ফখরুল ফের কারাগারে গয়েশ্বর-খোকাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা

57
Spread the love

102নিজস্ব প্রতিবেদক : হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আত্মসমর্পণ করার পর জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। পল্টন থানার নাশকতার তিন মামলায় ফখরুলের জামিন আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। জামিন নাকচ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে ফখরুলকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারে। নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপি’র আন্দোলনের মধ্যে জানুয়ারিতে গ্রেফতার হওয়ার পর সাত মামলায় ছয় মাস কারাগারে ছিলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল। স্বাস্থ্যগত কারণে আপিল বিভাগ অন্তর্বতীকালীন জামিন দিলে গত জুলাই মাসে মুক্তি পান তিনি; এরপর চিকিৎসা করাতে বিদেশে যান। বিদেশ থেকে ফেরার পর ফখরুলের আবেদনে তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। আত্মসমর্পণের আগে তিনি তিন মামলায় আরও সময় চাইলে গত সোমবার সে আবেদন নাকচ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবারের মধ্যে ফখরুলকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। সে অনুযায়ী বিকেলে তিনি হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিন মামলায় জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে হত্যা মামলায় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা গতকাল মঙ্গলবার অভিযোগপত্র আমনে নিয়ে তাদের পলাতক দেখিয়ে এ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৭ জানুয়ারির দিন ধার্য করেন আদালত। গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা, সালাউদ্দিন আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, হাবিবুর রহমান হাবিব ও শফিকুল ইসলাম বাদশা। ২১ জনের ব্যাপারে আইনজীবী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়। অন্যদিকে খোকাসহ ১৪ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ২০১৫ সালের ২০ মার্চ রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ মামুনুর রশিদ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ২১ জনকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর রামপুরা থানাধীন মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় বিএনপি-জামায়াতের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি পালনের সময় ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় মানসুর প্রধানিয়া নামে একজন মারা যান। ৩০ ডিসেম্বর ওই ঘটনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান ও সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ ৪৯ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এদিকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপি মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ দাবি জানান। সরকার মির্জা ফখরুলকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তাকে জামিন দেয়া উচিত ছিল কিন্তু সরকার তা করেনি বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মুখপাত্র। রিপন বলেন, মির্জা ফখরুল নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেছেন কিন্তু আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে ইতিমধ্যেই কয়েক দফা চিকিৎসা নিয়েছেন। এধরণের পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য আরো শঙ্কিত হলে সরকারকে দেশবাসী দায়ী করবেন। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল সৎজন মানুষ হিসেবে পরিচিত উল্লেখ করে বিএনপি’র এই মুখপাত্র বলেন, প্রত্যাশা করেছিলাম স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তিনি জামিন লাভ করবেন। আশা করি স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সুস্থভাবে বাঁচার সুযোগ দেবেন। মানবিক জায়গা থেকে দ্রুত মির্জা ফখরুলকে মুক্তি দেবেন। রিপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতির নামে অপরাজনীতি চলছে। সরকার শক্র শক্র খেলায় লিপ্ত। অকারণে বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদেরকে শক্র ভাবছেন। তিলে তিলে শেষ করে দেবেন এটা অমানবিক। সেই পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, অধ্যাপক আবদুল মান্নানের ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ বিএনপি’র অনেক নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে। মামলায় জর্জরিত নেতাদেরকে মুক্তি দিয়ে কারারুদ্ধ সব নেতা-কর্মীর মুক্তি দাবি করেন তিনি।


Spread the love