পান সুপারীতে জড়ানো যাদের জীবন

293
Spread the love

050শারমীন শিলা : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আদিবাসী সম্প্রদায় পান সুপারীর চাষের উপর অনেকটা নির্ভরশীল। বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে বংশপরম্পরায় এ পেশা আদিকাল থেকেই তাদের মধ্যে চলমান। উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে  দীর্ঘদিন থেকে তাদের বসবাস। এখানকার নকশিয়ারপুঞ্জি, লামাপুঞ্জি, সংগ্রামপুঞ্জি ও নতুন সংগ্রামপুঞ্জি গ্রামে প্রায় ৩ হাজার আদিবাসী রয়েছেন। যেখানে আজও জমিদার, মন্ত্রী ও হেডম্যান প্রথা বিরাজমান। চারটি গ্রামের সিংহভাগ বাগানের মালিক রয়েছেন ২০-২৫ জন জমিদার।

নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে নারী-পুরুষ উভয়ই শ্রমিকের কাজ করছেন নিয়মিত। নকশিয়ার পুঞ্জির নারী শ্রমিক কেতারিং খংলা জানান, জমিদার বাড়ীতে বসে তিনি বাগান থেকে নিয়ে আসা পান মোড়া বাঁধার কাজ করেন। এক মোড়া পান বাঁধাই করলে তিনি পান ৫ টাকা। দৈনিক তিনি ৫০-৬০ মোড়া পান বাঁধাই করেন। অন্যদিকে তার স্বামী ডেনিয়াল লিটিং কাজ করেন বাগানে। সুপারীর গাছে পান সংগ্রহ করেন প্রতিদিন। মজুরী হিসাবে দৈনিক ২৫০ টাকা পান। এ দিয়েই চলছে তাদের সংসার। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠে খাওয়া-দাওয়া সারার পর সকাল ৯টা থেকে জমিদার বাড়িতে গিয়ে কাজে লেগে যান কেতারিং খংলা। আর বাগানের সুপারীর গাছে গাছে ওঠে ডেনিয়াল লিটিং পান সংগ্রহ করেন। বাগানের বাইরে কাজ করতে তারা উভয়ই অনাগ্রহী। এর কারণ এলাকার মানুষের সাথে ভাষাগত সমস্যা ও বেতন বৈষম্য। শুধু এরাই নয়, ওই এলাকায় প্রায় সব আদিবাসীরাই পান-সুপারীর বাগানে কিংবা পানের মোড়া বাঁধার কাজের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ ব্যাপারে বাগানের হেডম্যান ওয়েলকাম লম্বা জানান, বাংলাদেশ বিভক্তির পূর্বে এ পুঞ্জি ছিল ভারতের মেঘালয় প্রদেশের অন্তর্ভূক্ত। এখনও ভারতে আমাদের জমি রয়েছে। মূলত আদিবাসী স¤প্রদায় সব সময় ভারতে আসা যাওয়া করেছি। বর্তমানে আমাদের দেশের সাথে ভাষাগত সমস্যা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা থাকায় আমাদের শ্রমিকেরা উলে­খিত পুঞ্জির বাইরে কাজ করতে অনিচ্ছুক।


Spread the love