বাঘায় ঐতিহাসিক ঈদ মেলার আগাম ইজারা এবার ২৬ লাখ

64
Spread the love

রাজশাহী থেকে নাজিম হাসান : রাজশাহীর বাঘায় প্রতিবারের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক ঈদ মেলা। প্রায় পাঁচশ বছর ধরে শাহী মসজিদ ও মাজার এলাকায় এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ন করে গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ মেলাটি ইজারা প্রদান করেছে মাজার কর্তৃপক্ষ। মাত্র ১৫ দিনের জন্য এ মেলাটি এবার ইজারা দেয়া হয়েছে ২৬ লক্ষ টাকা। ঈদের দিন থেকে এ মেলা শুরু হবে। কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের জন্য মেলার ইজারা দিলেও এটি চলবে মূলত মাসব্যাপী। এ বছর এই মেলার জন্য ৮ লক্ষ টাকা বিডি জমা দিয়ে উন্মুক্ত ডাকে অংশ নিয়েছেন ১১ জন ব্যবসায়ী। তবে সর্বোচ্চদরদাতা হিসেবে মেলা পেয়েছেন পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান। সূত্রে জানা গেছে, গত বছরও তার নামে এ মেলাটি ইজার সম্পূর্ন হয়েছিল সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকায়। মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসবে লাখ-লাখ মানুষ। এ মেলা মূলত মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হলেও সব সম্প্রদায়ের মানুষই মেলায় আসেন। মেলাকে ঘিরে দোকানিরা তাদের পসরা সাজিয়ে বসবেন। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসবকে কেন্দ্র করে এতবড় মেলা দেশের অন্য কোথাও হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। মেলায় পাওয়া যাবে, সব ধরনের মিষ্টি,বাচ্চাদের খেলনা,মনোহারি সামগ্রী, লোহজাত দ্রব্য, কাঠের সামগ্রী-আলনা,চেয়ার, টেবিল,খাট-পালঙ্ক,মাটির হাড়ি-পাতিল, সদরঘাটের পান, কসমেটিকসহ বিভিন্ন রকমের খেলনা জাতীয় পণ্য। এ ছাড়াও হজরত শাহদৌলার মাজার এলাকায় গেলে দেখতে পাওয়া যাবে ফকিরদের উপস্থিতি। যারা সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জিকির মাহফিল ও সামা কাওয়ালী গান-বাজনা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। মেলার ইজারায় সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চেয়ারম্যান শফিউর রহমান শফি , বাঘা পৌর মেয়র ও আ’লীগ নেতা আক্কাস আলী, বাঘা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর মিয়া, মাজার কমিটির মাতোয়াল্লী খন্দকার মনসুরুল ইসলাম, বাঘা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মর্কর্তা (ওসি) আলী মাহামুদ-সহ মাজার কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য প্রায় ৫ শ বছর পূর্বে বাগদাদ থেকে হজরত শাহদৌলা (রাঃ) পাঁচজন সঙ্গীসহ বাঘায় এসেছিলেন ইসলাম প্রচারের জন্য। বসবাস শুরু করেন রাজশাহী শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিন কোণে পদ্মা নদীর তীরের কসবে বাঘায়। বাদশাহ নাসির উদ্দিন সে সময় তাঁর জন্য এখানে বিশাল একটি মসজিদ তৈরি করেন। নাম দেন শাহী মসজিদ। মসজিদের পাশেই আছে ৫২ বিঘা জমির উপরে খননকৃত বিশাল আকারের শাহী দিঘি। কথিত আছে, মনোবাসনা পূর্ণের জন্য মানুষ ঈদের সময় সেই দিঘিতে গোসল করতে আসেন। প্রচলিত আছে, ওই সময় থেকেই বাঘায় অনুষ্ঠিত হয় বিশাল আকারের ঈদের জামায়াত। সেই সাথে সু-বিশাল এলাকা জুড়ে ঈদ মেলা।


Spread the love