ফুলছড়িতে এক মাসে প্রায় দেড়’শ বিঘা জমির পাটক্ষেত যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন

58
Spread the love

8ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার ফুলছড়ির যমুনার ভাঙনের ধারাবাহিকতায় উপজেলার কৃষকের পাটক্ষেত (সোনালি আঁশ) যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে।
এতে হতাশায় পড়েছেন ২ উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক। গোবিন্দ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খলিল (৬০) বলেন, পূর্বপুরুষের বিজড়িত বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় বোনারপাড়া ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামে অন্যের জমিতে টিনের চালা তুলে আছি। ৫ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলাম তার প্রায় ৩ বিঘা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।  এছাড়াও হলদিয়া ইউনিয়নের কানাইপাড়া এলাকায় গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমির পাটক্ষেত সহ আবাদি জমি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।  কানাইপাড়া গ্রামের কৃষক মজিবুর রহমান (৫৫) জানান, নদী ভাঙনের প্রতিরোধে সরকার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। শুধু টালবাহানা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন।
ফুলছড়ি উপজেলার ফজুলুপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন জালাল জানান, খাটিয়ামারি গ্রামে মাস দুয়েক আগে প্রায় ৫০ বিঘা জমির ভুট্টা ক্ষেত নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এবার কৃষকের পাটক্ষেত সহ আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। গত এক মাসে প্রায় দেড়’শ বিঘা জমির পাটক্ষেত যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে।  পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, চলতি বছরের মে মাসের শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে জরুরি এক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকায়। বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ হলদিয়া ইউনিয়নের কানাইপাড়ায় যমুনা তীরে স্থাপন এবং নিক্ষেপ করে কানাইপাড়া মাদরাসা ও হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বেশকিছু এলাকার ভাঙন ঠেকানোর জন্য।
ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, এই উপজেলার মানুষের প্রধান ফসল হচ্ছে পাট আর সেই পাটক্ষেত ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় যমুনা নদী ভাঙন বেড়েই চলছে। শুকনো মৌসুমে নদীর কাজ করে না বর্ষা মৌসুমে ১০ বস্তা ফেলে ১ হাজার বস্তার টাকা তুলে নেয়।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আ. ক. ম. রুহুল আমীন জানান, গত কয়েক দিনের ভাঙনের ফলে জেলার সাঘাটা উপজেলায় ব্যাপক হারে কৃষি আবাদি জমি নদীতে ভেঙে গেছে। যমুনা গর্ভে বিলীন হওয়া জমির পরিমাণ এখন জানানো সম্ভব হচ্ছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, ২৫৮ কোটি টাকায় একটি প্রজেক্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন পাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই প্রজেক্ট পাস হলেই এলাকায় স্থায়ী ভাঙন রোধ ও ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে।


Spread the love