বাজারেও আসতে শুরু করেছে শীতের সবজি সীম পালং চাষে কৃষকের সাফল্য

103
Spread the love

74kখুলনা প্রতিনিধি : বৈশাখ-কার্ত্তিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বৃষ্টি। গত দশ বছরে বৃষ্টির সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে এ বছর। অতিবৃষ্টির মধ্যেও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার দেড় শতাধিক গ্রামের চাষিরা সীমের আগাম আবাদ করেছে। আবাদী জমির পরিমাণ ৪শ’ হেক্টর। ইতোমধ্যে ওই সীম বিক্রি করতে শুরু করেছেন কৃষকরা। দশ কোটি টাকা মূল্যের সীম বিক্রি হবে বলে কৃষকরা আশাবাদী। বাজারেও আসতে শুরু করেছে শীতের সবজি সীম। চাষিদের প্রথম চালান রাজধানীতে সরবরাহ করা হয়েছে। এদিকে উপজেলার চুকনগরের গোবিন্দকাটিতে পালং শাক চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন বর্গাচাষি সুরেশ্বর মল্লি¬ক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, উপজেলার মাগুরঘোনা, আটলিয়া, খর্ণিয়া, শোভনা, সাহস, ভান্ডারপাড়া, শরাফপুর, ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, রংপুর ও শাহাপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার দেড় শতাধিক গ্রামে এবার সীমের আবাদ হয়েছে। এবার অতিবৃষ্টিতে করল্লা, ঝিঙে, পটল, বেগুন গাছ মারা যাওয়ায় সবজির দাম বেড়ে হয় দ্বিগুণ। তবে গেল বছর চাষিরা সীমের ভালো দাম পাওয়ায় অতি বৃষ্টির মধ্যেই আগাম চাষ শুরু করে। ইতোমধ্যে প্রথম চালান ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শহরতলীর গুটুদিয়া ইউনিয়ন থেকে নগরীর বাজারগুলোতেও সীম আসতে শুরু করেছে। গজেনন্দপুর গ্রামে সীমের বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষকরা আশাবাদী। এদিকে চুকনগরের গোবিন্দকাটিতে পালং শাক চাষে অধিক লাভবান হয়েছেন বর্গাচাষি সুরেশ্বর মল্লি¬ক। সুরেশ্বর জানান, ৯ম শ্রেণীতে ওঠার পর অভাবের তাড়নায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার কথা ভেবে শুরু করেন কৃষি কাজ। কিন্তু পৈত্রিক সূত্রে কোন আবাদযোগ্য জমি না থাকায় জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ। বর্তমানে ১ বিঘা জমিতে পালং শাক চাষ করে অধিক লাভবান হয়েছেন। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, সে আরো ৪ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করেছে। তার ক্ষেতে বর্তমানে পালং শাক উঠছে ব্যাপক হারে। দামও বেশি হওয়ায় পয়সাও ভালো পাচ্ছেন। তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে চাষ করতে তার খরচ হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। এ পর্যন্ত মোট বিক্রি হয়েছে ২২ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্ল¬কের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের পরামর্শে তিনি এ সফলতা পেয়েছেন বলে জানান। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টির ক্ষতি পোষাতে চাষিরা আগাম সীমের আবাদ করেছেন। রোগবালাইয়ের পরিমাণ কম। এবারে চাষিরা শীতের সবজিতে কৃষকরা ভালো দাম পাবে বলে তিনি মনে করেন। মাগুরঘোনা, আটলিয়া ও খর্ণিয়া ইউনিয়নে সীমের আবাদি জমির পরিমাণ বেশি। গজেনন্দপুর গ্রামের চাষি অহেদুজ্জামান জানান, উঁচু জমিতে ভাদ্র মাসেই তারা সীমের আবাদ করেছেন। কার্তিক মাসে বাজারের সীম সরবরাহ করায় তারা ভালো দাম পাচ্ছেন। নগরীর জোড়াকল বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান, প্রতি কেজি সীম ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গেল শীত মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি সীমের দাম ছিল ৬০-৬৫ টাকা। সান্ধ্য বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সগীর হোসেন জানান, শীতের নতুন সবজির প্রতি ক্রেতার আগ্রহ বেশী। তিনি বলেন, নভেম্বরের প্রথম দিক নাগাদ বাজারে সীমের সরবরাহ বাড়বে।


Spread the love