প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা বগুড়ার গাবতলীতে ৭১ মন্ডপে দুর্গাপুজা

70
Spread the love

VLUU L100, M100  / Samsung L100, M100

বগুড়া থেকে আল আমিন : আগামী ১৯ অক্টোবর দেবীর বোধন ও ষষ্ঠি (ঘট) পূজার মধ্যেদিয়ে এবছরে শুরু হবে শারদীয় দূর্গাপূজার মহাউৎসব। হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে বগুড়ার  গাবতলী  উপজেলা’য় ৭১টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। শরৎ এর শেষ মূহূর্তে হেমন্তের ভরা যৌবনে মহাউৎসবকে জাঁকজমক করে তুলতে উপজেলার মন্দিরগুলোতে চলছে নানা রকম ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে বিগত বছরগুলোতে শারদীয় উৎসব ৫দিন যাবত হলেও এবছরে তিথি পরিবর্তনের কারনে ৪দিন হবে। ফলে ২১অক্টোবর হবে অষ্টমী পূজা। ২২অক্টোবর নবমী ও দশমী পূজা হবে। আর পূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরীতে দিনরাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। প্রতিমাগুলোতে নিখুঁতভাবে কাজ ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ প্রতিমা শিল্পীদের। প্রতিমা শিল্পী সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, আষাঢের ২০তারিখ থেকে প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু করেছি। কাজ প্রায় শেষের পথে। এখন প্রতিমাগুলোর নকশা করা হচ্ছে। তবে এসপ্তাহে প্রতিমাগুলোকে নানা রং লাগিয়ে সুসজ্জিত করা হবে। শারদীয় মহাউৎসবের এক-একটি আধুনিক প্রতিমা তৈরী করতে কেউ কেউ ব্যয় করছেন লাখ লাখ টাকা। পাশাপাশি জোরে শোরে এগিয়ে চলছে বর্নিল তোরণ আলোকসজ্জাসহ নানা আয়োজন।গাবতলী উপজেলা সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানাযায়, এবছরে গাবতলীতে ৭১টি মন্ডপে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার কাগইল ইউনিয়নে ৯টি, দক্ষিনপাড়ায় ৬টি, সোনারায়ে ১৬টি, বালিয়াদিঘীতে ৩টি, নেপালতলীতে ১১টি, দূর্গাহাটায় ৫টি, মহিষাবানে ৮টি, নাড়–য়ামালায় ৫টি, রামেশ্বরপুরে ২টি, গাবতলী সদরে ২টি, নশিপুরে ১টি ও পৌরসভা এলাকায় ৩টি মন্ডপে দুর্গাপুজা অনুষ্টিত হচ্ছে। তবে গতবছরে ৬১টি মন্ডপে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গতবছরের তুলনায় এবছরে ১০টি মন্ডপে বেশী দুর্গাপুজা উদযাপন হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশী পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে সোনারায়ে।গাবতলী উপজেলা সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু ধন্য গোপাল সিংহ ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ চন্দ্র শেখর রায় জানান, আসন্ন শারদীয় দূর্গাপূজার মহাউৎসব গতবছরের চেয়ে এবছরে আরো ব্যাপক জাঁকজমক ভাবে পালন করার সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর্গা প্রতিমা তৈরী অনেকটা ব্যয় বহুল হলেও ইতিমধ্যে সকল আয়োজন প্রায় শেষের পথে। সংগঠনের সাধারন সম্পাদক ডাঃ রনজিৎ চৌধুরী জানান, গাবতলীতে যুগযুগ ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দূর্গাপূজা উৎসবটি পালন করে আসছে। গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ মাজেদা ইয়াসমীন জানান, আসন্ন দুর্গাপুজা উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আগে থেকেই প্রশাসনের পক্ষে থেকে নজরদারি বাড়ানো হবে। ওসি রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, উপজেলার সকল দুর্গাপূজা মন্ডপে পুলিশ কঠোর ভূমিকায় থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়াও উৎসাহ উদ্দিপনা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেবী বোধনের আগের দিন থেকে প্রতিমা বিসর্জনের রাঁত পর্য়ন্ত বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।


Spread the love