প্রিয়নবী সা.’র ঈদ উদযাপন

109
Spread the love

Atik Nogoriআতিকুর রহমান নগরী : ঈদ অর্থ আনন্দ, খুশি,উল্লাস। মুসলিম উম্মাহর দুটি খুশির দিন রয়েছে। ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আজহা। এ দু’টি দিবসই অত্যন্ত মর্যাদাশীল ও আনন্দময় । একমাস সিয়াম সাধনার পর আসে কাঙ্খিত ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য খুশির সওগাত নিয়ে। দীর্ঘ এক মাসের সংযম সাধনার শেষে সেই আনন্দময় উৎসব ঈদুল ফিতর সমাগত। ঈদ পবিত্র, ঈদ খুশির, ঈদ আনন্দের, ঈদ ক্ষমার, ঈদ প্রার্থনার। সব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে বুকে জড়ানোর দিন; সাম্য, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা, মিলনের দিন।
ঈদের প্রকৃত অর্থ কি? শুধু দামী পোশাক, রঙ্গিন জামা, হরেক রকম সুস্বাদু খাবার আর নানা ধরণের আনন্দ-উৎসবের নাম ঈদ নয়। আর ধনী গরিবের এক কাতারে নামাজই শুধু নয় তাদের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে আনাও ঈদের উদ্দেশ্য। ঈদের উদ্দেশ্য কি তা আল্লাহ তা’আলা নিন্মোক্ত আয়াতের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন ‘‘আর যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে পার এবং তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন, তার জন্যে তোমরা আল্লাহর মমত্ব-বড়ত্ব প্রকাশ কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞ হও।” (সূরা বাকারাঃ ১৮৫) এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হচ্ছে, ঈদের উদ্দেশ্য হল দুটি: ১. আল্লাহর বড়ত্ব মমত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা। ২. আল্লাহ যে নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা।
ঈদের প্রচলন: মুলত ঈদ ইসলামপূর্ব যূগেও বিভিন্ন জাতি বিভিন্নভাবে পালন করতো যা আমরা কুরআন-হাদিস ও ইতিহাস থেকে জানতে পারি। তবে সেগুলো সবই ছিল শুধু মাত্র আনন্দ-ফুর্তি আর খেলাধুলা। যেমনটি আবু দাউদ শরিফের বর্ণনায় এসেছে- মদীনায় যাওয়ার পর নবীজি সা. দেখলেন, সেখানকার লোকজন দুটি দিনকে উদযাপন করে খেলাধুলার মধ্য দিয়ে। নবীজি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ দুদিনের কী তাৎপর্য আছে? তারা বললো, আমরা জাহেলী যুগে এ দু দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ রাববুল আলামিন এ দু দিনের পরিবর্তে তোমাদের এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দুটি দিন দিয়েছেন। যা হল ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর। শুধু খেলাধুলা, আমোদ-ফুর্তির জন্য যে দু’টো দিন ছিল আল্লাহ তায়ালা তা পরিবর্তন করে এমন দু’টো দিন দান করলেন যে দিনে আল্লাহর শুকরিয়া, তাঁর জিকির, তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সাথে সাথে পরিমিত আমোদ-ফুর্তি, সাজ-সজ্জা, খাওয়া-দাওয়া করা হবে। হযরত ইবনে জারীর রা.’র বর্ণনা মতে, দ্বিতীয় হিজরিতে রাসূলুল্লাহ সা, প্রথম ঈদ পালন করেছেন। ঈদ আমাদের জন্য আল্লাহ রাব্বুলআ’লামিন প্রদত্ত বিরাট নিয়ামতের দিন। ইসলামী দিক নির্দেশনা অনুযায়ী যদি আমরা ঈদ ঊদযাপন করি তবে একদিকে যেমন ঈদের অনাবিল আনন্দে ভরে উঠবে আমাদের পার্থিব জীবন অন্যদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ধন্য হবে আমাদের পরকালীন যিন্দেগী। কিন্তু ঈদ উৎসবটির সত্যিকার তাৎপর্য যদি বুঝতে হয়, তাহলে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হলো নবীজি সা. এবং সাহাবাদের জীবনকে দেখা। তারা কীভাবে ঈদ উদযাপন করেছেন। অন্যদেরকে করার তাগিদ দিয়েছেন। আসুন, আমরা দেখি নবীজি এবং সাহাবাদের জীবনে ঈদ কেমন ছিল।
প্রিয় নবী সা.’র ঈদ উদযাপন: ঈদের দিন সকাল বেলায় চারপাশে ঈদ আনন্দের আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে, লোকজন আনন্দ ভাগাভাগি করছে, ছোট্র সোনামনিরা নতুন জামা গায়ে দিয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে। এসব কিছুই প্রিয় নবী সা. স্বচক্ষে অবলোকন করছিলেন। প্রত্যেকে ঈদ আনন্দে নিজ নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করছিল। তারা সকলেই চাইত তাদের নিজ নিজ অনুষ্ঠান সম্পর্কে যাতে বিশ্বনবী সা. অবগত হন। প্রিয় নবী সা.’র ভালবাসা ও সম্মানের খাতিরেই তারা এসব করেছিল।
এদিকে আখেরী নবী মুহাম্মদ সা.’র ঘরের অবস্থা সম্পর্কে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, আখেরী নবী মুহাম্মদ সা. ঈদের দিন আমার ঘরে আগমন করলেন, তখন আমার নিকট দুটি ছোট মেয়ে গান গাচ্ছিল। তাদের দেখে নবী সা.অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে পড়লেন। ইতোমধ্যে আবু বকর রা. আমার ঘরে প্রবেশ করে এই বলে আমাকে ধমকাতে লাগলেন যে, নবীজির কাছে শয়তানের বাশি? নবী সা. তার কথা শুনে বললেন, মেয়ে দুটিকে গাইতে দাও। অতঃপর প্রিয় নবী সা. অন্য মনস্ক হলে আমি মেয়ে দুটিকে ইশারা করলে তারা বের হয়ে গেল। অন্যদিকে হুজরার খুবই নিকটে আরেকটি অনুষ্ঠান হচ্ছিল, যার বর্ণনাও আয়েশা রা. এভাবে দিয়েছেন, ঈদের দিন আবি সিনিয়ার কিছু লোকজন লাঠি-শোঠা নিয়ে খেলাধুলা করছিল। নবী সা. হযরত আয়েশা রা. কে ডেকে বললেন, আয়েশা তুমি কী দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি আমাকে তাঁর পিছনে দাড় করিয়ে দিলেন, আমার গাল তাঁর গালের উপর রাখলাম। তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, হে বনি আরফেদা, তোমরা শক্ত করে ধর। এরপর আমি যখন ক্লান্ত হয়ে গেলাম তখন তিনি বললেন, তোমার দেখা হয়েছে তো? আমি বললাম জ্বি হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে এবার যাও। (বুখারী, মুসলিম)
নবীজির কামরার সন্নিকটে আরেকটি স্পটে ঈদ উপলক্ষে আরেকটি অনুষ্ঠান শুরু হল। কিছু বালক নবী সা.’র শানে উচ্চাঙ্গের ও মানসম্পন্ন কবিতা আবৃতি করতে লাগল। আয়েশা রা.বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন, ইত্যবসরে আমরা বাচ্চাদের চেচামেচি শুনতে পেলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দেখলেন হাবশিরা খেলাধুলা করতেছে আর ছোট ছোট শিশুরা তাদের চারদিকে হৈ চৈ করছে। তিনি বললেন, আয়েশা এদিকে এসে দেখে যাও। অতঃপর আমি এসে আমার থুতনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গর্দানের উপর রেখে তার পিছনে থেকে তাকাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন, তুমি পরিতৃপ্ত হওনি? তুমি কী এখনও পরিতৃপ্ত হওনি? আমি তখন তার নিকট আমার অবস্থান পরীক্ষা করার জন্য বলেছিলাম না এখনও হয়নি। হঠাৎ ওমর রা.’র আসলেন। সাথে সাথে লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। এ দৃশ্য দেখে রাসূল সা. মন্তব্য করলেন, আমি দেখলাম জিন ও মানুষ শয়তানগুলো ওমরকে দেখে পালিয়ে গেল। (তিরমিজি) তারা যে কবিতাগুলো আবৃতি করছিল তার অর্থ বুঝা যাচ্ছিলনা, কেননা তাছিল তাদের আঞ্চলিক ভাষায়। তাই নবী করীম সা. তাদেরকে অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। মুসনাদ ও সহীহ ইবনে হিব্বানে আনাস ইবনে মালেক রা.থেকে বর্ণিত, হাবশিরা নবী সা. এর নিকট এমন কিছু পাঠ করছিল যা তিনি বুঝতে পারেন নি। রাসূল সা. জিজ্ঞেস করলেন, ওরা কী বলছে? সাহাবীগণ বললেন, ওরা বলছে : মুহাম্মদ সা. সৎ ও নেককার বান্দা।
উপরোল্লেখিত আলোচনা থেকে আলেমগণ নিম্নবর্ণিত বিষয়াবলি উদঘাটন করেছেন:
১. পরিবারের সদস্যদের দেহ ও মন যেভাবে উৎফুল্ল হয় ঈদ মৌসুমে উদারতার সাথে তার আয়োজন করা শরীয়তসম্মত। সম্মানিত ব্যক্তি তার বয়স ও ষ্ট্যাটাসের দরুণ যদিও সে নিজে আনন্দ উৎসবে জড়িত হতে পারে না বটে। তার জন্য যা মানানসই সে তাতে যোগ দেবে। কিন্তু পরিবারের যেসব সদস্যের বয়স কম তারা স্বভাবগতভাবেই ঐসব খেল-তামাশার দিকে ধাবিত হয়। তাদের জন্য শরীয়তের সীমার ভিতর থেকে খেলাধুলা ও আনন্দ-ফুর্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
২. ঈদ উৎসবে আনন্দ প্রকাশ করা দ্বীনের একটি প্রতীক। এ কারণেই নবী সা. দুটি বালিকাকে গান গাইতে দেখে বারণ করেননি। শুধু তা-ই নয়, যখন আবু বকর রা. তাদের বাঁধা দিতে চাইলেন তখন তিনি আবু বকরকে নিষেধ করলেন।
অপর একটি রেওয়ায়েতে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আবু বকর প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদের দিন।
অন্য রেওয়ায়েতে আছে, ইহুদিরা যাতে বুঝতে পারে, আমাদের ধর্মেও আনন্দ-উৎসবের সুযোগ আছে। আর নিশ্চয় আমি উদার ও ভারসাম্যপূর্ণ আদর্শ নিয়ে প্রেরিত হয়েছি।
৩. স্ত্রীর প্রতি সদয় আচরণ এবং তাকে ভালবেসে কাছে টেনে নেয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কেননা নারী জাতিকে নরম হৃদয় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তার প্রকৃতিগত স্বভাবের প্রতি কেউ সাড়া দিলে সে সহজেই তার দিকে ঝুকে পড়ে। নবী সা. স্ত্রীদের ভালোবেসে কাছে টানার উত্তম দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। তার ঘর ছিল মুহাব্বত, ভালোবাসা, অনুগ্রহ ও পরস্পর শ্রদ্ধাবোধের উজ্জল নমুনা। হযরত আয়েশা রা.’র বর্ণনা, (আমার চোয়াল নবীর চোয়ালের সাথে মিশে গেল) দ্বারা স্ত্রীর প্রতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতটুকু আন্তরিকতা ছিল তা প্রকাশ পাচ্ছে, যা ঈদ উপলক্ষে বাস্তবায়িত হয়েছে।
৪. নবী করীম সা.’র সুউচ্চ মর্যাদা, তার ব্যক্তিত্ব ও সুমহান দায়িত্ববোধ থাকা সত্ত্বেও তিনি হযরত আয়েশা রা.’র মনে তৃপ্তিদানের জন্য দাড়িয়ে থাকার মাঝে পিতা-মাতা, ভাই-বন্ধু ও স্বামীদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। স্বামীগণ স্ত্রীদের আর পিতা-মাতা সন্তানদের মনোবাসনা পূরণ করার ব্যাপারে যদি এগিয়ে না আসে তাহলে স্ত্রী ও সন্তানদের মনে এর একটা বিরূপ প্রভাব পড়ে। যা তাকে মানসিক ও সামাজিক ভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলে।
৫. খেলাধুলায় ব্যস্ত হওয়ার সময় অবশ্যই শরীয়তের সীমারেখার ভিতর থাকতে হবে। কোন গুনাহে লিপ্ত হয়ে অথবা আল্লাহর বিধান নষ্ট করে কখনও খেলাধুলা করা যাবে না। আয়েশা রা.’র বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, আমি হাবশিদের খেলা দেখার সময় নবী সা. আমাকে আড়াল করে রেখেছিলেন। এ থেকে বুঝা যায় যে,,যে মেয়ে দুটো গাচ্ছিল তারা ছিল নাবালেগা। তাই প্রাপ্তবয়স্কা মেয়েদের গাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া গান গাওয়া তাদের পেশা ছিল না। তারা শুধু কবিতা আবৃতির মাধ্যমে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিল যা শরীয়ত বহির্ভূত ছিল না।
ইসলামে ঈদ: ইসলামে ঈদ কোন ব্যক্তি কেন্দ্রীক আনুষ্ঠানিকতার নাম নয়। তাই কিছু মানুষের আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে এর হক আদায় হবে না। বরং ঈদ হলো সমগ্র মুসলিম জাতির আনন্দ। শরীয়ত বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়েছে। সবচেয়ে কাছের মানুষ পিতা-মাতা থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সকলে মিলে আনন্দ উপভোগ করবে। এটাই শরীয়তের দাবি। ঈদুল ফিতরের দিন সকাল বেলা সকল মুসলমানের জন্য খাবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি আরো পরিস্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আর ঈদুল আজহার দিন কুরবানির ব্যবস্থা করেও তিনি ব্যাপারটি ফুটিয়ে তুলেছেন। পৃথিবীতে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন রীতি আদর্শ ফকির মিসকিনদের জন্য এমন ব্যাপকভাবে খাবার দাবারের আয়োজন করতে সক্ষম হয়নি।
তাই তো মুসলমানদের মধ্য থেকে মহান দানশীল ব্যক্তিবর্গ মানুষের প্রয়োজন মিটানোর ব্যাপারে খুবই গুরুত্ব দিতেন। ঈদ হলো আনন্দ, দয়া, ভালোবাসা ও মিল মুহাব্বতের আদান প্রদানের নাম। ইতিহাস স্বাক্ষ্য বহন করে, ঐ সকল মহামানবগণের আনন্দ পরিপূর্ণ হত না যতক্ষণ না তারা তাদের চারি পাশের ফকির ও অভাবী মানুষের প্রয়োজন মেটাতে না পারতেন। তাই তারা গরীব-দুঃখীকে খাবার খাওয়াতেন, তাদের মাঝে ঈদের জামা ও ঈদ সামগ্রি বিতরণ করতেন এবং তাদের পাশে এসে দাড়াতেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেয়া ও তাদের ইসলামের হাকীকত সম্পর্কে অবগত করানোর জন্য ঈদ একটি বড় ধরণের মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কালামে এর প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে ঐ সকল লোকের সাথে ভাল ব্যবহার করতে ও তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে নিষেধ করেন না যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেয়নি। (সূরা মুমতাহিনাহ ৮)
ইসলামে ঈদ একটি সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন পরিপূর্ণ প্রতীক। যা দেহ ও মনের প্রয়োজন মিটিয়ে দেয়। মাহে রমজান ও হজের মাসসমূহের ইবাদত বন্দেগির বাহক হিসাবে ঈদের আগমন ঘটে। ঐ সকল মাসের সব কয়টি ইবাদতই রূহের খোরাক যোগায়। এরশাদ হচ্ছে, তুমি বল : আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমত, এ নিয়েই তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। (সূরা ইউনুস : ৫৮)
আর শরীরের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে খেলাধুলা ও আনন্দ ফুর্তি ইসলামে বৈধ করা হয়েছে। আর এ কারণেই ঈদের দিনগুলোতে সিয়াম সাধনা হারাম করা হয়েছে। কেননা রোজা রেখে খানা-পিনা ছেড়ে দিয়ে ঈদ উদযাপন করা আদৌ সম্ভব নয়। হযরত আনাস রা.’র বর্ণনা এদিকেই ইঙ্গিত বহন করে। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখলেন ইহুদিরা দুটি দিন খেলা-ধুলা ও আনন্দ ফুর্তি করে। তখন তিনি বললেন : আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য এর চেয়েও উত্তম দুটি দিন নির্ধারণ করেছেন, তা হলো ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিন। (আবু দাউদ, নাসায়ী) আর এভাবেই মুসলিম উম্মাহ পরিপূর্ণ নেয়ামত কামেল শরীয়ত নিয়ে সয়ংসম্পন্ন হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে –
তোমার নিকট যে হক এসেছে তা বাদ দিয়ে তুমি তাদের অনুসরণ করো না, কেননা আমি তোমাদের সকলকে শরীয়ত ও বিধান দান করেছি। (সূরা মায়েদা : ৪৮)
অতএব, আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রিয়নবী সা.’র অনুপম আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শরিয়ত সমর্থিত পন্থায় ঈদ উদযাপন করি। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে সকল ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখকঃ প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট


Spread the love