পীরগঞ্জে ব্রীজের এ্যাবাটমেন্ট-ভার্টিকেল ওয়াল ৩ দিন পর ভিত্তিসহ ভেসে গেছে

43
Spread the love

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা, প্রতিনিধি : রংপুরের পীরগঞ্জে একটি ব্রীজের ভার্টিকেল ওয়াল ও এ্যাবাটমেন্ট ঢালাইয়ের ৩ দিন পর ভিত্তিসহ ভেসে গেছে। উপজেলার দুধিয়াবাড়ী গ্রামে ওই ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী নির্মান কাজ আটকে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ও এলাকাবাসীর সুত্রে জানা গেছে, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে পীরগঞ্জে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরাধীন পাকা কাজ (২য় পর্যায়) এর আওতায় ২৭টি ব্রীজ-কালভার্টের অনিয়মের মাধ্যমে কাজ চলছে। উপজেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কার্যালয় কাজগুলোর তদারকি করছে। উপজেলার দুধিয়াবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে টুকুরিয়াগামী রাস্তায় কদমতলী নামকস্থানে প্রায় ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে আর. সি. সি ব্রীজের নির্মান কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাজহাটের মেসার্স মাহফুজার রহমান ফাত্তাহ। গত ১৮ এপ্রিল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কাজটির কার্যাদেশ পেয়ে ব্রীজের উভয়পাশে মাটির চাপ ধরে রাখার জন্য এ্যাবাটমেন্ট ও ভার্টিকেল ওয়াল ঢালাই করে প্রায় ৯ ফুট উচু করে। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে ব্রীজটির উত্তর পাশের এ্যাবাটমেন্টের পশ্চিমের অংশ ফেঁটে দেড় ফুট মাটির নীচে দেবে যায়। তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারের লোকজন এ্যাবাটমেন্ট ভাঙ্গা শুরু করলে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। বুধবার বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে দুধিয়াবাড়ীর রজ্জব পানাতি, ফুল বাবু, নিধিরামপুরের রানা মিয়া, সাজিদ, মতিন মিয়ার সাথে কথা হলে বলেন- ব্রীজটির নির্মান সম্পন্ন করে ঠিকাদার চলে গেলে ব্রীজটির এমন অবস্থা হলে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতাম। নিম্নমানের কাজ করায় ব্রীজের এক পাশে দেবে গেছে। ওই ইউপির আ’লীগ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি বলেন- কাজটির ঠিকাদার ভিত্তির সময় ঘাপলা করায় সামান্য পানির স্রোতে ব্রীজটির একাংশ দেবে যায়। পুরোটা ভেঙ্গে না ফেলা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকব। উপজেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম বলেন- পদ্ধতিগত সমস্যার কারণে ব্রীজটির একপাশের এ্যাবাটমেন্ট দেবে গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি ভেঙ্গে ফেলে পুননির্মান করবো। ঠিকাদার মাহফুজার রহমান জানান- বৃষ্টির জমানো পানি একযোগে বের হতে গিয়ে পাক খেয়ে ভিত্তির নীচে বালু সরে যাওয়ায় এ্যাবাটমেন্ট দেবে গেছে। এখন ওই অংশটুকু ভেঙ্গে পুনর্নিমান করে দেব। তবে তিনি কাজে ঘাপলার করার কথা অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম অত্র উপজেলায় যোগদান করার পর থেকেই টিআর কাবিটা ব্রীজ নির্মাণসহ ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়েছেন মর্মে এলাকাবাসী দাবী করেন।


Spread the love