বগুড়ার গোকুলে দাবিকৃত যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে হত্যা, আটক ১

150
Spread the love

এস আই সুমন,স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল পলাশবাড়ী মোন্নাপাড়া গ্রামে দাবিকৃত যৌতুক না পেয়ে আনজিলা আক্তার (২০) কে স্বামী ও তার পরিবার নির্যাতন ও বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ১ জনকে আটক করেছে। এলাকাবাসী ও সদর থানায় মামরা সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের গড়-মহাস্থান পূর্বপাড়া গ্রামের আজমল হোসেনের মেয়ে আনজেলা আক্তার(২০) এর সাথে ১বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ী মোন্নাপাড়া গ্রামের মজিবুর রহমানের পুত্র জিন্নাহ মিয়া(২৫) এর সাথে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়েতে কোন যৌতুকের কথা না থাকলেও বিয়ের পর থেকেই জিন্নাহ ও তার পরিবারের লোকজন আনজেলা ও তার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিল। মেয়ের সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে মহাস্থানহাটে ভ্রাম্যমাণ পানের দোকানী পিতা আজমল হোসেন যৌতুকও দেয়। সম্প্রতি আবারও মোটর সাইকেল কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে আনজেলার উপর অমানুষিক নির্যাতন করে জিন্নাহ ও তার পরিবার। যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আনজেলাকে গত ১০দিন পূর্বে অমানুষিক নির্যাতন করে জমিতে ঘাঁসমাড়াই বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ানো হয়। পরে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে জিন্নাহর পরিবার গভীর রাতে পিতা আজমল হোসেন কে মোবাইলে বলেন, আপনার মেয়ে অসুস্থ্য দেখতে হলে চলে আসেন। তখন পিতা আজমল হোসেন মনে করেন বরাবারের মতই যৌতুকের জন্য ডাকছেন। রাতে বিষয়টি তিনি আমলে না নিয়ে সকালে যাবে বলে মোবাইল ফোনে জানায়। পরের দিন সকালে আজমল হোসেন, তার পরিবারের লোকজন নিয়ে সেখানে গেলে মেয়ে জামাই জিন্নাহসহ তার পরিবারের লোকজন মেয়েকে বনসই(জিম্মায়) দিয়ে নিয়ে যেতে বলেন। একপর্যায়ে আনজেলার অবস্থা আশংকাজনক দেখে জিন্নাহর পরিবারর মৃত্যুর দ্বায়ভার এড়াতে তড়িঘড়ি করে সেখান থেকে বিদায় করে দেয়। সেখান থেকে অসুস্থ্য মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে এসে তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত শুনে দ্রুত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এবিষয়ে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ূন কবীর এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, এ ঘটনায় তার বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আগে একটা জিডিও করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এস আই বেদার উদ্দিন জানান,অভিযুক্ত জিন্নাহ বোন মর্জিনা বেগম(৩৫) কে আটক করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামী গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত আনজেলার অসহায় পরিবার ও এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত স্বাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবী জানান পুলিশ প্রশাসনের প্রতি।


Spread the love