“বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন” শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান

156
Spread the love

Bnf-1শামসুল আলম স্বপন  : বাংলাদেশে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে এমন কথা বল্লে হয় তো অনেকেই অবাক হবেন । কেউ কেউ হয় তো ভাববেন নিছক আষাঁড়ে গল্প। যে দেশে দুর্নীতি এখন নীতিতে পরিনত হয়েছে সে দেশে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে এমন কথা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড বলে উল্লেখ করা হয় কিন্তু বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংস্থার রিপোর্টে দেখা গেছে বাংলাদেশে শিক্ষা বিভাগ সব চেয়ে দুর্নীতি গ্রস্থ । শেষ বিচারের মালিকের প্রতিনিধিত্ব করছেন যারা তাদের দুর্নীতির চিত্র দেখে পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারাও হাসেন। দেশে যখন দুর্নীতির মহোৎসব চলছে,  প্রতিটি ক্ষেত্রে যখন দুর্নীতি শেকড় গেড়ে বসেছে এমন এক সময় দেশের ১৬ কোটি মানুষকে আলোর পথের সন্ধান দিয়েছে “বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ)”। শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন নীরবে নিভৃতে দেশের আর্থিক অসচ্ছ্বল প্রায় ১ কোটি মানুষের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এমন একটি সুন্দর প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষই অজ্ঞাত। আমরা মনে করি “ বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ) সম্পর্কে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে অবগত করানো সাংবাদিক হিসেবে যেমন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব তেমন সোয়াবেরও কাজ বলে মনে করি।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস :
২০০৪ সালের ২রা ডিসেম্বর গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যাংকিং অনুবিভাগ অম/অবি/ব্যাংকিং/প্র:শা-৩/বিবিধ/২০০৩/২০১৪ নন্বর রেজুলেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা হয় “ বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ)”।
আইনগত ভিত্তি :
২০০৫ সালের ৪ঠা আগষ্ট “ বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ)” ১৯৯৪ সালের কোম্পানী আইনে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জয়েন্ট ষ্টক কোম্পানীজ এন্ড ফার্মস কর্তৃক নিবন্ধিত হয়।
যে পদ্ধতিতে কর্মসুচি বাস্তবায়িত হয় :
প্রায় ২শ কোটি টাকা সরকারি অনুদান নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন । বর্তমান লোকবল মাত্র ২৪ জন । এর মধ্যে একজন চেয়াম্যান ও একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক রয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান এ এফ এম ইয়াহিয়া চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক চন্দ্রনাথ বসাক । প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন ড.সাদত হুসাইন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন ড.মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ।
বিএনএফ সুত্রে জানাগেছে, ২০০৫, ২০০৭ এবং ২০১৩ সালে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য পত্রিকার মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। তাতে কয়েক হাজার দরখস্ত জমা পড়ে। সেখান থেকে যাচাই বাচাই করে ১৪১৬ এনজিওকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য সিলেকশন দেয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যে ৩০০ এনজিও’র কর্মকান্ডে  অস্বচ্ছতা ও গাফেলতি ধরা পড়লে তাদেরকে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন অনুদান প্রদান বন্ধ করে দেয়।
সততার কষ্টিপাথরে যাচাই করা বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের ২৪ জন মানুষের নেতৃত্বে বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় ১১১৬ এনজিও অসহায় নিপীড়ত দারিদ্রক্লিষ্ট মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১,৬৫ কোটি টাকা কর্মরত এনজিওদের মাঝে অনুদান হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে । তাতে প্রায় ৯৫ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে উপকৃত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ১১১৬ এনজিও’তে প্রায় ৭ হাজার মানুষের চাকরির সুযোগ হয়েছে । উপকারভোগীদের মধ্যে রয়েছে ৬৩ লক্ষ ৩৯ হাজার নারী এবং ৩১ লক্ষ ৬১ হাজার পুরুষ । এদের মাঝে ৩০টি কর্মসুচি চলমান । এ গুলো হলো-নারীর ক্ষমতায়ন,শিশু শিক্ষা,বয়স্ক শিক্ষা, আদিবাসী নারী ও শিশুদের উন্নয়ন,  সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন, হাঁস-মুরগী পালন,গোবাদী পশু ও ছাগল পালন, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন,স্বাস্থ্য সেবা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, সেলাই প্রশিক্ষণ ও দর্জি বিজ্ঞান, হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, মাদক প্রতিরোধ কর্মসুচি, মৎস্যচাষ, সামাজিক বনায়ন, নার্সারী প্রকল্প, তাঁত শিল্প,কুটির শিল্প,মৃৎ শিল্প, সবজি বাগান, ফল ও ফুল চাষ, মৌ মাছি পালন,ভেড়া পালন,ক্ষুদ্র ব্যবসা,নিরাপদ সড়ক, ড্রাইভিং,ব্যাগ ও টোঙা তৈরী প্রশিক্ষণ,সংস্কৃতি উন্নয়ন ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য।
সহযোগি সংস্থাদের অনুদান বিতরণের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বাংলাদেশ এনজিও ফাইন্ডেশন। সিডরে ক্ষতিগ্রস্থ ৭৩টি পরিবারের জন্য পাকা ঘরও করে দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান । জানা গেছে এই প্রতিষ্ঠানে ৩৮ জন পরিবীক্ষণ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদেরও সততা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই।
বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে পিওন থেকে চেয়ারম্যান পর্যন্ত সকলেই শতভাগ সৎ এটা কি ভাবে সম্ভব ?  এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহযোগি প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়ার সেবা সংস্থার উপ-পরিচালক এস,এম কে নাহার জানান, ২০০৭ সালে আমরা “আদিবাসী নারী ও শিশুদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন” শিরোনামে নিজেরাই হাতে লিখে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দিই। আমরা আগেই জেনে ছিলাম ওখানে তদ্বীর করা অপরাধ বলে বিবেচ্য। তাই কোন খোঁজ খবর নেইনি। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে চিঠি পেয়ে খুশিতে আত্ম-হারা হই এই কারণে যে, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন আমদের সংস্থাকে আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। তার কিছুদিন পর চিঠি পেলাম বাজেট প্রস্তাব পাঠানোর জন্য। ২ বছরের জন্য ৩ লক্ষ টাকার বাজেট পাঠালাম। চিঠি পেলাম চেক গ্রহন করার জন্য। চেক এনে আমরা যথারীতি কাজ শুরু করলাম। কাজ শেষে রিপোর্ট জমা দিলাম । এর কিছু দিন পর সংস্থা পরিদর্শনে আসলেন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের একজন পরীবিক্ষণ কর্মকর্তা । তাকে কোন আপ্যায়ন করতে পারলাম না। তিনি রিপোর্ট নিয়ে চলে গেলেন । তার কিছুদিন পর চিঠি পেলাম নতুন চেক গ্রহন করার জন্য। আশ্চর্য্যরে বিষয় চেক গ্রহন করা থেকে শুরু করে কোন ব্যাপারেই কাউকে একটি টাকা বকশিক দেয়া লাগেনি। ভাবতে অবাক লাগে বাংলাদেশে এটা কি ভাবে সম্ভব । এমন একটি মহৎ প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত।
কৌতুহল নিয়ে গত ১২ জানুয়ারী বিজয় নিউজ টুয়েন্টিফর ডটকমের পক্ষ থেকে আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক চন্দ্রনাথ বসাকের।
একটি প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা শত ভাগ দুর্নীতি মুক্ত এটা কি ভাবে সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বল্লেন, এটা মানষিকতার ব্যাপার। জাতির জনক সোনার বাংলাগড়ার স্বপ্ন দেখতেন । সোনার বাংলা গড়তে হলে প্রয়োজন সোনার মানুষের । বাংলাদেশ এনজিও ফাইন্ডেশনে যারা চাকরি করেন তাদেরকে যাচাই-বাচাই করেই চাকরি দেয়া হয়েছে। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশেকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা এবং অসহায় মানুষকে সেবা দেয়া। আমরা মনে করি মানুষ মানুষের জন্য । মানুষের কল্যাণ করাই মানুষের ধর্ম হওয়া উচিৎ। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ মানুষকে সুখ কিম্বা শান্তি দিতে পারে না এটা আমরা বিশ্বাস করি। এ সমাজে ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছেও । অপরের সম্পদ অন্যায় ভাবে কুক্ষিগত করে কেউ সুখি হয়নি কোন দিন। তিনি বলেন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে যেখানে কোন অসৎ মানুষ আসলেও পরিবেশের কারণে সৎ হতে বাধ্য । তিনি বলেন আমি গর্বিত যে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের মত একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ পেয়েছি। তিনি আরো বলেন এ প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্গ কিন্বা বেহেস্ত অর্জন করা সহজেই সম্ভব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের দুই কর্মকর্তা মো: শাহারীয়া পারভেজ ও মোস্তফা কামাল ভুঁইয়া । খোঁজ জানাগেছে এ প্রতিষ্ঠানে গাড়ির সংখ্যা মাত্র ৪টি। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১০টি অত্যাধুনিক যানবাহন থাকলে তাঁরা আরো সেবা দিতে পারতো।
সততার পুরষ্কার দিবে সাকফা :
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সকল কর্মকর্তার সততার কথা জানতে পেরে সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সাকফা) প্রতিষ্ঠানটিকে সততার পুরষ্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ব্যাপারে সাকফা’র চেয়ারম্যান ড.মু.জানে আলম রাবিদ বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনেক সৎ ব্যক্তি আছেন । কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি শতভাগ সৎ এটা বিরল। তাই আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে সততার পুরষ্কার দিতে চাই। এ বছরের মাঝা মাঝি সময়ে এ পুরষ্কার দেয়া হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সকল সংবাদ জনস্বার্থে প্রচার করার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধান মন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রস্তাবনা :
বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের প্রস্তাবনা  যেহেতু বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন একটি শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান সেহেতু এই প্রতিষ্ঠানকে পর্যাপ্ত পরিমাণ অনুদান সহায়তা দিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণ করার সুযোগ দিবেন। এ প্রত্যাশা দেশের জনগনেরও ।

প্রতিবেদক:

শামসুল আলম স্বপন
সম্পাদক
বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম
সভাপতি
বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন (বনপা)
মোবা : ০১৭১৬৯৫৪৯১৯


Spread the love