রেরি দুটিতে যত অল্প সংখ্যক বইই থাকুক না কেন, তাও পাঠকের ব্যবহারের জন্য ব্যবস্থা নেই। ক্যাটালগের সিস্টেম না থাকায় কেউই তার প্রয়োজনীয় বইটি লাইব্রেরি থেকে সহজে খুঁজে পান না।


Spread the love