বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কে আসছে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে

91
Spread the love

bd 7আবুল বাশার মিরাজ,বাকৃবি : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে নতুন কমিটি গঠনের জন্য গত ১১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি দল ক্যাম্পাসে এসে নতুন কমিটিতে পদ পেতে আগ্রহী নেতাকর্মীদের কাছ থেকে  জীবনবৃত্তান্ত জমা নিয়েছেন। এসময় নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহী প্রায় ৪৩ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। সভাপতি পদের জন্য লবিং করছেন নেত্রকোণার মো. রুবেল মিয়া। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ এগ্রিবিজনেস এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে এমবি এ কোর্সে অধ্যায়নরত। সে গত ২০১২ সালের আজাদ-ইমন কমিটিতে অর্থ সম্পাদক হিসেবে পদ পেলেও বিগত বাবু-সাইফুল কমিটিতে পদ বঞ্চিত ছিলেন। ছাত্রলীগ এই নেতা রাব্বী হত্যাকান্ড মামলার ১৪ নম্বর আসামী সহ আজাদ-ইমন কমিটির বিভিন্ন অরাজকতায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কৃত ও হয় সে। ফরিদপুরের সবুজ কাজীও সভাপতি পদের জন্য দৌড়-ঝাঁপ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন ছাত্র রাজনীতি করলেও তার বিরুদ্ধে মাদকের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সে কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগে এমএস অধ্যায়নরত। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত থাকা ওই নেতা গত ২০১২ সালের আজাদ-ইমন কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থাকলে কোন পদ পাননি বাবু-সাইফুল কমিটিতে। এদিকে সভাপতি পদের জন্য অন্যদের মত এগিয়ে বগুড়ার এস এম রায়হান। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়রত উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ নেতাকর্মীই তার অনুসারী। নিজের অনুসারীদের কাছে জনপ্রিয়তা থাকলেও তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা শিক্ষক মহলের। ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী লাঞ্চনার মত ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সে রাব্বী হত্যাকা-ের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কৃত হয়। সভাপতি পদে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন নেত্রকোনার আরিফ মাহমুদ। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও গ্রুপিংয়ের ফাঁদে পড়ে ছাত্রলীগের বিগত কমিটিগুলোতে কোন পদ পায়নি। সভাপতি পদের জন্য লড়ছে বিগত শাখা ছাত্রলীগের বাবু-সাইফুল কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রাঙামাটির অর্পি হাওলাদার। সে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিনের বাড়ি ভাংচুরের ঘটনার আসামি। বাবু-সাইফুল কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আহমেদ সভাপতি পদের জন্য জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সকল কুকর্মের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সভাপতি পদে লড়ছেন কৃষি অনুষদ ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামালপুরের ফয়সাল ইসলাম জয়। সাদ হত্যা মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামী হওয়ায় ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কৃত হয়। এদিকে সভাপতি পদের জন্য লড়ছেন আনোয়ারুল ইসলাম, বাবু-সাইফুল কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম অপু, মনিরুল হাসান পলাশ, নাশিদ কামাল কিরণ প্রমুখ। অন্যদিকে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য জীবন বৃত্তান্ত জমা পড়েছে সভাপতি পদের দ্বিগুণেরও বেশি। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছে রংপুরের খন্দকার তায়েফুর রহমান রিয়াদ। কৃষি অনুষদের ছাত্র সমিতির সহ-সভাপতি। সে শাখা ছাত্রলীগের আজাদ-ইমন কমিটির উপ-অর্থ সম্পাদক ও বাবু-সাইফুল কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদে ছিল। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজী বিভাগের এম.এস শিক্ষার্থী। ময়মনসিংহের রাহাদুজ্জামান আকন্দ সাধারণ সম্পাদক পদে লবিং করছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জামাল হোসেন হলের সাবেক সভাপতি ও ভেটেরিনারি অনুষদের শারীরবিদ্যা বিভাগের এম.এস শিক্ষার্থী। সাধারণ সম্পাদক পদে ময়মনসিংহের সজল মোস্তাক ইভান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের শেষবর্ষের ওই নেতা বিগত বাবু-সাইফুল কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক পদধারী ছিল। এদিকে ক্যাম্পাসে চেইন (শিকল) প্রিন্স খ্যাত আজহারুল ইসলাম প্রিন্সও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছে। বিগত আজাদ-ইমন কমিটির সকল নেতিবাচক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল প্রিন্স। ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মী রাজশাহীর রাব্বি হাসান অপুও সাধারণ সম্পাদক পদে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছে। সে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদকের পদে ছিল । সে ক্যাম্পাসে বিগত বাবু-সাইফুল কমিটির ঈশা খাঁ হল কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিল। এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন শামীমা নাসরিন প্রিয়া। তিনি ভেটেরিনারি এসোসিয়েশনের নেতা ছিলেন। সে ভেটেরিনারি অনুষদের ফার্মাকোলজি বিভাগের এম এস শিক্ষার্থী। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছে আতিকুর রহমান, এনাম আহমেদ, নূরে আলম তপন, নাঈম হোসেন, আল-আমিন, মাঈনুদ্দীন রুবেল আনিসুজ্জামান জনি প্রমুখ। এদিকে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগে ক্লীন ইমেজধারী বৈধ শিক্ষার্থীদের নিয়েই শাখা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। শীঘ্রই কমিটি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির সঙ্গে বিরোধের জেরে গত ৬ সেপ্টেম্বর বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরে ৬ অক্টোবর ময়নসিংহ জেলা কমিটিসহ বিশ্বদ্যিালয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।


Spread the love