বাগমারায় জনপ্রিয় হচ্ছে পোকা দমনের আলোক ফাঁদ

34
Spread the love

নাজিম হাসান,রাজশাহী থেকে : পদ্ধতি পুরাতন হলেও এলাকার কৃষকরা এখন এটি ব্যবহারে প্রতি ঝুকে পড়েছে। পরিবেশ বান্ধব এবং অল্প খরচে পোকা দমনের এই পদ্ধতিটি এখন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা কৃষকের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। এক কৃষকের দেখাদেখি আশেপাশের কৃষকরাও এখন আলোর ফাঁদের উপকরন সংগ্রহ করে তাদের জমিতে স্থাপন করছেন। উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, আলোক ফাঁদ দিয়ে পোকা দমন এটি পুরাতন পদ্ধতি। কষ্টনসাধ্য এই পদ্ধতিতে পোকা দমন করতে কৃষক তেমন আগ্রহী ছিল না। তারা কীটনাশক দিয়ে পোকা দমন করতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ করত। এ জন্য বাজারে বিভিন্ন কোম্পানীর নামিদামি কীটনাশকের ছড়াছড়ি। এসব কীটনাশকের ছড়াছড়ি থাকলেও কৃষক এখন আর সেদিকে ঝুকছে না। কীটনাশকের অনেক কুফল। এটি পরিবেশ ও মানব দেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতির কারনগুলো কৃষক উপলদ্ধি করায় তারা এখন প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমনের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠছে। কালিসপুর গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন, আব্দুল জব্বার সহ ৫/৬ জন কৃষক জানান, তারা বেগুনের ক্ষেতে আলোক ফাঁদ পদ্ধতি প্রয়োগ করে বেশ সুফল পাচ্ছেন। বাজারে আলোক ফাঁদের জন্য একটি চার্জার ও লাইট খুব অল্প মূল্যে পাওয়া যায়। এই লাইটের নীচে একটি পাত্রে সাবান বা কেরোসিন মিশ্রিত পানি রাখতে হয়। পোকাগুলো ওই আলোতে এসে পরে পানিতে পড়ে মারা যায়। এছাড়া বাড়ির আশেপাশের ক্ষেত হলে সেখানে বৈদ্যতিক বাল্বের সাহায্যেও এই আলোক ফাঁদ তেরি করা সম্ভব। মাড়িয়ার কৃষক লুৎফর রহমান জানান, তিনি এবার বিশ শতক জমিতে বেগুন আবাদ করেছেন। এই বেগুন ক্ষেতের পোকা দমনের জন্য তিনি আলোক ফাঁদ পদ্ধতি প্রয়োগ করে বেশ সুফল পাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত বেগুন ক্ষেতে কোন কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়নি এবং বেগুন ক্ষেতে কোন পোকাও ধরেনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, আমরা কৃষকদের পোকা দমনের জন্য আলোক ফাঁদ সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বনের জন্য পরামর্শ ও সহযোগিতা করে থাকি। এভাবে পোকা দমন পরিবেশ ও মানব দেহের জন্য কল্যানকর।


Spread the love