বগুড়ায় তিন দিনব্যাপী আন্তঃজেলা শিশুনাট্য উৎসব অনুষ্ঠিত

92
Spread the love

4.02বিনোদন ডেস্ক : ‘নাটক হোক শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী আন্ত:জেলা শিশুনাট্য উৎসব ২০১৫। শিশু নাট্যদলের অয়োজনে এবং এবি ব্যাংক’র সহযোগিতায় গত ২ অক্টোবর বগুড়ার উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে একঝাঁক শিশুদের সঙ্গে নিয়ে সুতায় গাঁথা ফুলের ফিতা কেটে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে শিশুশিল্পীরা গেয়ে ওঠে ‘আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে নইলে মোরা রাজার সাথে মিলবো কোন্ শর্তে, আমরা সবাই্ রাজা” শিশুদের কচিকণ্ঠে মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তনটি। এরপর প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য শেষে শুরু হয় শিশুদের কাঙ্খিত নাটক ‘বিনদিয়া’। আহমেদ শরীফের রচনা এবং ইমরান মুরাদ ও দিলীপ গৌর-এর যৌথ নির্দেশনায় সিরাজগঞ্জের নাট্য নিকেতনের শিশুরা অভিনয় শৈলীর মাধ্যমে চমৎকারভাবে ফুটে তোলে আদিবাসীদের জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত এবং আদিবাসীদের সংস্কৃতির নাটক ‘বিনদিয়া’। সমতলের শিশুরা তাদের অভিনয় দক্ষতর মাধ্যমে আদিবাসীদের গান, নাচ, কথা বলার ধরণ, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সব কিছুই নিখুঁতভাবে ফুটে ওঠে তাদের চরিত্রে। এরপর উৎসবের দ্বিতীয় নাটক শুরুর আগে উৎসবের আয়োজক সংগঠন বগুড়ার অন্যতম শিশু সংগঠন বগুড়া শিশু নাট্যদলের শিশুরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। অতঃপর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ও আব্দুল খালেক নির্দেশিত ‘রাজা ও রাজদ্রোহী।’ এ নাটকে শিশুদের প্রতিদিন বিকালের নানা রকম খেলার মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার জন্য সবাই একমত হলেও কে রাজা হবে- এ নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। তারা রাজনকে রাজা মেনে নিলেও নাটকের শুরু থেকে রাজার অন্যায় আদেশ মানতে প্রজারা রাজি হয় না, পরে রাজার সভাসদবর্গও প্রজাদের সাথে মিশে যায়। তারা সবাই রাজার বিপক্ষে অবস্থান নিলে শেষে রাজা প্রজাদের কাছে আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার শেষ হওয়ার সাথে সাথে নাটকের সমাপ্তি ঘটে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে সন্ধ্যায় প্রথমে উচ্চারণ একডেমী পরিবেশন করে ‘খুকি ও কাঠবিড়ালী’। উচ্চারণ একাডেমীর পরিচালক এড. পালাশ খন্দকার রচিত ও নির্দেশিত নাটকের শিশুশিল্পীরা চমৎকার অভিনয় করে। শিশু বয়সের প্রত্যাশা, অভিমান, ভালোবাসা, কষ্ট ও কিছু চেয়ে না পাওয়ার ক্ষোভের বহির্প্রকাশের ঘটনা সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। অতঃপর দ্বিতীয় নাটকটি পরিবেশন করে বগুড়া নন্দন শিল্পীগোষ্ঠী। বাংলার চিরায়ত লোককাহিনী অবলম্বনে রচিত ‘বনবাসে রূপবান’ নাটকটি শিশুদের দ্বারা অভিনীত হওয়ায় দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তৃতীয় নাটকটি পরিবেশন করে তাপসী রাবেয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এড. পলাশ খন্দকার রচিত ও নিদের্শিত ‘কল্পলোকের গল্প’। নাটকটিতে শিশু অধিকারের প্রায় প্রতিটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। শিশুশিল্পীরা অভিনয়ের দক্ষতাগুনে অধিকার বঞ্চিত শিশুদের প্রকৃত চিত্র ফুটে তুলতে সক্ষম হয়।
তিন দিনব্যাপী শিশুনাট্য উৎসবের শেষ দিন সন্ধ্যায় প্রথম নাটকটি মঞ্চস্থ করে থিয়েটার আইডিয়া। মান্নান হিরা রচিত ও সাদেকুর রহমান সুজনের নির্দেশনায় ‘সুখদৈত্য’ নাটকটিতে আমাদের সমাজের কিছু অশুভ দিক তুলে ধরা হয়েছে এবং অপশক্তির প্রতীক হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে মশা নামক পতঙ্গকে। শিশুশিল্পীরা অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় প্রতিটি প্রতীকী চরিত্র দর্শকশ্রোতাদের সামনে তুলে ধরে। উৎসবের সর্বশেষ নাটকটি পরিবেশন করে বগুড়া শিশুনাট্য দল। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা ও আব্দুল খালেকের নির্দেশনায় ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকে গ্রামবাংলার বুকে আজো গ্রথিত রয়েছে মেয়েশিশুদের যে খেলার সংস্কৃতি, সেই পুতুল খেলার মাধ্যমে শিশুশিল্পীরা অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সাবলিল অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছে আমাদের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ বাংলার চিত্র। পৃথিবীতে সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রে সকল মানুষই যে সমান ও এক। মানুষে মানুষে যে কোনো ভেদাভেদ নেই-এ চিরন্তন সত্যের মর্মকথার অপরূপ চিত্র তুলে ধরেছে শিশুরা তাদের কচিকণ্ঠে, নির্মল আনন্দের খেলাচ্ছলে।
তিন দিনব্যাপী শিশুনাট্য উৎসবের সমাপনি অনুষ্ঠানে সকল অংশগ্রহণকারী শিশু নাট্যদলের মধ্যে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এরপর শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে শিশুর কল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘চকলেট’ শিশু পত্রিকার সম্পাদক রকিবুল হক খান রতনকে ‘শিশুবন্ধু’ এবং শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের বিশেষ অবদানের জন্য চর্চা সাংস্কৃতিক একাডেমির পক্ষে পরিচালক আব্দুল আউয়ালের হতে সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেন।


Spread the love