বগুড়ার মহাস্থানগড় আধুনিকায়ন করা হচ্ছে ব্যয় হবে আট কোটি টাকা

186
Spread the love

mohasthan-gor-300x152বিডি জাহান ডেস্ক : বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়াতে দেশের ঐতিহাসিক বগুড়ার মহাস্থানগড়কে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এখানে আট কোটি টাকা ব্যায়ে বিভিন্ন অবকাঠামোসহ নানা প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যটকদের জন্য অবকাশ কেন্দ্র, হোটেল, বাংলো, কটেজ, রেস্তোরাঁ, রাস্তাঘাটসহ প্রতœ সম্পদ প্রদর্শনীর নানা ব্যবস্থা। ধংশযজ্ঞ প্রতœতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর জানায়, মহাস্থানগড় ঘিরে নতুন নতুন ইতিহাস উদঘাটিত হয়েছে। গত তিন বছরে মহাস্থানগড়ে প্রতœতাত্ত্বিক খননে গুপ্ত ও মৌর্য শাসনামলের বহু নিদর্শন পাওয়া গেছে। বগুড়াসহ উত্তর জনপদের বিস্তত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে পু সভ্যতার অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন। মহাস্থানগড় সেই সুপ্রাচীন সভ্যতার সুতিকাগার। প্রতি বছর এখানে প্রতœতাত্ত্বিক খননে পাওয়া গেছে গুপ্ত যুগের রাস্তা, বেষ্টনি প্রাচীর, মাজার সংলগ্ন এলাকায় আবাসিক কক্ষসহ বহু প্রাচীন নিদর্শন। খননে বেরিয়ে আসা প্রতœ নিদর্শন গবেষণা করে পাওয়া গেছে প্রাচীন সমৃদ্ধ ইতিহাসের প্রমাণ। তাদের মতে, ইতিহাসখ্যাত স্থানগুলো পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে। মহাস্থানগড়ের পাশাপাশি নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির ও বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ প্রত্মাঞ্চলেও পর্যটন ও অবকাশ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সাউথ এশিয়া ট্যুরিজম ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের সহযোগিতায় দেশের প্রাচীন ইতিহাসখ্যাত স্থানগুলো এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে গত ২০ এপ্রিল সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বগুড়ার মহাস্থানগড় ও নওগাঁর পাহাড়পুরে পর্যটন ও অবকাশ কেন্দ্র নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রতœতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ১১৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পে এডিবি ৮৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে। প্রকল্পের আওতায় পর্যটকদের জন্য থাকা-খাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি, স্থানীয় জনগণকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তৈরি এবং বিভিন্ন কুটির ও হস্তশিল্পের বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ট্যুরিস্ট গাইডদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক বাদরুল আলম জানান, মহাস্থানগড় ও পাহাড়পুর ও কান্তজিউকে বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মহাস্থানগড়কে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করা হয়েছে অচিরেই প্রস্তাবটি বিবেচনায় এনে বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃতি পাবে। তিনি বলেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এদেশে যত বিদেশি পর্যটক এসেছেন তার শতকরা ৫২ ভাগ পর্যটক বেছে নিয়েছেন দেশের উত্তরাঞ্চলকে। এজন্য এ অঞ্চলকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে পারলে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে।


Spread the love