পৃথিবীর ভয়ঙ্কর সব আত্মহত্যার স্থান

126
Spread the love

gowainghat-photo-211x300মোঃ তোফায়েল ইসলাম :

মরিতে চাহিনা আমি এ সুন্দর ভুবনে! কবিগুরুর সাথে কন্ঠ মিলিয়ে আপনারও হয়তো বলতে ইচ্ছে হবে গলা ছেড়ে ভীষন সত্যি এই কথাটি। বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হবে। কিন্তু আপনার জন্যে সত্যি বলে মনে হলেও অনেকেই আছেন পৃথিবীতে যাদের কাছে জীবনটাকে শেষ করে দেওয়াকেই জীবনের সবচাইতে বড় সত্যি বলে মনে হয়। আর এই মানুষগুলোর জন্যেই এখন অব্দি টিকে আছে কিছু সুইসাইড স্পট বা আত্মহত্যা করবার সবচাইতে পছন্দের স্থানের তালিকা!

প্রতিবছরই এই জায়গাগুলোতে এসে নিজেদের জীবনের শেষ ইচ্ছা- আত্মহত্যা করবার ইচ্ছাকে পূরণ করেন কিছু মানুষ। অসাধারণ সুন্দর এই জায়গাগুলো, যেখানে গেলে পৃথিবীকে দেখবার ইচ্ছেটা আরো বেড়ে যায়, এমনই কিছু স্থানে প্রতিনিয়ত চলে পুলিশ টহল, আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষদেরকে বাঁচানোর জন্যে। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়না। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেন এখানে এসে। আর এমনই কিছু আত্মহত্যা করার ক্ষেত্রে সংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে থাকা স্থানের নাম দেওয়া হল আজকের ফিচারে।

১. হাম্বার সেতু, লন্ডন

সেতু কেন তৈরি করে মানুষ? আরো একটু জীবনের ঝুঁকি কমাতে। যাতে করে সহজে আর নির্ভয়ে পার হওয়া যায় ভয়ংকর আর গভীর কোন নদীকে। কিন্তু হাম্বার সেতুর ব্যাপারে হয়েছিল ঠিক এর উল্টো। ১৯৮১ সালে নির্মাণ করার পর থেকে এখন অব্দি প্রায় ২০০ জন মানুষ এখানে আত্মহত্যা করে। এছাড়াও এখানে আত্মহত্যা করার প্রবণতা মানুষের ভেতরে এত বেশি পরিমাণে দেখা যায় যে একেবারে নিরুপায় হয়েই ২০০৯ সালে অবশেষে সেতুটিতে আত্মহত্যা প্রতিরোধের প্রতিবন্ধক দিতে বাধ্য হন।

২. দ্যা গ্যাপ

অষ্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এই পাহাড়ের চূড়াটি দেখতে যতটা না সুন্দর তার চাইতে অনেক বেশি ভয়ংকর এখানে ঘটে যাওয়া আত্মহত্যাগুলোর জন্যে। তবে কেবল এখনই নয়, প্রতি বছরই এখানে মানুষ আত্মহত্যা করতে আসে সেই বহুকাল আগে থেকে। ৮৫ বছর বয়স্ক ডন রিচি বাস করেন গ্যাপের পাশেই। প্রতি বছরই কয়েকশ মানুষের প্রাণ বাঁচান তিনি। নিজের কাজ নিয়ে বলতে গিয়ে হাসেন রিচি। নিজেকে গ্যাপের অভিভাবক বলে পরিচয় দেন তিনি। যার কাজ এখানে আত্মহত্যা করতে আসা লোকগুলোকে ঠেকানো। এখন অব্দি প্রায় ৫০০ এর বেশি মানুষকে বাঁচিয়েছেন রিচি। পেয়েছেন বেশ কিছু পুরষ্কারও। তবে তাতে কি? এখনো অব্দি আত্মহত্যা করার জায়গাগুলোর তালিকার প্রথমে রয়েছে গ্যাপ!

৩. বিচি হেড, লন্ডন

দক্ষিন ইংল্যানএ অবস্থিত অদ্ভুত সুন্দর আর মায়াময় এক স্থান হচ্ছে বিচি হেড। তবে আত্মহত্যার জন্যেও একই সাথে বেশ প্রসিদ্ধ এটি। প্রতি বছর অন্তত ২০ জন মানুষ আত্মহত্যা করে এখানে। যদিও আত্মহত্যা ঠেকাতে কোনরকম কসুর ছাড়েনি প্রশাসন। বানিয়েছে সিঁড়ি। ব্যবস্থা করেছে কড়া নিরাপত্তার। প্রতিদিন দুবার এখানে টহল চলে আর সেসময়ই আটকে ফেলা হয় আত্মহত্যা করতে উদ্যত মানুষদের। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। বিচি হেডস থেকে লাফ দেওয়ার শখ কমেনি মানুষের ভেতরে।

৪. আকিওহারা বন, জাপান

অনেকটা ভূতুড়ে গা ছমছমে ভাব আর সৌন্দর্যকে আষ্টেপৃষ্টে নিজের সাথে জড়িয়ে রাখা এই সবুজ বনটি আত্মহত্যার জন্যে পৃথিবীতে বেশ বিখ্যাত। পৃথিবীর সবচাইতে আত্মহত্যাপ্রবণ স্থানগুলোর ভেতরে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এটি। সেই ১৯৫০ সাল থেকে শুরু। এরপর প্রতিবছর প্রায় ৩০ জন মানুষ আত্মহত্যা করে একানে। দিনে দিনে সেটার পরিমাণ কেবল বেড়েই চলেছে। গত ২০০৩ সালে প্রায় ১০০ জন মানুষ আত্মহত্যা করে একানে। প্রতিবছর একবার করে পুলিশ টহল দেয় গোটা বনে। তবে তাতে বিশেষ লাভ হয়নি কখনো।

৫. গোল্ডেন গেট সেতু, আমেরিকা

অন্য আরো স্তানে আত্মহত্যা করে মানুষ। তবে তাদের কোনটার সংখ্যাই গোল্ডেন গেট সেতুর ধারে কাছ দিয়েও যায়না। অসম্ভব সুন্দর এই সেতুটিতে ২০০৫ সালের তথ্যমতে প্রতি বছর প্রায় হাজারখানেক মানুষ আত্মহত্যা করে। যার পরিমাণ ২০০৫ সালে দাড়িয়েছিল ১,২০০ তে। তবে এটা শুধুই অফিসিয়াল হিসেব। এর বাইরেও রয়েছে আরো অনেকের নাম যারা আত্মহত্যা করেছে এখান থেকে। এখন অব্দি কোনভাবেই এই আত্মহত্যার পরিমাণ কমানো যায়নি। ভবিষ্যতে সেতুর নীচে প্লাস্টিকের একটা পর্দা দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে সেটার বাস্তবায়ন এখনো শুরু হয়নি। বেশ ভালোরকম উচ্চতার কারণে আত্মহত্যা করতে আসা মানুষগুলোর ভেতরে ২ শতাংশ মানুষও বাঁচেনা এই সেতু থেকে লাফ দিলে।


Spread the love