বাঁশ দড়িতে জীবন বাঁধা চাটমোহরের ডুগাইর শিল্পীদের

136
Spread the love

mail.google.comইকবাল কবীর রনজু : পাবনার চাটমোহর পৌরসদরের নতুন বাজার খেয়াঘাট থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে বওশাঘাট সংলগ্ন গুমানী নদী পাড়ে অবস্থিত ছোট্র একটি গ্রাম চরসেন গ্রাম। এ গ্রামটির অনেক মানুষের জীবন যেন বাঁশ দড়িতে বাঁধা। বাঁশ দড়ি দিয়ে ডুগাইর (স্থানীয় ভাষায় দুয়ার, মাছ ধরার উপকরণ) তৈরী করে নদীর গভীর পানিতে পেতে রেখে মাছ ধরে হাট বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। সরেজমিন গ্রামটিতে গেলে চোখে পরে দুয়ার তৈরীর দৃশ্য। এ গ্রামের দুয়ার তৈরীর কারিগর সিরাজ আলী (৫৫) জানান, আড়াই থেকে তিন ফিট টুকরা করে তল্লা বাশ (স্থানীয় ভাষায় যাওয়া বাঁশ) কাটা হয়। সেগুলো চিরে চিকন চিকন করে শলাকা তৈরী করা হয়। রোদে হালকা শুকিয়ে চিকন নারিকেলের আশ থেকে তৈরী দড়ি অথবা লাইলন দড়ি দিয়ে বাধা হয় সেসব শলাকা। এর পর বাঁশের চাক দিয়ে গোলাকার করা হয়। পেছনের অংশ বাশের চটা দিয়ে আটকিয়ে দেয়া হয়। মাছ ঝাড়ার জন্য আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি ফাঁকা রাখা হয়;সে অংশে আলাদা চিকন রশি বেঁধে রাখতে হয়। এ অংশ খুলে মাছ বের করা হয়। সামনের অংশে মুখ বানা দেয়া হয়। মুখ বানার ভেতরে দুইটি পাড় দেওয়া হয়। মাছ এ পাড়ের ভিতরে গেলে আর বের হতে পারে না। দুয়ারের পিঠের উপরাংশ থেকে শেষ মাথা পর্যন্ত বাশের মোটা কঞ্চি সেটে বেঁধে দেয়া হয়। ৪/৫ হাত বানা তৈরী করে নদীর পাড় থেকে নদী বরাবর বানা পেতে এ বানার সাথে ৬/৭ হাত গভীর পানিতে দুয়ার পেতে রাখা হয়। কতদিন যাবত দুয়ার তৈরী করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে এ গ্রামের ময়েন উদ্দিনের ছেলে মোশারোফ হোসেন (৩২) জানান, ছোট বেলা থেকে আমার দাদা, বাবাকে দুয়ার তৈরী করতে দেখেছি। ১৪/১৫ বছর বয়স থেকে আমি নিজেও দুয়ার তৈরী করে আসছি। নদীর গভীর পানিতে পেতে রাখি। সকালে এবং দুপুরে দুইবার দুয়ার পানির নিচ থেকে উপরে তুলে মাছ ঝেড়ে নিয়ে আবার পেতে রেখে আসি। দশ বারোটা দুয়ার পাতলে প্রতিদিন গড়ে তিন’শ থেকে ৫শ টাকা মাছ বিক্রি করা যায়। কখনো কখনো অর্ডার পেলে দুয়ার তৈরী করে বিক্রি করি। প্রতিটি দুয়ার ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকায় বিক্রি হয়। এ গ্রামের হামদুল্লা, বক্কার, ফজলু, বাবলু, বাবু, মহর, মজিবর, মানিক, জানবক্স, হুমায়ন, রজব আলী, হামিদ, মনি, আলমসহ প্রায় শতাধিক মানুষ দুয়ার দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকে জানান, বাঁশ দড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন খরচ বেশি পরে। জৈষ্ঠ মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত নদীতে দুয়ার পাতা যায়। বাঁকি সময় তারা অন্য কাজ করেন। শুধু এ গ্রাম নয় এর আশপাশের গৌড় নগর, নটাবাড়িয়া, বিন্যাবাড়ি, বরদানগর, ছাইকোলাসহ অন্যান্য গ্রামের মানুষও এখন জীবিকা নির্বাহের জন্য দুয়ার শিল্পের উপর নির্ভরশীল হচ্ছেন।


Spread the love