বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

83
Spread the love

sakবগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত রেল লাইন এবং বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিশাল এক জনসভায় আজ বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনকালে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বগুড়া সফর। বিএনপি-জামাত জোট হরতাল অবরোধের নামে মানুষ হত্যা করেছে। বাসে-ট্রাকে পেট্রল বোমা মেরে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। নির্বাচনে না গিয়ে খালেদা জিয়া যে ভুল করেছেন তার খেসারত দিচ্ছে তার দলের নেতাকর্মিরা। সারাজীবন এই ভুলের খেসারত দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে আ’লীগ বগুড়ার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছে। বগুড়ার মানুষ নৌকায় ভোট না দিলেও আমরা বগুড়ার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। অথচ এই জেলার মানুষ যাদেরকে ভোট দিয়ে বারবার নির্বাচিত করে তারা উন্নয়নের পরিবর্তে মানুষ খুন করে। তিনি খুনীদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে বগুড়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামীলীগ যখন দেশের উন্নয়ন করছে তখন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে বিদেশে বসে বাংলাদেশে মানুষ খুন করে দেশের ভাবমূর্তি খুন্ন করছেন। বিএনপি নেত্রী ও তার ছেলে খুনী হিসেবে পরিচিত। দেশের মানুষ আর কখনো খুনীদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিবেনা। বগুড়ায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সাথে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, যমুনা নদীতে ড্রেজিংয়েরও প্রতিশ্রুতি দেন। তবে, বগুড়াবাসীর প্রানের দাবী বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন, একটি ফুটবল স্টেডিয়াম এবং প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের বিষয়ে কোন কথাই বলেননি প্রধানমন্ত্রী। বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ সামনা-সামনি লড়াইয়ে বিশ্বাসী। যে কারণে নির্বাচনে বিএনপি আহ্বান জানানো হয়েছিল অথচ বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের একদিন আগেও দেশে কোন নির্বাচন হবেনা। জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আলমাহমুদ স্বপন, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সমস্য হাবিবুর রহমান, আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন প্রমূখ। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে হত্যার রাজনীতি শুরু করে। তারা একের পর এক মানুষ হত্যা করে দেশটিকে সন্ত্রাসের রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরে। তারা আবারও ক্ষমতায় এসে এদেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিনত করতে চায় কিন্তু সেটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। বর্তমানে আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে আমাদের এই দেশ। তিনি আরো বলেন, আমরা বগুড়াকে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বগুড়ায় ব্যাপক হারে সবজি এবং ফসল উৎপাদিত হয়। আমরা এসব ফসলকে তাজা রাখার জন্য নতুন ধরণের প্রযুক্তিতে গড়ে তুলতে চাই বিশেষ হিমাগার। বগুড়া সেনানিবাস থেকে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে পৌঁছে ডিজিটাল বোর্ডের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৭’শ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১৫টি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপনের উদ্বোধন করেন। জনসভা উপলক্ষ্যে বগুড়া শহরে ব্যাপক লোকের সমাগম হয়। ২৫ হাজার লোকের ধারণ ক্ষমতার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় শহরের বিভিন্ন স্থানে বসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষন শুনেন। বগুড়া ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আ’লীগের নেতাকর্মীরা বাস-ট্রাকে চড়ে জনসভায় যোগদান করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় হেলিকপ্টার যোগে তিনি বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে অবতরন করে সেখানে সেনাবাহিনীর নির্ধারিত কর্মসুচি শেষে জনসভায় যোগ দেন। জনসভায় যোগদিতে আসা নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারন জনগনের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিলো। মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি টহল ছিলো চোখে পরার মত। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহরের সবগুলো মার্কেট এবং দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছিল। এছাড়া শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথার আশে পাশের হোটেল-রেঁস্তরাগুলোও বন্ধ ছিলো। ফলে জনসভায় আগত অসংখ্যক মানুষ খাবার ও পানি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। নিরাপত্তার জন্য জনসভাস্থল আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের আশে পাশে এবং সার্কিট হাউজের পাশের রাস্তা বন্ধ ছিলো। এসব রাস্তায় রিক্সাসহ কোন ধরনের যানবাহন চলতে দেয়া হয়নি।


Spread the love