প্রমানিত হলো প্রধানমন্ত্রী সত্যিই সাংবাদিকদের বোন…..

144
Spread the love

h॥ শামসুল আলম স্বপন ॥
১৮ আগষ্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রখ্যাত সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের  মুক্তির দাবিতে বিক্ষুদ্ধ সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে চলছিল মানব বন্ধন কর্মসূচি। অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠন ও পেশাজিবি সংগঠনের(ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রমৈত্রী, গণজাগরণ মঞ্চ, কমিউনিস্ট পার্টি মত “বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পার্টাল এ্যাসোসিয়েশনের (বনপা)’র পক্ষ থেকে আমরাও প্রবীর দা’র মুক্তির দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দাড়িয়েছিলাম মানববন্ধনে। আমার সাথে ছিলেন বনপা’র সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সাহা,সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক ইঞ্জি.রোকমুনুর জামান রনি,সাংগঠনিক সম্পাদক মো.বেলায়েত হোসেন বেলাল,প্রচার সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন।
মানববন্ধনে বক্তৃতায় প্রবীর সিকদারের পুত্র সুপ্রিয় সিকদার বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ১৪জন স্বজন হারানোর পরে আমার বাবা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে বাবা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোন বলে মানেন। বাবা ‘আমার বোন শেখ হাসিনা’ নামে বইও লিখেছেন।
সুপ্রিয় আরও বলেন, আমার বাবা সরকার কিন্বা রাষ্ট্রের কোন ক্ষতি করেননি, করবেনও না।করতে পারেনও না। কারণ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সব সময় দেশের কল্যাণ কামনা করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, সাংবাদিক ও গবেষক সুভাষ সিংহ রায়, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ,সাংবাদিক খায়রুজ্জামান কামাল, বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ্যাসোসিয়েশনে (বনপা)’ সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সাহা, কমিউনিস্ট পাটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কার্ত্তিক চ্যাটার্জি, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সভাপতি কবির চৌধুরী তন্ময়,  সাংবাদিক অঞ্জণ রায় প্রমুখ।
প্রবীর সিকদারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বর্তমান সরকারের স্বপক্ষের সাংবাদিক ও পেশাজিবি নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রবীর সিকদার একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তিনি রাজাকারদের মুখোশ উন্মোচন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁর একটি পা এবং  একটি হাতকে অচল করে দেয়া হয়েছে। তিনি এখন প্রতিবন্ধী। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও কলমসৈনিক জেলে এটা মেনে নেয়া যায় না।
বক্তারা আরো বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে মামলার আগেই গ্রেপ্তার এবং হাতকড়া পরিয়ে জেলে নেয়া অত্যন্ত দু:খজনক। প্রবীর সিকদার সঠিক-ই বলেছিলেন-‘মৃত্যুই আমার জন্য গৌরবের। কারণ যাকে বোন বলে জানেন তার সরকারের কাছ থেকে এই আচরণ তিনি কি ভাবে মেনে নেবেন?  অনেকেই বলেন,প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে আওয়ামীলীগকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।
একজন বক্তা ক্ষোভের সাথে বললেন,প্রধানমন্ত্রী প্রবীর সিকদারকে জামিন দিয়ে প্রমাণ করুক তিনি সাংবাদিকদের বোন নতুবা তিনি সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের লেখা  ‘আমার বোন শেখ হাসিনা’ বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করুক।
সাংবাদিকদের বক্তব্যে ছিল বেদনাহত ও আশাহত শুর । আমার এ বিশ্বাস জন্মেছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে যুদ্ধাপরাধীদের হাত থেকে বাঁচিয়ে ঢাকায় থাকার সুযোগ করে দিয়েছিলেন,যাকে চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য দিয়েছিলেন। তাকে জেলের প্রকষ্ঠে রাখবেন এটা হতে পারে না। নিশ্চয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরো বিষয়টি অবগত নন। দুপুর ২টার দিকে খবর পেলাম দেশের সফল তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তাঁর দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে স্পষ্ট করে বলেছেন, সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের গ্রেফতার অনভিপ্রেত এবং দু:খজনক। তিনি আরো বলেন প্রবীর সিকদারের মুক্তির ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রণালয়ের পক্ষে যা করণীয় তা তিনি করবেন।
এ কথা জানতে পেরে বুকটা গর্বে  ভরে উঠলো। সাংবাদিক বান্ধব সরকারের সাংবাদিক বন্ধু তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তথ্যমন্ত্রী কথা শুনে  আমার বিশ্বাস জন্মালো প্রবীর সিকদারকে আর কেউ আটকে রাখতে পারবেন না। কারণ তথ্যমন্ত্রী নিশ্চয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করবেন । তিনি জানাবেন মুক্তিযদ্ধের স্বপক্ষের সাংবাদিকরা প্রবীর সিকদারের মুক্তির দাবিতে মাঠে।
হয়েছেও তাই । ১৯ আগষ্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের অনশন চলাকালে খরব আসলো প্রবীর সিকদারকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। আন্দোলনরত সকল সাংবাদিক আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠলেন। ৩ দিনের রিমান্ডের ১ দিন নাই যেতে ৫৭ ধারার মামলায় মুক্তি লাভ ? ভাই এর প্রতি বোনের ¯েœহ ছাড়া কি এমনটি সম্ভব?
আমি মনি করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুধু প্রবীর সিকদারের প্রতি সহানুভুতি দেখাননি তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সাংবাদিকদের প্রতি সম্মান ও সহানুভুতি দেখিয়েছেন । সেই সাথে তিনি এই বার্তাও সাংবাদিকদের কাছে পৌছে দিয়েছেন আত্মীয়ও থেকেও পরমাত্মীয় হলো সাংবাদিকরা ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে স্যালুট । এমনি ভাবে সাংবাদিকদের বোন হয়ে সাংবাদিকদের হৃদয়ে বেঁচে থাকুন চিরকাল ।


Spread the love