বান্দরবানে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলক অরক্ষিত, আবর্জনায় ভরপুর

104
Spread the love

tfবান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবানে জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকটি অযত্ন অবহেলায় পড়ে রয়েছে। যত্ন না নেয়ায় স্মৃতি ফলকের স্থানটি আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, স্মৃতি ফলকটি এই স্থান থেকে সরিয়ে সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করতে হবে। বান্দরবান শহরের বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু স্মৃতি ফলক প্রাঙ্গনটি পুরোটাই অরক্ষিত এবং উন্মুক্ত। কোন ধরনের সীমানা দেয়াল নেই। স্মৃতি ফলকের বেদিতে স্থানীয় বাসিন্দারা কাপড় চোপড় শুকাচ্ছেন। আর পশ্চিমপাশে শ্রমজীবী মানুষ মিস্ত্রি কাজ করছেন। আরেক প্রান্তে রিক্সা এবং সিএনজি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। স্মৃতি ফলকের সামনে রয়েছে বিশাল গর্তে আবর্জনার স্তূপ। এসব আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক,আলমগীর, শাহ আলম ও কবির আহমদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকের চারপাশ উন্মুক্ত থাকায় লোকজন নানাভাবে স্মৃতি ফলকের স্থানটি ব্যবহার করছে। তাদের মতে, এ স্থানে স্মৃতি ফলক নির্মাণের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলনা। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এমএ মুনিম সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৮ সালে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পে সীমানা দেয়ালের অংশটির অনুমোদন পাওয়া যায়নি। এ জন্য স্মৃতি ফলকের সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এটি নির্মাণের পর পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে অযত্ন অবহেলায় স্মৃতি ফলকটি পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধারা। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার অনানারী ক্যাপ্টেন (অব.)আবুল কাশেম বলেন, প্রায় সাড়ে ১৯ শতক জমির ওপরে স্মৃতি ফলকটি নির্মাণের পর কোন কর্তৃপক্ষই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিচ্ছেনা। সীমানা দেয়াল না থাকায় উন্মুক্ত স্মৃতি ফলকে যার যখন ইচ্ছা ঢুকে পড়েন। স্মৃতি ফলকে নানা ধরনের সরঞ্জাম রাখছে এবং নানা কাজে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, স্মৃতি ফলকের স্থানে আরো অনেক জায়গা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। একারণে স্মৃতি ফলকটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে, সেখানে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের দাবি আমাদের। বান্দরবান পৌরসভার সচিব তৌহিদুল ইসলাম বলেন, স্মৃতি ফলকটি পৌরসভায় হলেও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তারপরও জাতীয় দিবসে পৌরসভার পক্ষ থেকে পরিষ্কর পরিচ্ছন্ন কাজ করা হয়। কিন্তু পরিচ্ছন্ন করার কিছুদিনের মধ্যে এলাকাবাসী স্মৃতি ফলকটি আবারো আবর্জনার স্তূপে পরিনত করে ফেলে।


Spread the love