বগুড়ার পীরগাছায় যৌন উত্তেজক উপকরণ মিশ্রিত অনুমোদনহীন কোমল পানীয়ের জমজমাট ব্যবসা

145
Spread the love

19 copyএস.আই সুমন মহাস্থান বগুড়া : হর্স ফিলিং আছে ? আছে। কত দাম ? পঞ্চাশ টাকা। কম হবে কি? না, কেনাই পড়তেছে পঁয়তাল্লশ। উল্লেখিত কথোপকথন একজন ক্রেতা ও দোকানদারের। যারা নিয়মিত হর্স ফিলিংস ক্রেতা ও বিক্রেতা ।
হর্স ফিলিংস আসলে কি : ব্যাপক কোন প্রচারণা নেই, তার পরও এত চাহিদা কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জানা গেল হর্স ফিলিংস বোতল জাত এক প্রকার কোমল পানীয় যাতে মিশ্রিত রয়েছে যৌন উত্তেজক উপকরণ। যা খেলে যৌন উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি এক ধরনের আলাদা ফিলিংস অনুভুত হয় বলে এক সেবনকারী জানান। হর্স ফিলিংস ছাড়াও আরো যেগুলি বিক্রি হয়  শুধু হর্স ফিলিংসই নয়। আরো বিভিন্ন নামে এসব কোমল পানীয় বিক্রি হয়। সবগুলোর কাজ ও প্রতিক্রিয়া প্রায় একই রকম বলে জানা যায়। হর্স ফিলিংস (এক ঘোড়া, দুই ঘোড়া ও তিন ঘোড়া মার্কা) ছাড়াও জিনসিন, হট ফিলিংসসহ বিভিন্ন নামে এসব উত্তেজক পানীয় বোতল জাত করে বিক্রি করা হচ্ছে।
যেখানে পাওয়া যায় : অধিক লাভ ও ব্যাপক চাহিদার কারনে সাধারণ পানের দোকান থেকে শুরু করে ছোট বড় মুদি খানার দোকান, বেকারীর দোকান, এমনকি খাবার হোটেলেও এসব যৌন উত্তেজক কোমল পানীয় পাওয়া যায় বলে বিশ্বস্তসুত্রে জানা যায়।
যারা কেনা : সাধারণত যুবক শ্রেণীর মানুষই এসব কোমল পানীয় এর ক্রেতা। তাছাড়াও অনেক উঠতি বয়সের অনেক তরুনেরাও এসব কোমল পানীয়ের প্রতি আসত্তি হয়ে পড়ছে বলে বিক্রেতা সুত্রে জানা যায়।
ব্যাপক চাহিদা : আকর্ষণীয় গেট আপ, আকৃষ্ট করার বিভিন্ন লেখনী, যেমন: ‘শুধুমাত্র প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য’ এবং সর্বোপরি ইহা সেবনে অতিরিক্ত যৌন উত্তেজনা বাড়ার কারনেই এর চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে বলে সেবনকারী ও বিক্রেতাদের নিকট হতে জানা যায়। তাছাড়াও যুব সমাজের নিকট ইহার কার্যকারিতার কথা প্রচার হওয়ায় অতি দ্রুত এসব কোমল পানীয়ের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া : এসব উত্তেজক কোমল পালীয়ের বোতলের গায়ে রঙ্গিন কাগজে বিভিন্ন প্রকার ফলমূলের ছবি সম্বলিত বেশ কিছু তথ্য দেয়া থাকলেও তাতে সেগুলি উপকরণ রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা ছাড়া বোঝার কোন উপায় নেই। এসব পানীয় সেবন করে চাহিদা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত বিশেষ ফল পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে ইহার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক খারাপ ফলাফল বয়ে আনবে বলে বিশেষজ্ঞগণ জানিয়েছেন।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেই : এসব পানীয়ের বোতলের গায়ে আটকানো লেবেলে কোটেশন দিয়ে লেখা ‘ ইহা কোন ওষধ নয় সম্পূরক খাদ্য মাত্র’। সাধারনত কোন খাদ্য দ্রব্যের বাজারজাত করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও তাতে লোগো ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব উত্তেজক কোমল পানীয়ের বাজারজাত করার ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন রয়েছে বলে জানা যায় নি।
এভাবেই দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় বগুড়ার পীরগাছা বন্দরে ও এর আশ পাশের এলাকায় এসব উত্তেজক উপকরণ মিশ্রিত কথিত কোমল পানীয়ের ব্যবসার মাধ্যমে এক শ্রেনীর মানুষ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে অনেক টাকার মালিক হচ্ছেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশের যুব সমাজ। যা মোটেও কাম্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন সমাজের সচেতন মহল।


Spread the love