বাগমারায় আনছার ভিডিপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ

58
Spread the love

নাজিম হাসান রাজশাহী থেকে : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে আনসার-ভিডিপি সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আনসার ভি.ডি.পির মহিলা (টি.আই) অফিসার নার্গিস আক্তারের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৭ মে ¯হাগিত হওয়া ইউপি নির্বাচনে নিয়োগকৃত হাজার হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষাধিক টাকা অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আনসার সদস্যরা টাকা ফেরত পেতে এবং এই অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে ঢাকা আনসার-ভিডিপির মহা-পরিচালক বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। এলাকাবাসী ও আভিযোগ সুত্রে জানাগেছে গত ৭ মে ইউপির অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি আনসার-ভিডিপির সদস্যদের ডিউটি পালনের জন্য বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ১৪৫ টি ভোট কেন্দ্রের অনুকূলে ১৭ জন করে মোট ২৪০০ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য নিয়োগ প্রদান করা হয়। এরই ফলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ১৫ দিন আগে ১৪৫,টি গ্রপের মধ্যে ২৪,টি গ্রপের প্রতিটি সদস্যের কাছ থেকে নার্গিস আক্তার ডিউটি পালনের সুযোগ করে দেয়ার কথা বলে ৫০০ টাকা থেকে ৬০০/৭০০ টাকা নিজেই হাতিয়ে নেন। এবং প্রত্যেক আনসার-ভি.ডি.পি সদস্যাদের ট্রেনিং এর জন্য ভি.ডি.পি ২১দিনের ট্রেনিং এর সাত হাজার থেকে দশ হাজার টাকা ও সাধারন আনসার ট্রেনিং এর জন্য আশি থেকে এক লক্ষ টাকা করে অর্থ বাণিজ্যে করেন তিনি। এছাড়াও টি.আই অফিসার নার্গিস আক্তার তাহেরপুর ও ভবানীগন্জ পৌরসভার ওয়ার্ড আনসার দলোপতি ১জন প্রতি মাসে ভাতা বাবদ এক হাজার টাকা প্রতি তিনমাসে তিন হাজার টাকা পান। কিন্তু নার্গিস আক্তার সেখানোও বাটা কাটেছে ৫শত টাকা। আবার অনেকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েও তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এদিকে আনসার ও ভিডিপি সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষাধিক টাকা ফেরত পেতে সদস্যেরা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি দপ্তরে নার্গিস আক্তারের কাছে বার বার ধরনা দিয়ে তারা টাকা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে গত ০৫-০৬-২০১৬ ইং তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ আনসার-ভিডিপির মহা-পরিচালক বরাবর প্রেরন করেন। অভিযোগে আরো জানা যায়, আনসার-ভিডিপি অফিসার নার্গিস আক্তার এই নিয়োগের বিপরীতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষাধিক টাকা অর্থবাণিজ্য করেন। এ ছাড়া তিনি প্রতি বছর পৌরসভা ও ইউপির নির্বাচনে আনসার-ভি.ডি.পি সদস্যাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যে করে আসছেন। নার্গিস আক্তার ১৯৯৩ সালে বাগমারা উপজেলা আনসার-ভিডিপির টি.আই পদে যোগদান করে লাখ লাখ ঘুষ বাণিজ্যে করে এসেছে। এছাড়া দিঘদিন ধরে বাগমারা উপজেলা টি,বি.টিও পদশন্য থাকার সুবাধে টি.আই অফিসার নার্গিস আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ওই কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করেন না। এবং আনসার সদস্য ও ভিডিপি সদস্যাদের সাথে অশালীন ব্যবহার করেন তিনি। আনসার সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, প্রত্যেকবার নিয়োগের সময় সাংবাদিক ও রাজশাহী জেলা উপরওয়ালাদের মোটা অংকের টাকা দিতে হবে এবং আমাদের কিছু নাস্তা পানির খরচ আছে এই বলে হাজার হাজার টাকা তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন তিনি। তার কাছে সাধারণ সদস্যরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তার ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না। এবিষয়ে ওই আনসার ও ভিডিপি মহিলা কর্তার কাছে গতকাল বুধবার বিকেলে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন অফিসে এসে কথা বলেন। এ প্রতিবেদক জবাবে বলেন আপনার অফিসের সামনে রয়েছি এবং তিনি উত্তরে বলেন আগামীকাল অফিসে এসে কথা বলবেন। এ ব্যাপারে জেলা আনসার-ভিডিপির কমন্ড্যান্ট আশফুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান টাকা-পয়সা ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে আমি কেছু জানিনা। তবে আনসার সদস্যরা যদি মহা-পরিচালকের কাছে অভিযোগ করে থাকেন তাহলে তিনিই অর্থ বাণিজ্যের তদন্ত করবেন।


Spread the love