বাংলাদেশের ৫০ বছর

44
Spread the love

অনলাইন ডেস্ক : ১৯৭১ সালে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ আজ পঞ্চাশ বছর পূর্ণ করল। পঞ্চাশের বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে দৃপ্ত পদক্ষেপে। আজ মহান স্বাধীনতা আর জাতীয় দিবসে শপথ নেওয়া হবে সেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার। আর মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত রাষ্ট্র গঠনের। আজ বাংলাদেশ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র দেশ নয়, সারাবিশ্বকে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল এক দেশ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রির বীভৎস বাঙালি নিধনযজ্ঞ চলাকালেই মধ্যরাতের পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু। আর সেই থেকেই ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি আমাদের হয়ে গেল। আজ সেই মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।
‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ মন্ত্রে দীক্ষা নিয়েই শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার পথে আমাদের পথচলা। আজকের দিনটি তাই বাঙালি জাতির জন্য এক গৌরব ও অহঙ্কারের। সবকিছু ছাড়িয়ে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাওয়ার দিন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর হয়ে যেসব বাঙালি তাদের প্রাণ আত্মাহুতি দিয়েছেন, যেসব মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার দিন।
তবে স্বাধীনতার সরাসরি ঘোষণা আসে ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর। রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পিলখানা, রাজারবাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে হামলার পর রাত পৌনে ১টার দিকে বঙ্গবন্ধু ইপিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে তার ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।
এবার বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি পালন করছে, দিনটির উৎসবে যুক্ত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ সারা দেশে প্রত্যুষে ৫০ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা এবং ঢাকা শহরে সহজে দৃশ্যমান ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে।
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ শুধু সকাল ৭টা থেকে ৯টা এবং বেলা একটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়া শিশুপার্ক, জাদুঘর থেকে শুরু করে সরকারি বিনোদনকেন্দ্রগুলো জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে আজ। বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করবে। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয় বাণীতে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণীতে বলেছেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহত করতে হবে। জাতীয় সংসদকে পরিণত করতে হবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে। এ জন্য সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানমালা উদ্‌যাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘গত ১২ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মর্যাদাশীল উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছে। এটা আমাদের জন্য এক বিশাল অর্জন।’
এ ছাড়া সারা দেশে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। আজ সূর্যোদয়ের সময় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবে একটি প্রতিনিধিদল। ২৮ মার্চ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। এতে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।


Spread the love