বাগেরহাটে ভ্যানচালক হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

128
Spread the love

Law_373272961বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটে এক ভ্যান চালককে হত্যা করে তার ভ্যান লুট এবং লাশ গুম করার চেষ্টার অভিযোগে আদালত চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। বাগেরহাট জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান গতকাল বুধবার দুপুরে এই আদেশ দেন। একই সাথে আদালত তাদের প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। দন্ডপ্রাপ্ত চার জনের মধ্যে তিন জন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
নিহত ভ্যানচালকের নাম জাকারিয়া বেহারা। সে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শ্রীকলস গ্রামের জাহাঙ্গীর বেহারার ছেলে। ২০০৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তরা তাকে ভ্যানসহ ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ গ্রামে এনে হত্যা করে।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলো বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কাষ্ঠবাড়িয়া গ্রামের এনামুল মোল্লা (২০), আল আমিন শেখ (২১), জাহিদ গাজী (২৩) এবং একই উপজেলার খাজুরা গ্রামের এখলাস ওরফে আসাদুল কবির (২৩)। এদের মধ্যে আল আমিন শেখ পলাতক রয়েছে।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে জাকারিয়া বেহারা আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি পিলজংগ গ্রামের পশ্চিমপাড়ার একটি খেজুর বাগান থেকে স্থানীয়রা জাকারিয়ার লাশ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ওই দিন রাতে নিহতের মা শরীফা বেগম বাদী হয়ে ফকিরহাট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা তদন্ত করতে গেয়ে ফকিরহাট থানাপুলিশ খাজুরা গ্রামের জনৈক আওয়াল শেখের বাড়ি থেকে ভ্যানরিক্সাটি উদ্ধার করে। পরে আওয়াল শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে হত্যাকারী ও হত্যার কারণ চিহ্নিত করা হয়। এই ঘটনায় ফকিরহাট থানার উপ-পরিদর্শক ইশারাত হোসেন ২০০৯ সালের ১৩ আগস্ট আওয়াল শেখসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলা চলাকালীন সময়ে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আওয়াল শেখ নামে এই মামলার এক আসামি নিহত হয়। বাগেরহাট কারাগারে আটক অবস্থায় চলতি বছরের গত ৯ আগস্ট বেলাল শেখ অসুস্থ হয়ে মারা যায়। আদালত মৃত ওই দু’জনকে বিচার প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়ে এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার শুনানিকালে আদালত ১২ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন।


Spread the love