বগুড়ায় এসএম জুয়েলের উৎপাদিত বালাইনাশক ও সারের চাহিদা বেড়েছে

146
Spread the love

image_2074_262193বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার সান্তাহার পার্শ্ববর্তী নতুন সাহাপুরের তরুণ উদ্যোক্তা এস এম জুয়েল। জুয়েল তার চেষ্টা, মেধা আর বুদ্ধি দিয়ে কৃষিখাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ব্যাপক চেষ্টা করছেন কৃষিতে আরও পরিবর্তন আনার। সেই সাথে কৃষি প্রকল্পগুলো যেন পরিবেশ বান্ধব অর্থাৎ রাসায়নিক মুক্ত হয় তার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বাজারে বহু জাতের রাসায়নিক কীটনাশক পাওয়া যায়। আর সেই কীটনাশক ছিটিয়ে প্রায় সকল কৃষকই ফসল থেকে পোকামাকড় দমন করেন। কৃত্রিম এই কীটনাশক যেমন মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি ক্ষতিকর পরিবেশের জন্যও। পরিবেশ বান্ধব চাষাবাদের ক্ষেত্রে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশকের কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই জৈব বালাইনাশকের কথা মাথায় এনে এস এম জুয়েল নিজেই এক খামার গড়ে তুলেছেন। সেই খামার হয়ে ওঠেছে জৈব সার আর বালাইনাশকের বিশাল এক ভান্ডার। তিনি তার খামারে তৈরি করছেন ট্রাইকো কম্পোস্ট, ট্রাইকো পাওয়ার, সাত দেশের কেঁচো দ্বারা তৈরি ভার্মি কম্পোস্ট, গার্ডেন কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট, ট্রাইকো লিকুইডসহ বিভিন্ন প্রকার জৈব সার ও বালাইনাশক। বাঁচার জন্য চাই রাসায়নিক কীটনাশক মুক্ত খাবার। শুধু নিজেই নয় বাঁচতে হবে সবাইকে। এই সস্নোগানে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এস এম জুয়েল।
পোকামাকড় দমনে প্রকৃতি থেকে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে জৈব বালাইনাশক প্রস্তুতে ব্যাপক জোর দেয়। আর এই বালাইনাশক পরিবেশ বান্ধব অর্থাৎ রাসায়নিক মুক্ত, দামে সস্তা আর হাতের কাছের উপকরণ দিয়ে প্রস্তুত করা যায়। বিভিন্ন বনজ উদ্ভিদ দিয়ে সহজেই এই জৈব সার ও বালাইনাশক প্রস্তুত করা হয়। বালাইনাশক প্রস্তুতে সাধারণত প্রয়োজন হয় মেহগনির ফল, নিম পাতা, বিষ কাটাল, নিশিন্দা, তুলসী পাতা ও গরু ছাগলের মূত্র। তার তৈরিকৃত বালাইনাশক ফসলের জমিতে সপ্রে করে অনেক কৃষক ব্যাপক উপকৃত হয়েছে। এছাড়া মাটির উর্বরতা, ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তিনি নিজস্ব ভাবনায় আর হাতের কাছের সব উপকরণ দিয়ে তৈরি করছেন ট্রাইকো কম্পোস্ট। সেই সাথে তৈরি করছেন রাসায়নিক মুক্ত ট্রাইকো পাওয়ার বা ট্রাইকো লিকুইড। ট্রাইকো পাওয়ার গাছের অতিরিক্ত পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে। আর এই ট্রাইকো লিকুইড পাওয়ার তৈরিতে প্রয়োজন হয় কচুরিপানা, মুরগির বিষ্ঠা, ডিমের খোসা, পশুর রক্ত ও হাঁড়ের গুড়া ও এক প্রকার অনুজীব (ট্রাইকো ডার্মা)।
বালাইনাশক তৈরিতে বেশির ভাগ উপকরণ স্থানীয় উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়। তাই খরচ পড়ে অনেক কম। আর এই কম খরচে রাসায়নিক মুক্ত বালাইনাশক কৃষকের হাতে তুলে দিচ্ছে এস এম জুয়েল। তাছাড়া তার খামারে দেশী এবং বিদেশী কেঁচো দ্বারা তৈরি করছেন ভার্মি কম্পোস্ট। তার তৈরি এই ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে অনেক কৃষক ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।
এস এম জুয়েল এর ফার্মের যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে। এখন তার প্রতিষ্ঠান এই খাতে ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছে। তিনি কৃষকদের কথা চিন্তা করে খুব অল্প সময়ে অল্প খরচে কৃষি জমির মাটি পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন করে দিচ্ছেন সর্বত্র। যেটি সরকারি খরচের চারভাগের এক ভাগ মূল্যে দাঁড়িয়েছে। তার কর্মপ্রচারণা একটাই সেটি হচ্ছে এদেশের কৃষি এবং কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখা। এস এম জুয়েলের প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত মাটি পরীক্ষার ল্যাবঃ দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ সুনাম ছড়িয়েছে। দেশের সতেরটি জেলায় এই মাটি পরীক্ষার ল্যাবঃ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। তার ইচ্ছে দেশের প্রতিটি জেলায় মাটি পরীক্ষার ল্যাবঃ স্থাপন করা। সেই লক্ষে গবেষণারত এই প্রতিষ্ঠানটিসহ বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ২ শতাধিক লোক তার ফার্মে কাজ করছে।


Spread the love