ফিরোজা বেগমের প্রথম প্রয়াণ দিবসে স্মরণসভা

110
Spread the love

image_2090_264357বিডিজাহান ডেস্ক : ফিরোজা বেগম উপমহাদেশের বরেণ্য ও কিংবদন্তী নজরুল সংগীতশিল্পী। তাঁর জন্ম ১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে। তার পিতা খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মাতা বেগম কওকাবুন্নেসা। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে এই মহান শিল্পী পরলোকগমন করেন। বরেণ্য এই শিল্পীর ১ম প্রথম প্রয়াণ দিবসে ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শুরুতেই ফিরোজা বেগমের ভাতিজি, শীষ্য ও নজরুল সংগীত শিল্পী সুস্মিতা আনিস স্মরণসভায় আগত সবাইকে স্বাগতম জানান। ফিরোজা বেগমের সহোদর আসাফউদ্দৌলা তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা শিল্পীর মর্যাদা রক্ষা করতে পারিনা, একটু ভালবাসা দিতে পারিনা। শিল্পীরা অর্থ, বাড়ি-গাড়ী চায়না, একটু ভালবাসা চায়। তিনি বলেন, তোমরা তাঁর গান শুনো, কেঁদো আর জেনো। তিনি ফিরোজা বেগমের নামে শিল্পকলা একাডেমীর একটি হলের এবং ফরিদপুর শহরের একটি ছোট্ট রাস্তারনামকরণ এর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করেন। ফিরোজা বেগমের আরেক সহোদর ও এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. আসিন উদ দৌলা বলেন, আপনাদের উপস্থিতি আমাদের বাধিত করেছে। আপনাদের স্মৃতিচারণ এবং শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন আমাদের অভিভূত করেছে। আপনাদের সবাইকে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। প্রয়াত ফিরোজা বেগম এর স্মৃতি ধারণ এবং তাঁর কর্মকান্ডের নিদর্শনগুলি সংরক্ষণ করা এবং তাঁর সাধনার ধারাবাহিকায় নজরুল সংগীত চর্চা ও জনপ্রিয়তার প্রচার এবং প্রসারের লক্ষ্যে আমাদের উচিত জাতীয় পর্যায়ে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা। সেই উদ্দেশ্যে আমি প্রস্তাব করছি যে, আসাফউদ্দৌলা কে আহব্বায়ক করে একটি কমিটি অবিলম্বে গঠন করা হোক। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফিরোজা বেগম ফাইন্ডেশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই কমিটিকে ৫০ লক্ষ টাকা প্রদান করা হবে বলে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। তিনি ফিরোজা বেগমের প্রতিভা এবং নিষ্ঠার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। আরেক সহোদর মোহাম্মদ মসিহ্ উদ দৌলা বলেন, একটটি বাক্যে ফিরোজা বেগমকে কিছুটা মুল্যায়ণ করা যায়। তা হল, ফিরোজা বেগম যেদিন মারা যান সেদিন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমাদের নজরুলের গানের পাখি উড়ে গেল। শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার ফিরোজা বেগমকে নিয়ে বলে, প্রতিটি শিল্পী অন্তরের ভেতরে বেদনা নিয়ে গান শুরু করেন। বেদনা ছাড়া শিল্পসাধনা হয়না।যাদের নান্দনিকতা বোধ আছে, উঁচু মাপের শিল্পীদের তাঁরা আজীবন স্মরণ করে যাবেন। বিটিভির সাবেক উপ-মহাপরিচালক মেনোকা হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বছরে অন্তত দু’দিন (ফিরোজা বেগমের জন্মদিন ও মৃত্যুদিন) যেন আমাদের মিডিয়া ফিরোজা বেগমের দু-চারটি অনুষ্ঠান প্রচার করে। সাদিয়া আফরিন মলি্লক তার বক্তৃতায় বলেন, ফিরোজা বেগম এর নামে যে ফাউন্ডেশন করা হল বা হচ্ছে, আমি অনুরোধ করবো এই ফাউন্ডেশন থেকে প্রতিবছর দেশের সেরা শিল্পীর পুরস্কার এবং বৃত্তির ব্যবস্থা করা হোক। স্মরণসভায় আরো স্মৃতিচারণ করেন মোস্তফা জামান আব্বাসী, শেখ সাদী খান, খালিদ হোসেন প্রমুখ।


Spread the love